প্রার্থী তালিকায় কেউ থাকলেন আবার বাদ গেলেন কেউ , বৈচিত্র্যের অঙ্কে কি ভোট বৈতরণী পেরোবে তৃণমূল ?
তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় বৈচিত্র্যের শেষ নেই।রাজ্যের শাসক শিবির সর্বদাই কোনো এক বিশেষ শ্রেণী নয়, বরং নানান শ্রেণীর মানুষের মন জিততে মরিয়া থাকে।এবার প্রার্থী তালিকাতেও সেই বৈচিত্র্যের বাতাবরণ। আর সেই বাতাবরণকে পুঁজি করে ভোট বৈতরণী পার হয় কিনা তৃণমূল তার উত্তর দেবেন জনতাই।
আদৃতা মজুমদার : ২০২১ থেকে ২০২৬। দীর্ঘ ৫ বছরে নানান কেলেঙ্কারি থেকে দুর্নীতিতে নাম জড়িয়েছে তৃণমূলের(TMC)। এবার আবারো আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন। আর রাজ্যের শাসক দলের প্রার্থী তালিকা নিয়ে সাধারণ তথা অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলির আগ্রহও থাকে তুঙ্গে। আর আজ প্রকাশিত হলো সেই প্রতীক্ষিত প্রার্থী তালিকা। কেউ থাকলেন আবার কাউকে বাদ দেওয়া হলো। কেউ আবার এসেই নেমে পড়লেন ভোট যুদ্ধে। আবার কেউ আগে এসেও হলেন না প্রার্থী। সবমিলিয়ে তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় বৈচিত্র্যের ঘনঘটা। সেই সঙ্গে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, সমাজের নানান স্তরের মানুষকে এবার প্রার্থী করেছেন তারা। খেলোয়াড় থেকে সাংবাদিক, অভিনেতা থেকে সমাজসেবী – সকলেই রয়েছেন সেই তালিকায়।
উল্লেখ্যযোগ্যভাবে এবারের বিধানসভা নির্বাচনে টলিউড থেকে কোনো নতুন মুখকে প্রার্থী করেননি মমতা(Mamata Banerjee)। এমনকি যে প্রতিকূর রহমানকে নিয়ে কিছুদিন আগে শোরগোল পড়েছিল রাজ্য রাজনীতিতে তাঁকেও ভোটের ময়দানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে দেখা যাবে না। সেই সঙ্গে শিবপুরের বিদায়ী বিধায়ক মনোজ তিওয়ারি, জোড়াসাঁকোর সিটিং বিধায়ক বিবেক গুপ্তর মতো ৭৪ জন বর্তমান বিধায়ককে এবার আর টিকিট দেয়নি ঘাসফুল শিবির। আর এই এত ‘না’ এর মাঝে ‘হ্যাঁ’ এর সংখ্যাও নেহাত কম নয়। বর্তমান বিধায়কদের মধ্যে ১৩৫ জনকে ফের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে। আর সেই ১৩৫ জনের মধ্যে ১৫ জন বিধায়কের নির্বাচনী কেন্দ্র বদল করা হয়েছে দলের তরফে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য রত্না চট্টোপাধ্যায়, শওকত মোল্লা এবং শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। বেহালা পূর্ব থেকে রত্নাকে পাঠানো হয়েছে বেহালা পশ্চিমে। প্রসঙ্গত এই কেন্দ্রেরই বিধায়ক ছিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায় (Partha Chatterjee)। শিক্ষা- দুর্নীতিতে গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘদিন জেলবন্দি থাকার পর যিনি কয়েক মাস আগে মুক্তি পেয়েছেন। এমনকি বেহালা পশ্চিমে তিনি আবার জনসংযোগেও বেরিয়েছিলেন। তবে তাঁর ভাগ্যে শিকে ছিঁড়লো না। মিললো না টিকিট। কিন্তু রেশন-দুর্নীতিতে নাম জড়িয়ে তাঁর সতীর্থ হয়েছিলেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। জেলযাত্রা হয়েছিল তাঁরও। তবে এখন তিনিও মুক্তি পেয়েছেন। আর তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় দেখা গেলো নিজের নির্বাচনী কেন্দ্র অর্থাৎ হাবড়া থেকেই আবার ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বালু ওরফে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। তৃণমূলের অত্যন্ত বিতর্কিত নেতা শওকত মোল্লা এবার প্রার্থী হচ্ছেন ভাঙড় থেকে। আর খড়দহ থেকে শোভনদেবকে তুলে এনে বালিগঞ্জের প্রার্থী করা হয়েছে তাঁকে।
এবার যদি প্রার্থী তালিকার নতুন মুখদের প্রসঙ্গে আসা যায় তবে প্রথমেই বলতে হয় পবিত্র করের কথা। তৃণমূল দলে আক্ষরিক অর্থেই তিনি নতুন। তবে রাজনীতিতে নন। শুভেন্দু অধিকারী ঘনিষ্ঠ হিসেবেই পূর্ব মেদিনীপুরে পরিচিত পবিত্র। আজ সকালে তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা ঘোষিত হবার কয়েক ঘন্টা তিনি যোগ দেবেন ঘাসফুলে। আর তাঁর ফুলবদলকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ। কারণ নন্দীগ্রামে তাঁকেই প্রার্থী করেছে তৃণমূল। অন্যদিকে, চুঁচুড়ায় দেবাংশু ভট্টাচার্য, উলুবেড়িয়া পূর্বে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, খড়দহে দেবদীপ পুরোহিত, বেলেঘাটায় কুণাল ঘোষ এবং নোয়াপাড়ায় তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্যর মতো মুখকে এবার প্রার্থী তালিকায় স্থান দেওয়া হয়েছে।
আর প্রত্যাশিতভাবেই ফের ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, শ্যামপুকুর ড: শশী পাঁজা, কামারহাটীতে মদন মিত্র, বিধাননগরে সুজিত বসু (Sujit Bose), টালিগঞ্জে অরূপ বিশ্বাসরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। আর স্বাভাবিকভাবেই একাধিক সংখ্যালঘু নেতৃত্বকেও রাখা হয়েছে রাজ্যের শাসক দলের প্রার্থী তালিকায়। এদিন কালীঘাট থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে প্রার্থীদের নাম ঘোষণার সময় স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই বলেন সমাজের নানান স্তর থেকে তাদের দলের প্রার্থী রয়েছেন। সেই সঙ্গে নতুনদের যে জায়গা দেওয়া হয়েছে সেকথাও জানিয়েছেন তিনি। আর তাঁর প্রতিফলন দেখা গিয়েছে উত্তরপাড়া এবং পানিহাটীতে (Panihati)। প্রথম কেন্দ্রে প্রার্থী হয়েছেন সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছেলে শীর্ষান্ন বন্দ্যোপাধ্যায় এবং পানিহাটীতে টিকিট দেওয়া হয়েছে সেখানকার বিদায়ী বিধায়ক নির্মল ঘোষের ছোট ছেলে তীর্থঙ্কর ঘোষকে।
সবমিলিয়ে তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় বৈচিত্র্যের শেষ নেই। যেমন রয়েছে পেশার ভিন্নতা তেমনি রয়েছে বয়সের বিভিন্নতা। রাজ্যের শাসক শিবির সর্বদাই কোনো এক বিশেষ শ্রেণী নয়, বরং নানান শ্রেণীর মানুষের মন জিততে মরিয়া থাকে। তাঁরা ইফতারেও অংশ নেয় আবার দুর্গাপুজোতেও শামিল হয়। তারা মহিলা ভোটব্যাঙ্ক মজবুত করতে যেমন ভাতাও বৃদ্ধি করে তেমন যুবসাথীর (Yubasathi) মতো প্রকল্পের মাধ্যমে পুরুষদেরও অখুশি রাখেনা তারা। এবার প্রার্থী তালিকাতেও সেই বৈচিত্র্যের বাতাবরণ। আর সেই বাতাবরণকে পুঁজি করে ভোট বৈতরণী পার হয় কিনা তৃণমূল তার উত্তর দেবেন জনতাই।



