মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের পরিস্থিতিতে অটোর গ্যাসে টান, সোদপুর থেকে সিঁথির মাঝে খোলা ১টি মাত্র ফিলিং স্টেশন
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের পরিস্থিতিতে চরম সমস্যার মধ্যে পড়েছেন সাধারণ অটো চালকেরা। দীর্ঘদিন ধরে এলপিজির কোন চাহিদা না থাকার ফলে উত্তর শহরতলীর ব্যারাকপুর থেকে শুরু করে সেই সিঁথির মোড় পর্যন্ত যে ক`টি গ্যাসের ফিলিং স্টেশন ছিল, তারমধ্যে একমাত্র চালু রয়েছে ডানলপ মোড় সংলগ্ন একটি ফিলিং স্টেশন।আর আচমকাই চাহিদা বেড়ে যাবার ফলে হিমশিম খাচ্ছেন ফিলিং স্টেশনের কর্মীরা, আর অটো চালকদের অভিযোগ, দীর্ঘ ৬-৭ ঘন্টা লাইন দেবার পর মিলছে গ্যাস। পাশাপাশি বুধবার ১১ই মার্চ,২০২৬ বেলা ১২টা থেকে আচমকাই গ্যাসের দাম বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে লিটার প্রতি ৫টাকা করে।
৭এ নিউজ ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের পরিস্থিতিতে ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার কারণে ভারতের রান্নার গ্যাসের জোগাণে ইতিমধ্যে টান পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিপাকে সাধারণ অটো চালকেরাও। দেশজুড়েই এখন অটোতে জ্বালানী হিসেবে ব্যাবহৃত হয় CNG। কলকাতা সংলগ্ন এলাকার জন্য একাধিক CNG ফিলিং সেন্টার থাকলেও, বাস্তবে অটো চালকেরা তুলনামূলক সস্তায় বেআইনী “কাটা গ্যাস”, যা গৃহস্থালীর কাজে ব্যবহারের জন্য সরকার ভর্তুকী যুক্ত দরে বিক্রী করে, সেই সিলিন্ডার থেকে চোরা পথে কিনে অটো চালাতো। এখন মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে গৃহস্থালীর কাজে ব্যবহারের জন্য গ্যাস সিলিন্ডারের দাম যেমন ৬০টাকা করে বৃদ্ধি পেয়েছে, পাশাপাশি সিলিন্ডার বুকিংয়ের নিয়মাবলীতেও আনা হয়েছে পরিবর্তন। এখন একটি সিলিন্ডার বুকিংয়ের ২৫দিন পর আর একটি সিলিন্ডার বুকিং করা যাবে বলে নির্দেশ দেশের পেট্রোলিয়াম দপ্তরের। ফলে কাটা গ্যাসের ব্যবসা এখন কার্যত বন্ধ। ফলে চরম সমস্যার মধ্যে পড়েছেন সাধারণ অটো চালকেরা। দীর্ঘদিন ধরে CNG’র কোন চাহিদা না থাকার ফলে উত্তর শহরতলীর ব্যারাকপুর থেকে শুরু করে সেই সিঁথির মোড় পর্যন্ত যে ক`টি গ্যাসের ফিলিং স্টেশন ছিল, তারমধ্যে একমাত্র চালু রয়েছে ডানলপ মোড় সংলগ্ন একটি ফিলিং স্টেশন।আর আচমকাই চাহিদা বেড়ে যাবার ফলে হিমশিম খাচ্ছেন ফিলিং স্টেশনের কর্মীরা, আর অটো চালকদের অভিযোগ, দীর্ঘ ৬-৭ ঘন্টা লাইন দেবার পর মিলছে গ্যাস। পাশাপাশি বুধবার ১১ই মার্চ,২০২৬ বেলা ১২টা থেকে আচমকাই গ্যাসের দাম বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে লিটার প্রতি ৫টাকা করে। আগে যে গ্যাসের দাম ছিলো ৫৭টাকা ৬৮পয়সা, ৫টাকা বেড়ে এ মুহূর্তে তার দাম হয়েছে ৬২টাকা ৬৮পয়সা।
সিঁথির মোড়ের এক অটো চালক বাবুন রায় জানালেন, ভোর ৫টা থেকে লাইনে আছেন, ১২টার মধ্যে গ্যাস পেলে আগের দামেই পেতেন, এখন দিতে হবে অতিরিক্ত ৫টাকা। অন্য দিকে সোদপুরের অমিতাভ সাঁতরার অভিযোগ, ৫টাকা দাম বেড়েছে, সেটা মানা যায়, কিন্তু ৬/৭ ঘন্টা লেগে যাচ্ছে গ্যাস পেতে, ফলে এই সময়টা তারা কোন ব্যবসা করতে পারছেন না, ক্ষতি কি ভাবে সামাল দেবেন সেটাই এখন চিন্তার কারণ। শ`য়ে শ`য়ে অটো লাইন দাঁড়িয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা, যার ফলে স্বাভাবিক ভাবেই তার আঁচ পড়েছে রাস্তাতেও। কমে গেছে অটোর সংখ্যা, যার ফলে তীব্র অসুবিধার মধ্যে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। কামারহাটীর সাগরদত্ত মেডিকেল কলেজের সামনে অটোর জন্য অপেক্ষমান আগরপাড়ার বাসিন্দা আলোক শ্রীমানী জানালেন, “রোগী নিয়ে বাসে যাতায়াত করাটা খুব অসুবিধার, এদিকে অটোও অমিল।” সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের পরিস্থিতি যে আমাদের দেশের ঘরে বাইরে একেবারে প্রত্যক্ষ প্রভাব ফেলছে, সেটা দেশের মন্ত্রীরা টের না পান, হাড়েহাড়ে টের পাচ্ছে “আম আদমী”।



