নির্দেশিকা মতো মিলছে না গ্যাস ! উত্তেজনা বেলঘরিয়া গ্যাস অফিসে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসরে পুলিশ
গ্যাস বুক করার পর ২২ দিন পেরোলেও এখনো মেলেনি গ্যাস - এমনটাই অভিযোগ এক গ্রাহক রিয়া গুপ্তার। সেই সঙ্গে তিনি জানালেন গ্যাসের অভাবে এখন উনুনে রান্না করতে হচ্ছে তাকে ! অন্যদিকে একই অভিযোগে সরব রঞ্জিত কুমার দাস নামের এক প্রৌঢ়।
নিজস্ব সংবাদদাতা : পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ ( Iran- Israel War) পরিস্থিতি শুরু হতেই দেশজুড়ে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার (LPG Cylinder) নিয়ে শুরু হয়েছে উদ্বেগ। গ্যাস বুক করতে সরাসরি গ্যাস অফিসের বাইরে দীর্ঘ লাইন পড়ছে গ্রাহকদের।এবার নির্দেশিকা অনুযায়ী গ্যাস না পেয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন গ্রাহকরা। আর এই ঘটনা কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়ালো বেলঘরিয়া গ্যাস অফিসের সামনে। শেষমেশ পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বেলঘরিয়া থানার পুলিশ (Belghoria Police Station)।
উল্লেখ্য, অতি সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের তরফে রান্নার গ্যাস নিয়ে সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত হতে বারণ করা হয়। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আবহে গ্যাস নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে দেশজুড়ে। তাই অনেকেই আগেভাগে গ্যাস বুক করে বাড়িতে মজুত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। তবে এই ‘প্যানিক বুকিং’ র কোনো প্রয়োজন নেই বলেই জানিয়েছে কেন্দ্র। কারণ তাদের দাবি, দেশে প্রাকৃতিক গ্যাস (LPG) ও খনিজ তেলের সরবরাহ এখনো নিয়ন্ত্রনেই রয়েছে। সেই সঙ্গে গ্যাস বুক করলে সর্বোচ্চ আড়াই দিনের মধ্যেই তা গ্রাহকের বাড়িতে পৌঁছবে – এমনি আশ্বাস দেওয়া হয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের তরফে। তবে বাস্তব চিত্র বলছে অন্য কথা। গ্যাস বুক করার পর ২২ দিন পেরোলেও এখনো মেলেনি গ্যাস – এমনটাই অভিযোগ এক গ্রাহক রিয়া গুপ্তার। সেই সঙ্গে তিনি জানালেন গ্যাসের অভাবে এখন উনুনে রান্না করতে হচ্ছে তাকে ! অন্যদিকে একই অভিযোগে সরব রঞ্জিত কুমার দাস নামের এক প্রৌঢ়। তাঁর দাবি গ্যাস অফিসে নোটিশ টানানো হলেও সেই নির্দেশিকায় উল্লিখিত সময়সীমা মেনে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে না। সেই সঙ্গে গ্যাস নিয়ে হয়রানির কারণে কেন্দ্রীয় সরকারকে একহাত নিলেন তিনি।
নোটিশ অনুযায়ী মিলছে না এলপিজি সিলিন্ডার। আর তাই কবে পাওয়া যাবে গ্যাস সেই উত্তরের খোঁজে বেলঘরিয়া গ্যাস অফিসের বাইরে দীর্ঘ লাইন গ্রাহকদের। আর গ্যাস পেতে তীব্র হয়রানির শিকার হওয়ায় আচমকাই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন তারা। ক্রমেই উত্তপ্ত হতে থাকে পরিস্থিতি। অবশেষে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আসরে নামতে হয় বেলঘরিয়া থানার পুলিশকে। অন্যদিকে এক ডিস্ট্রিবিউটরের দাবি, কোনো সমস্যা নেই। অতি শীঘ্র গ্রাহকরা গ্যাস পেয়ে যাবেন।দেশ তো বটেই, রাজ্যের দিকে দিকে এলপিজি সিলিন্ডার পেতে তীব্র ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে গ্রাহকদের। বুকিং করতেও বাড়ছে বিভ্রান্তি। সবমিলিয়ে পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আবহের করবে দেশজুড়ে গ্যাস নিয়ে যে উদ্বেগ ও আতংকের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে তার শেষ কবে ? উত্তর লুকিয়ে সময়ের গর্ভে।



