সম্পাদকীয়

India Population Census : ১৬ বছর পর হতে চলেছে জনগণনা , আপনি তৈরী তো ?

জনগণনা হবে- এটা আম-আদমির কাছে অত্যন্ত খুশি বা অখুশির খবর যাই হোক প্রশ্নটা হলো সেই ২০২১ সালে জনগণনা হওয়ার কথা থাকলেও ২০২৬  সালে জনগণনা হচ্ছে কেন ?

মৃত্তিকা সেনগুপ্ত : চলতি ২০২৬ সালেই শুরু হতে চলেছে আদমশুমারি বা সেন্সাস, যে অত্যাবশকীয় পদ্ধতিটি আমরা অর্থাৎ সাধারণ মানুষ ভুলতেই বসেছি, কারণ ১০ বছর অন্তর আদমশুমারি হওয়ার নিয়ম থাকলেও ১০ বছর পেরিয়ে ১৬ বছরের মাথায় শেষ পর্যন্ত হতে চলেছে ভারতের জনগণনা – আদমশুমারি বা সেন্সাস। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই জানিয়েছেন , SIR প্রক্রিয়া মিটলেই শুরু হবে জনগণনার কাজ। দু’দফায় হবে জনগণনা । ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত চলবে প্রথম দফার জনগণনা এবংদ্বিতীয় দফায় জনগণনার কাজ হবে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে।

জনগণনা হবে- এটা আম-আদমির কাছে অত্যন্ত খুশি বা অখুশির খবর যাই হোক প্রশ্নটা হলো সেই ২০২১ সালে জনগণনা হওয়ার কথা থাকলেও ২০২৬  সালে জনগণনা হচ্ছে কেন ? যে উত্তরটা খুব স্পষ্টভাবে আপনি পাবেন তা হলো – করোনা অতিমারী। ২০২০ সালে আমাদের জীবনে থাবা বসিয়েছিলো করোনা, আর সেই অতিমারী পরিস্থিতিতে (২০২১) জনগণনা করা সম্ভবপর হয়ে ওঠেনি। কিন্তু তারপরেও কেটেছে ৫ টা বছর, করোনার প্রকোপও কমেছে, এমনকি করোনা অতিমারির মধ্যে ১২টি রাজ্য সহ পুদুচেরি, দিল্লিতে সাধারণ নির্বাচন হয়েছে যেখানে নেতা-মন্ত্রী-সান্ত্রী সহ হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন মিছিল-সভায় যোগ দিয়ে‍ছেন,দেশের অর্ধেকেরও বেশি মানুষ নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। কিন্তু চলতি বিজেপি সরকারের ভাবগতিক দেখে মনে হয়েছে তারা ২০২৪ এর লোকসভা নির্বাচনের আগে কোনোভাবেই জনগণনা করাতে চাইছিলেন না। আর যেমন চাওয়া তেমন কাজ, ভালোয় ভালোয় লোকসভা নির্বাচন মেটার পর, SIR শেষের পর অবশেষে কেন্দ্রীয় সরকার তরফে জানানো হয়েছে জনগণনার কথা।

ব্রিটিশরা ধারণা করতে পেরেছিলো, কোনো দেশ শাসন করতে হলে সেই দেশের জনগণের তথ্য জানা কতটা দরকারি, আর সেই কথা মাথায় রেখেই ১৮৮১ সালে ব্রিটিশ শাসনাধীন ভারতে প্রথম শুরু হয় জনগণনা। এরপর ১৯৫১ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে স্বাধীন ভারতে প্রথম হয় জনগণনা। সেই থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে ১০ বছর অন্তর হয়ে এসেছে ভারতের জনগণনা। এরমধ্যে একমাত্র ব্যতিক্রম মোদী জমানায় ২০২১ সাল।

