সম্পাদকীয়

২০২৬-এ লক্ষ্যে পৌছতে বিজেপির “পরিবর্তন রথযাত্রা”, মার্চেই ব্রিগেডে আসছেন মোদী ?

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে (West Bengal Elections 2026) সামনে রেখে ইতিমধ্যেই প্রচারের ঝড় তুলেছে রাজ্য বিজেপি (State BJP)। ‘পরিবর্তন যাত্রা’কে হাতিয়ার করে রাজ্যজুড়ে জনসংযোগ বাড়ানোর কাজ শুরু করে দিয়েছে গেরুয়া শিবির।

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে (West Bengal Elections 2026) সামনে রেখে ইতিমধ্যেই প্রচারের ঝড় তুলেছে রাজ্য বিজেপি (State BJP)। ‘পরিবর্তন যাত্রা’কে হাতিয়ার করে রাজ্যজুড়ে জনসংযোগ বাড়ানোর কাজ শুরু করে দিয়েছে গেরুয়া শিবির। স্বয়ং নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) বাংলায় ঘুরে গিয়েছেন একাধিক বার। এবার সেই প্রচারকে আরও সুসংহত করতে চলেছে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। মঙ্গলবার সল্টলেকের একটি বেসরকারি হোটেলে প্রস্তুতি বৈঠকে সেই রূপরেখা চূড়ান্ত হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya), কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব (Bhupender Yadav), বিজেপির সংগঠন পর্যবেক্ষক সুনীল বনসাল (Sunil Bansal) এবং ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব (Biplab Deb)-সহ একাধিক শীর্ষ নেতা। আলোচনা হয়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সাংগঠনিক শক্তিবৃদ্ধি এবং নির্বাচনী ইস্তাহারের (Election Manifesto ) প্রস্তুতি – এই সব বিষয়েই। পরিকল্পনায় রয়েছে রাজ্য জুড়ে এবার শুরু করা হবে “পরিবর্তন রথ”।
বিজেপি সূত্রে জানা যাচ্ছে ,দশটি পৃথক ‘পরিবর্তন রথ’ শিলিগুড়ি, মালদহ, কলকাতা মহানগর, উত্তর ২৪ পরগনা, নবদ্বীপ, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া-হুগলি, মেদিনীপুর, পুরুলিয়া ও বর্ধমান থেকে বেরোবে । এই রথগুলি দোলযাত্রার পর থেকেই – রাঢ়বঙ্গ, উত্তরবঙ্গ, নবদ্বীপ, কলকাতা ও হাওড়া-হুগলি-মেদিনীপুর অঞ্চল জুড়ে প্রচার চালাবে।
আরও বড় খবর হলো মার্চের মাঝামাঝি কলকাতার ব্রিগেডে (Brigade Parade Ground) একটি বড় সমাবেশের পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যে সভায় উপস্থিত থাকার প্রবল সম্ভাবনা। ওই সভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) উপস্থিত থাকতে পারেন বলে জল্পনা। পরিকল্পনা করা হচ্ছে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যাত্রা করা রথগুলি শেষ পর্যন্ত ব্রিগেডেই এসে মিলিত হবে। সভার তারিখ হিসেবে ১৫ মার্চ (15th March 2026) ভাবা হলেও তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। – এস এই আর (SIR) আবহে এক প্রকার শক্তিপ্রদর্শন হিসেবেই দেখা হচ্ছে এই কর্মসূচিকে।
শুধু প্রচার নয়, গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে নির্বাচনী ইস্তেহার (Election Manifesto) তৈরির প্রক্রিয়াতেও। সাধারণ মানুষের অগ্রাধিকার এবং স্থানীয় সমস্যাগুলিকে ইস্তাহারে অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি একাধিক পর্যায়ে মতামত গ্রহণ প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গিয়েছে। সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো প্রার্থী বাছাইয়ের (Candidate collection) ক্ষেত্রে স্থানীয় নেতৃত্বের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া। যেটা দেশের দক্ষিণপন্থী দলগুলির ক্ষেত্রে একেবারেই অভিনব।
বিশ্লেষকদের মতে, বুথ স্তরের (Booth level) সংগঠনকে গুরুত্ব দিয়ে সাধারণ কর্মীদের মনোবল বাড়িয়ে ২০২৬-এর লড়াইকে দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতির পথে নিয়ে যেতে চাইছে বিজেপি। রথযাত্রা, ব্রিগেড সমাবেশ (Bridge meeting) এবং ইস্তেহার (Election Manifesto ) – এই তিন কর্মসূচীকে সামনে রেখে রাজ্যে নিজেদের প্রধান শক্তি হিসেবে তুলে ধরাই গেরুয়া শিবিরের শীর্ষ নেতৃত্বের একমাত্র লক্ষ্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *