“এখানে নাস্তিকতা,ধর্ম নিরপেক্ষতা চলবে না। দেশের নাম হিন্দুস্থান, এখানে হিন্দুরাই রাজত্ব করবে” শুভেন্দুর দাবী কি অসাংবিধানিক ?
আমাদের সংবিধানে ধর্ম নিরপেক্ষ (Secular) "শব্দ" টি ব্যবহার হলেও তার তাৎপর্য "simply pluralism" বা "বহুত্ববাদ",যা আদৌ ধর্মনিরপেক্ষতা নয়। ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধান, কখনও ধর্মাচরনের "constitutional right guaranteed" করে না (সংবিধানের ২৫-২৮ অনুচ্ছেদ দ্বারা নিশ্চিত ভারতে ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার)। সেই সিদ্ধান্তই তো "ধর্ম স্বাপেক্ষ"।
চন্দন সেনগুপ্ত : কলকাতা : গতকাল বোধহয় রাজ্যের বিরোধী দলনেতার মুখ দিয়ে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির মূল ইস্তেহারটা প্রকাশ হয়ে গেলো। কারণ বিজেপি যে মহাসংঘের রাজনৈতিক মুখ, সেই RSS এর আজন্ম লালিত বাসনা “হিন্দী – হিন্দু – হিন্দুস্থান” (HINDI_HINDU_HINDUSTAN)। সেটাই এদিন ভবানীপুরে একটি ধর্মীয় সভায় যোগ দিয়ে ঘোষণা করে দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তার মন্তব্য “এখানে নাস্তিকতা,ধর্ম নিরপেক্ষতা চলবে না। দেশের নাম হিন্দুস্থান, এখানে হিন্দুরাই রাজত্ব করবে”। প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য, যেখানে দাঁড়িয়ে শুভেন্দুবাবু এ মন্তব্য করছেন, সেটা ভবানীপুর বিধানসভার মধ্যে পড়ে। আর আগের দিনই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছেন “SIR” পর্বে যত খুশী নাম বাদ দিক নির্বাচন কমিশন (Election Commission), জিতবেন তিনিই”। আর মমতার (Mamata Bnerjee) এই ঘোষণার অব্যহতি পরেই শুভেন্দুর (Subhendu Adhikari) হুঙ্কারকে নিছক রাজনৈতিক মন্তব্য বলে ভাবতে নারাজ সংবিধান বিশেষজ্ঞরা। যদিও বিরোধী দলনেতার ঐ মন্তব্যের বিরুদ্ধে বালিগঞ্জ সহ রাজ্যের একাধিক থানায় FIR দায়ের করেছে সিপিআইএম। কিন্তু সেই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ বা আদালত কোনও “cognizable charge frame” করতে পারবে না এটা জানা থাকা উচিৎ।
আমাদের সংবিধানে ধর্ম নিরপেক্ষ (Secular) “শব্দ” টি ব্যবহার হলেও তার তাৎপর্য “simply pluralism” বা “বহুত্ববাদ”,যা আদৌ ধর্মনিরপেক্ষতা নয়। ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধান, কখনও ধর্মাচরনের “constitutional right guaranteed” করে না (সংবিধানের ২৫-২৮ অনুচ্ছেদ দ্বারা নিশ্চিত ভারতে ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার)। সেই সিদ্ধান্তই তো “ধর্ম স্বাপেক্ষ”। ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধান ধর্মাচরনের অধিকার হিসেবেই বড়জোর স্বীকৃতি দিতে পারে। তাহলে সেটা থাকে আমাদের “নীতি নির্ধারক তত্ত্ব বা Directive Principles অন্তর্ভুক্ত। যেখানে, ধর্ম, ধর্মাচরন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অধিকার মৌলিক অধিকার, কিন্তু আমরা আশ্চর্য হয়ে খেয়াল করি দেশের সাধারণ মানুষের ন্যূনতম জীবন ধারনের আয় বা কর্মসংস্থান যেখানে মৌলিক অধিকার নয় (The fundamental rights of citizens), সেই রাষ্ট্রের রাজনৈতিক চরিত্র ধর্মীয় সহিষ্ণুতা আর বহুত্ত্ববাদের, তাই বলে কার্যকর অর্থে তা ধর্মনিরপেক্ষতার নয়।
তাই আমাদের দেশে কিন্তু `নাস্তিকতা’ও বৈধ, আবার “নাস্তিকতা নস্যাৎ” করাটাও অবৈধ নয় ! সে ক্ষেত্রে শুভেন্দু অধিকারী সচেতন ভাবে ভাবগত নাস্তিকতাকে আক্রমণ করেছেন কোনও নির্দিষ্ট নাস্তিক ব্যক্তির নাস্তিকতা উদযাপনের অধিকারকে নির্দিষ্ট ভাবে আক্রমণ করেননি। তাকে জোর করে ধর্মাচরনে বাধ্য করার ঘোষনাও করেননি। আমাদের সাংবিধানিক ক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে এইরকম অবস্থান, অ-বাঞ্ছনীয়, কিন্তু “অবৈধ নয়”। তাই সিপিআইএমের (CPIM) শুধু FIR করে বিষয়টিকে লঘু করে দেখলে চলবে না, সংবিধানের এই দিকটি সমাজের সর্বস্তরে ব্যাপক আলোচনার মধ্যে নিয়ে আসা আজ অতি প্রয়োজনীয় একটি রাজনৈতিক কাজ। আর সেটা বিশ্বাসযোগ্য (Credible) করে তুলতে পড়লেই এই ধরনের মন্তব্য মানুষের কাছে আপত্তিকর (Undesirable) মনে হবে, মানুষই প্রতিবাদ করবে, পরিস্থিতির এখন এটাই দাবী।



