আগামী ১৪ মার্চ রাত ৮টার মধ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রথম দফায় টহলদারির কাজ শেষ করতে হবে,নির্দেশ নির্বাচন কমিশনের
রাজ্য জুড়ে শোনা যাচ্ছে ভারী বুটের শব্দ, কিন্তু মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার তার সাংবাদিক সম্মেলন থেকে যে "অবাধ ও রক্তপাতহীন" নির্বাচনের কথা বলেছেন, সেটা হতে গেলে শুধু কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতি নয়, দরকার ভোটার ময়দানে যুযুধান রাজনৈতিক দলগুলির সদিচ্ছাও।
বিশেষ সংবাদদাতাঃ কলকাতা : হয়নি তালিকা প্রকাশ, কিন্তু আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে আগামী ১৪ মার্চ রাত ৮টার মধ্যে রাজ্যের সবক’টি ভোটকেন্দ্রে কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রথম দফায় টহলদারির কাজ শেষ করতে হবে বলে মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে। কমিশন সূত্রের খবর এ বিষয়ে রাজ্য পুলিশের ডিজিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কমিশন সূত্রে আগেই জানিয়ে দেয়া হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গে ভোটের জন্য মোট ৪৮০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে। জওয়ান এবং কর্মী মিলিয়ে এক কোম্পানিতে ১০০ থেকে ১২০ জন করে সদস্য থাকে। অর্থাৎ, গোটা পশ্চিমবঙ্গের জন্য আনুমানিক ৫০ হাজার আধাসেনা মোতায়েন করা হচ্ছে। কোন জেলায় কত বাহিনী মোতায়েন থাকবে, তা-ও চূড়ান্ত। মার্চের শুরুতেই ২৪০ কোম্পানি (অর্থাৎ ২৮,৮০০ জন) বাহিনী রাজ্যে পৌঁছে গেছে।শুরুতে তারা এলাকা চেনার কাজ শুরু করেছে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সূত্রে জানা গেছে আসন্ন অষ্টাদশ বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিতে ভোটগ্রহণ করা হবে। এমুহুর্তে পশ্চিমবঙ্গে বুথের সংখ্যা সংখ্যা ৮০ হাজারের বেশি ( যদি বাড়তি ১৪ হাজার বুথ করা হয় তা হলে মোট বুথের সংখ্যা হবে ৯৪ হাজার)। ফলে ৪৮০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিতে ভোট করাতে হলে এক দফায় বিধানসভা ভোট করা কোনও ভাবেই সম্ভব নয় রাজ্যে। প্রাথমিক ভাবে কোন জেলায় কত কোম্পানি বাহিনী মোতায়েন করা হবে, তা জানা গেছে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর থেকে।
সেই হিসেবে উত্তর ২৪ পরগনার তিন পুলিশ জেলা এবং দুই কমিশনারেট মিলিয়ে মোট ৫৮ কোম্পানি। মুর্শিদাবাদেও ৫৮ কোম্পানি। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ৩৩ কোম্পানি এবং কলকাতায় ৩০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থাকবে।কমিশন পূর্ব মেদিনীপুরে ২৮ কোম্পানি, হুগলিতে ২৭ কোম্পানি, পূর্ব বর্ধমানে ২৫ কোম্পানি, নদিয়ায় ২২ কোম্পানি, হাওড়া এবং বীরভূমে ২১ কোম্পানি করে, পুরুলিয়া এবং পশ্চিম মেদিনীপুরে ২০ কোম্পানি করে বাহিনী মোতায়েন করছে। পাশাপাশি উত্তর দিনাজপুরে ১৯ কোম্পানি, মালদহে ১৮ কোম্পানি, পশ্চিম বর্ধমানে ১৭ কোম্পানি, দার্জিলিঙে ১৬ কোম্পানি, কোচবিহারে ১৫ কোম্পানি, বাঁকুড়ায় ১৩ কোম্পানি, ঝাড়গ্রামে ১১ কোম্পানি, দক্ষিণ দিনাজপুর এবং জলপাইগুড়িতে ১০ কোম্পানি করে বাহিনী মোতায়েন করা হবে। উত্তরের আর ২জেলা আলিপুরদুয়ারে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সংখ্যা হচ্ছে ৭ কোম্পানি এবং কালিম্পঙে ৪ কোম্পানি।
সব মিলিয়ে রাজ্য জুড়ে শোনা যাচ্ছে ভারী বুটের শব্দ, কিন্তু মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার তার সাংবাদিক সম্মেলন থেকে যে “অবাধ ও রক্তপাতহীন” নির্বাচনের কথা বলেছেন, সেটা হতে গেলে শুধু কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতি নয়, দরকার ভোটার ময়দানে যুযুধান রাজনৈতিক দলগুলির সদিচ্ছাও।