জনগণনার সাথে দেশবাসীর স্বার্থ ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে রয়েছে, সঠিক সময়ে জনগণনা না হলে শাসকের পক্ষে দেশবাসীর সার্বিক উন্নতি করা সম্ভব না। যেমন ধরুন, কোন শিশুরা এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে মিডডে মিল পাওয়ার যোগ্য তা সরকার গত ৬ বছরে সঠিভাবে জানতেই পারেনি, অর্থাৎ শিশু প্রতি কত টাকা করে সরকার বরাদ্দ করবে তার কোনো যথাযথ হিসেব নেই, সবটাই চলছে আন্দাজমতো। এছাড়াও দেশের কত মানুষ দারিদ্রসীমার নিচে রয়েছে, যাদের খাদ্যে ভর্তুকির প্রয়োজন অথবা দেশের অন্যতম স্তম্ভ শিক্ষা খাতে বা স্বাস্থ্য খাতে সরকার আগামী ১০  বছরের জন্য কত টাকা বরাদ্দ করবে তাও কিন্তু সঠিক জানা নেই, প্রায় ৫  বছর ধরে সবটাই চলছে আন্দাজের ওপরে ভর করে। তাহলে সরকারের এই অবহেলাতে আখেরে কাদের ক্ষতি হলো একবার ভেবে দেখবেন। জনগণনার সময় যে ধরণের প্রশ্ন করা হয়, তার উত্তরের মধ্য দিয়ে আরও বেশকিছু প্রসঙ্গ উঠে আসে, যেমন পরিবারে নতুন প্রজন্মের কজন আছে, তাদের করা প্রশ্নের মধ্যে দিয়ে, নতুন প্রজন্ম সরকারের কাজ, নীতি নিয়ে কি ভাবছে তার একটা আন্দাজ পাওয়া যায়। একইরকমভাবে, গ্রামের দিকে এখনও পাকা টয়লেট ব্যবহার ব্যবহার করার প্রবণতা কতটা সেটা জানা গেলে পরবর্তীতে সরকার তরফে সচেতনতামূলক ক্যাম্পইন করবে কিনা তা আলোচনা সাপেক্ষে ঠিক করা যাবে অর্থাৎ হাতে যদি সঠিক তথ্য থাকে তাহলে সেইমতো আগামীতে সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে। কিন্তু যদি হাতে কোনো তথ্য না থেকে থাকে তাহলে সরকার কিভাবে কোনো সিদ্ধান্তে উপনীত হবে বা এতদিন কিভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ হলো তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই গেলো !

তবে চলতি বছরের জনশুমারী কিন্তু অন্যএক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ কারণ ২০২৬ এর জনগণনায় জাতিভিত্তিক শুমারিও হবে যা দীর্ঘদিন ধরে বিরোধীদের দাবি ছিল। কিছুমাস আগে পর্যন্ত বিরোধীদের এই দাবিকে কার্যত নাকচ করার পথে হেটেছিলো বিজেপির শীর্ষ নেতারা। ইতিহাস ঘটলে দেখা যায়, ব্রিটিশ শাসনকালে ১৯১১ সালে জাতিভিত্তিক জনগণনা  হয়েছিল তারপর স্বাধীন ভারতে বারংবার এই দাবি উঠলেও তা ফলপ্রসূ হয়নি। তবে বলা বাহুল্য, জাতিভিত্তিক জনগণনার প্রয়োজনীয়তা অবশ্যই রয়েছে , স্বাধীনতার প্রায় ৮০ বছর পার করে এসে, AI , টেকনোলজির যুগে দাঁড়িয়েও জাত-পাত আজও বড়ো বালাই, তা শুধু সামাজিক ক্ষেত্রে নয় রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও সমান প্রাসঙ্গিক।

তাহলে , হাতে আর মাত্র কয়েকটাদিন, SIR কর্মকান্ড শেষের পর স্বস্তির নিশ্বাস ফেলতে না ফেলতেই আপনার কাছে কেন্দ্রের দূতেরা পৌঁছে যাবে জনগণনার প্রশ্নোত্তর পর্ব নিয়ে, তৈরী থাকবেন কিন্তু।

 

 

 

 

 

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *