বাংলা গানেই তৃণমূলকে বিঁধলেন মোদী, শেষ করলেন রবীন্দ্রনাথকে দিয়ে
‘বাংলার মা নিঃস্ব, মাটি লুণ্ঠিত, মানুষ চলে যাচ্ছে, এ বার কেউ তৃণমূলকে বাঁচাতে পারবে না’! ব্রিগেড থেকে বাংলার আত্মাকে বদলানোর ডাক প্রধানমন্ত্রীর
চন্দন সেনগুপ্ত,কলকাতা : প্রত্যাশা মতোই তাঁর ভাষণের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত রাজ্যে সরকার বদলের পক্ষে জোরালো সওয়াল করে গেলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ( Narendra Modi)। বাংলার শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি নিয়ে যে রীতিমতো চর্চা করেই তিনি মঞ্চে উঠেছিলেন, তার প্রমান মিললো ১ম বাক্যেই। ‘বিদায় ব্যোমকেশ’ ছবিতে ঈশান মিত্রের গাওয়া ‘বাড়ি ফিরে এসো সন্ধ্যে নামার আগে’ গানটি আদতে ছিল প্রিয় মানুষের বাড়ি ফিরে আসার আহ্বানে। কিন্তু এদিন প্রধানমন্ত্রী এই গানের কলি উচ্চারণে বাংলায় ঘটে যাওয়া আর জি করের (R.G.Kar) ঘটনা সহ নারী নির্যাতনের একাধিক ঘটনাকে মনে করিয়ে দিতে চাইলেন, যেটা বাংলার মধ্যবিত্ত মানুষের স্মৃতিতে এখনও উজ্জ্বল। আর প্রধানমন্ত্রী মনে করিয়ে দিলেন বাংলার মেয়েদের আজ বাড়ি থেকে বার হবার সময় বলে দিতে হয় ‘বাড়ি ফিরে এসো সন্ধ্যে নামার আগে’।
“মা-মাটি-মানুষ” এই স্লোগানকে সামনে রেখেই গত ১৪ বছর রাজ্য শাসন করেছে তৃণমূল কংগ্রেস (TMC), কিন্তু প্রধানমন্ত্রী সেই স্লোগানকে কটাক্ষ করে বলেন “বাংলার মা নিঃস্ব, মাটি লুণ্ঠিত আর মানুষ রাজ্য ছেড়ে চলে যাচ্ছে।”
রাজ্যের কর্মসংস্থান নিয়েও সরব হন তিনি, বলেন হাজার হাজার বেকার যুবক যুবতীদের পথে বসিয়ে তৃণমূলের মন্ত্রীরা দল বেঁধে চাকরি চুরি করেছে আর রাজ্যে কার্যত দুষ্কৃতীদের শাসন চলছে। যে বদলের আহ্বান বিজেপি দিয়েছে, সেই বদলের পর “চোর দুষ্কৃতীদের জায়গা হবে জেলে, কারন ওটাই ওদের সঠিক জায়গা”।
প্রধানমন্ত্রীর ব্রিগেড সভায় ভীড় হয়েছিল যথেষ্টই, আর সেই উপচে পড়া মানুষকে উদ্দেশ্য করে আত্মবিশ্বাসে ভরপুর মোদীর বার্তা ‘‘কেউ কেউ ভয় দেখানোর চেষ্টা করবেন, কেউ কেউ বলবেন বদল সম্ভব নয়। কিন্তু মনে রাখুন মানুষ যখন ঠিক করে নেন, তখন ঠেকানোর কেউ থাকে না। বাংলার মানুষ যখনই ঠিক করে নেন, তখন ইতিহাস বদলে যায়। আজ ব্রিগেড দেখে সেই আত্মবিশ্বাস পাচ্ছি, এ বারের ভোট সরকার বদলের নয়, বাংলার আত্মাকে বাঁচানোর। ব্যবস্থা বদলের নির্বাচন, কাটমানি থেকে, ভয় থেকে মুক্তির নির্বাচন।”
দীর্ঘ বক্তৃতায় তিনি রাজ্যে রাষ্ট্রপতির সফর ঘিরে ঘটে যাওয়া ঘটনার কথাও উল্লেখ করে বলেন ‘‘ওঁরা শুধু রাষ্ট্রপতিকে অপমান করেননি। ওঁরা আদিবাসীদের অপমান করেছেন। কোটি কোটি মহিলাকে অপমান করেছেন। দেশের সর্বোচ্চ পদের গরিমাকে খাটো করেছেন,সাংবিধানিক ব্যবস্থার উপর প্রতি দিন হামলা করার রাস্তা খোঁজেন ওঁরা। সুষ্ঠু নির্বাচনী প্রক্রিয়ার কথা বললেই হামলা হয়।”
আর নরেন্দ্র মোদী বক্তব্যের শেষে ফিরে যান রবীন্দ্রনাথের ( Rabindranath Tagore)আশ্রয়ে, বলেন “বিপদে আমি না যেন করি ভয়”। বাংলার মানুষকে আগাম শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি এই বদলের সংকল্প রাজ্যের প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দেবার কথা বলে জানান “তাহলেই পশ্চিমবঙ্গের ( West Bengal) মানুষের এই মুক্তির নির্বাচনে জয় হবে।”



