গ্যাসের আকালের মাঝে ভোগ বিতরণ জারি রাখতে ‘নানা মন্দিরের নানা ব্যবস্থা’
আদ্যাপীঠ থেকে দীঘার জগন্নাথ মন্দির- গ্যাস সংকটের মাঝে ভক্তদেরকে ভোগ খাওয়াতে ভিন্ন পথে হাঁটছেন মন্দির কর্তৃপক্ষরা। অতি দ্রুত পরিস্থিতি কেটে যাওয়ার প্রার্থনা করলেন তাঁরা।
নিজস্ব সংবাদদাতা :পশ্চিম এশিয়ায় ( Iran- Israel Conflict) যুদ্ধের আঁচ পড়েছে এদেশেও। বলা ভালো এ রাজ্যেও। রান্নার গ্যাস নিয়ে দিনকেদিন বাড়ছে গ্রাহকদের ভোগান্তি। আর তাই গ্যাসের অভাবে ইতিমধ্যেই রাজ্যের স্কুলে স্কুলে মিডডেমিল পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছে। নানা বিধ খাবারের দোকানও সাধারণের রসনাতৃপ্তিতে যাতে ছেদ না পড়ে সেই জন্য যথাসম্ভব চেষ্টা করছে। অন্যদিকে গ্যাসের আকালের আঁচ এসেছে বিভিন্ন মন্দিরেও। একাধিক মন্দিরে ভোগ বিতরণ ব্যবস্থা বন্ধের আশংকাও তৈরী হয়েছে। তবে এরই মাঝে বিকল্প পথে হাঁটলো আদ্যাপীঠ মন্দির(Adyapith Kali Temple)। আড়িয়াদহের এই সুপ্রাচীন মন্দিরে নিত্যদিন বহু আবাসিক থেকে শুরু করে প্রচুর ভক্ত ও দুস্থরা ভোগ পেয়ে থাকেন। আর তাই এলপিজি সিলিন্ডারের (LPG Cylinder) নিয়ে যখন জনমানসে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে তখন ডিজেল উনুনে রান্না করে ভোগের আয়োজন জারি রেখেছে আদ্যাপীঠ মন্দির কর্তৃপক্ষ। দক্ষিনেশ্বর রামকৃষ্ণ সংঘ আদ্যাপীঠের সাধারণ সম্পাদক ব্রহ্মচারী মুরাল ভাই জানালেন গ্যাসের সমস্যার মাঝে প্রতিদিন ভোগের বিশাল আয়োজন করতে গিয়ে অসুবিধা হচ্ছে। তবে দীর্ঘদিনের রীতি চালু রাখতে আপাতত ডিজেল উনুনেই ভরসা রাখতে হচ্ছে তাদের। তবে এই বিকল্পকে হাতিয়ার করে কতদিন সেখানে ভোগ বিতরণ ব্যবস্থা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয় তা নিয়ে থাকছে প্রশ্ন। চিন্তার ভাঁজ মন্দির কর্তৃপক্ষের কপালেও।
অন্যদিকে যুদ্ধের আবহে গ্যাস নিয়ে দিকে দিকে ভোগান্তি শুরু হতেই দীঘার জগন্নাথ মন্দিরে ব্যাহত প্রসাদ বিতরণ ব্যবস্থা। মন্দির কর্তৃপক্ষ সূত্রে খবর, আগে নিত্যদিন আনুমানিক তিন হাজার জনের জন্য ভোগ রান্না হতো। তবে এলপিজি সিলিন্ডারের আকাল শুরু হতেই সেই সংখ্যাটা দাঁড়িয়েছে সাড়ে সাতশোতে। যদিও ঈশ্বরের জন্য যে মূল ভোগ প্রস্তুত হতো তাতে কোনো ঘাটতি থাকবে না বলেই জানালেন দীঘার জগন্নাথ মন্দিরের বোর্ড অফ ট্রাস্টির এক সদস্য তথা ইসকনের কলকাতা শাখার ভাইস প্রেসিডেন্ট রাধারমণ দাস। তবে ভক্তদের জন্য রান্না করার ভোগের পরিমাণ কমিয়ে আনা হয়েছে।
একদিকে কেন্দ্রীয় সরকারের ( Central Government) দাবি, দেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের জোগান নিয়ন্ত্রনেই রয়েছে। গ্যাস বুক করলে সর্বোচ্চ আড়াই দিনের মধ্যে তা গ্রাহকদের বাড়িতে পৌঁছবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তবে বাণিজ্যিক গ্যাসের ক্ষেত্রে টানা হয়েছে রাশ। কোন ক্ষেত্রে কতটা পরিমাণ গ্যাস সরবরাহ করা হবে তাও নির্ধারণ করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। সবমিলিয়ে যুদ্ধের আবহে গ্যাস নিয়ে সাধারণের ভোগান্তি আর উৎকণ্ঠার দিন কবে শেষ হবে ? উত্তর লুকিয়ে সময়ের গর্ভে।



