পশ্চিমবঙ্গ থেকে তামিলনাড়ু,বাড়লো মহিলাদের ভাতা,”সবার উপরে মহিলা ভোটার, তাহার উপরে নাই”
মহারাষ্ট্রের লাডকি বহিন যোজনা,ওড়িশার সুভদ্রা যোজনা, দিল্লির মহিলা সমৃদ্ধি কিংবা পশ্চিমবঙ্গের লক্ষ্মীর ভান্ডার যে নিতান্তই কয়েকটি প্রকল্পের নাম নয়, বরং রাজ্যের মহিলাদের মন জয় করার এক একটি কৌশলও তা বলাই বাহুল্য। এবার সেই তালিকায় নাম লেখালো তামিলনাড়ু সরকারও। আচমকাই সেখানে রাজ্যের মহিলাদের অ্যাকাউন্টে ৫০০০ টাকা ঢুকেছে।সেই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গে সাধারণ শ্রেণীর মহিলারা মাসিক ১০০০ টাকা করে এবং সংরক্ষিত শ্রেণীর মহিলারা মাসিক ১২০০ টাকা করে পেতেন।
ভোট (Vote) বড় বালাই। আর ভোট বৈতরণী পার হতে গেলে নানান ধরণের কৌশলই যে অবলম্বন করতে হয় রাজনৈতিক দলগুলিকে তা বলাই বাহুল্য। তবে বেশ কয়েকটি রাজ্যের ভোটের ময়দানের দিকে নজর দিলে দেখা যাবে এখনকার রাজনীতিতে বোধহয় মহিলা ভোটব্যাংকের গুরুত্ব কার্যত সর্বাপেক্ষা বেশি। ” সবার ওপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই” – এই আপ্ত বাক্য আমাদের সকলেরই জানা। তবে রাজনীতির অলিন্দের কৌশল বলছে – ” সবার ওপরে মহিলা ভোটার, তাহার উপরে নাই। ” দেশের একাধিক রাজ্যে ভোটের আগে মহিলাদের খুশি করতে আসরে নামে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল।
মহারাষ্ট্রের (Maharastra) লাডকি বহিন যোজনা,ওড়িশার (Odisha) সুভদ্রা যোজনা, দিল্লির (Delhi) মহিলা সমৃদ্ধি কিংবা পশ্চিমবঙ্গের (West Bengal) লক্ষ্মীর ভান্ডার যে নিতান্তই কয়েকটি প্রকল্পের নাম নয়, বরং রাজ্যের মহিলাদের মন জয় করার এক একটি কৌশলও তা বলাই বাহুল্য। এবার সেই তালিকায় নাম লেখালো তামিলনাড়ু (Tamilnadu) সরকারও। আচমকাই সেখানে রাজ্যের মহিলাদের অ্যাকাউন্টে ৫০০০ টাকা ঢুকেছে। কোনোরকম আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়াই হঠাৎই মহিলাদের লক্ষ্মীলাভ ঘটাতেই শাসক দলকে কটাক্ষও করেছে সেরাজ্যের বিরোধী শিবিরগুলি। ২০২৪’র বিধানসভা ভোটের আগেই তৎকালীন মহাযুতি সরকার (বিজেপি (BJP), শিবসেনা (Shivsena) এবং এনসিপির (NCP) জোট) মহারাষ্ট্রে চালু করে মুখ্যমন্ত্রী মাঝি লাডকি বহিন যোজনা। সেই প্রকল্প অনুযায়ী ২১ থেকে ৬৫ বছর বয়সী মহিলাদের মাসিক ১৫০০ টাকা করে ভাতা দেওয়া হয়। তবে সেই ভাতার সুবিধা পেতে হলে আবেদনকারীদের পারিবারিক আয় আড়াই লক্ষ টাকার কম হতে হবে। ভোটের আগে সেই কৌশল যে মহাযুতি সরকারকে ভোট বৈতরণী পার করতে ভালোই সাহায্য করেছে – এমনটাই মত রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের। অন্যদিকে বিজেপি (BJP) শাসিত ওড়িশাতে ভোটে জিতে আসার পর সেরাজ্যের মহিলাদের জন্য বার্ষিক ১০,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা চালু করে মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝির সরকার। বছরে মূলত দুটি কিস্তিতে উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে ঢোকে সেই টাকা। মহিলাদের মন জয়ের এই চেষ্টা কিন্তু দিল্লিতেও জনপ্রিয়। আগের বছরই ভোটের মুখে ‘মহিলা সমৃদ্ধি যোজনা’র কথা ঘোষণা করে আম আদমি পা (AAP) র্টি। যদিও শেষ হাসি হেসেছিলো পদ্ম শিবিরই। তবে মহিলা ভোটব্যাংকে কুক্ষিগত করতে আপ পার্টির এই কৌশল কিন্তু আপনি আপনার রাজ্যেও দেখতে পান। যদিও পশ্চিমবঙ্গে এই মহিলা ভাতার সূচনা ২০২১ সালে। সেই সময় সাধারণ শ্রেণীর মহিলারা মাসিক ১০০০ টাকা করে এবং সংরক্ষিত শ্রেণীর মহিলারা মাসিক ১২০০ টাকা করে পেতেন। তবে চলতি বছরে এ রাজ্যে রয়েছে বিধানসভা ভোট। তার আগে লক্ষ্মীর ভান্ডারের মাসিক অনুদান যে বাড়ানো হতে পারে সেই সম্ভাবনা ছিলই। আর সেই আভাসকে সত্যি করে অন্তর্বর্তী বাজেটে লক্ষ্মীর ভান্ডারের অনুদান বৃদ্ধির কথা ঘোষণা করা হয়েছে রাজ্য সরকারের তরফে। আর এবার ভোটের আগে রাজ্যের মহিলাদের ‘গ্রীষ্মকালীন বিশেষ প্যাকেজ’ উপহার দিয়েছে তামিলনাড়ুর স্ট্যালিন সরকার।আর সেই প্যাকেজ বাবদ ২০০০ টাকা করে পেয়েছেন উপভোক্তারা।সেই সঙ্গে মার্চ এবং এপ্রিল মাসের ভাতাও অগ্রিম দিয়ে দেওয়া হয়েছে তাদের। সবমিলিয়ে চলতি মাসেই আচমকা ৫০০০ টাকা প্রাপ্তি হয়েছে তামিলনাড়ুর লক্ষ্মীর ভান্ডারের উপভোক্তাদের। সেরাজ্যের লক্ষ্মীর ভান্ডারের নাম ‘কলাইনার মাগালির উরিমাই থিট্টাম।’
আপাতত দেশের ১২ টি রাজ্যে মহিলাদের মাসিক আর্থিক সহায়তা প্রদানের জন্য প্রকল্প চালু রয়েছে। আর প্রতি ক্ষেত্রেই তীব্র জনপ্রিয়তা পেয়েছে সেই সকল যোজনা। অন্যান্য রাজ্যের সমীকরণ আলাদা। শাসক দলগুলির কুর্সি টিকিয়ে রাখার কৌশলও নানাবিধ হয়। তবে মহিলাদের মন জয় করতে তাদের হাতে নগদ অর্থ পৌঁছে দেওয়ার দস্তুর যে মহিলা ভোটব্যাঙ্ককে চাঙ্গা করতে সিদ্ধহস্ত তা বলাই বাহুল্য। ২০২৫ সালের ভোটার তালিকা অনুযায়ী, এ রাজ্যের মহিলা ভোটারের সংখ্যা ৩ কোটি ৮৮ লক্ষ। আর মোট ভোটারের সংখ্যা ৭ কোটি ৬৩ লক্ষের বেশি। সুতরাং সংখ্যাই বলছে, পশ্চিমবঙ্গে (West Bengal) মোট ভোটারের প্রায় অর্ধেকই মহিলা। আর তাই তাদের তুষ্ট রাখা বড়োই প্রয়োজনীয়। মহিলামুখী প্রকল্প এ রাজ্যে নতুন নয়। কন্যাশ্রী থেকে রূপশ্রী সবকিছুই রয়েছে সেই তালিকায়। রাজনীতির পরিভাষায় এই নগদ অর্থের জোগান দেওয়ার কৌশল খয়রাতির রাজনীতি হিসেবেই পরিচিত। তবে রাজ্যভেদে সেই রাজনীতির প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও দিন শেষে একটাই আপ্ত বাকি ভেসে বেড়ায় রাজনীতির অন্দরে – ” সবার উপরে মহিলা ভোটার, তাহার উপরে নাই।” ভোটবাক্সে সেই বাক্যের সত্যতা আবারো প্রমাণিত হয় কিনা তার উত্তর দেবে সময়ই।
ফলো করুন আমাদের হোয়াটস্যাপ চ্যানেল
