নিজের ওয়ার্ড থেকে দলীয় প্রার্থীকে “লিড” না দিতে পারলে, ২০২৭এ নাও মিলতে পারে টিকিট।দলীয় কাউন্সিলরদের বার্তা মমতা-অভিষেকের
সারা রাজ্যেই কাউন্সিলরদের ঘিরে একটি ‘অর্থনৈতিক বাস্তুতন্ত্র’ তৈরি হয়েছে। যার সঙ্গে জুড়ে রয়েছে তথাকথিত লোকবল বা বাহুবল। সেই বাহিনী সর্বোপরি সক্রিয় ভাবে মাঠে-ময়দানে থেকে নির্বাচনের দিন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। আর কে না জানে, পশ্চিমবঙ্গে ভোট হয় না, ভোট করাতে হয়!
চন্দন সেনগুপ্ত : নিজের ওয়ার্ড থেকে দলীয় প্রার্থীকে মর্যাদাপূর্ণ “লিড” না দিতে পারলে, ২০২৭এর পৌর নির্বাচনে নাও মিলতে পারে টিকিট। এমনই বার্তা তৃণমূলের হাজার খানেক পৌরপ্রতিনিধিদের কাছে পৌঁছে গেছে স্বয়ং দলনেত্রী এবং অভিষেক ব্যানার্জীর তরফ থেকে। আর তারপর থেকেই নাকি সমস্ত কলহ ভুলে, হাসার ইচ্ছে না থাকলেও, মুখে দেঁতো হাসি বুলিয়ে নিয়ে দল নির্বাচিত প্রার্থীর পাশে পাশে ঘোরা শুরু করে দিয়েছেন প্রার্থী না পসন্দ কাউন্সিলররাও। ঘটনার সূত্রপাত মুখ্যমন্ত্রীর নিজের আসন ভবানীপুর থেকেই, কারণ গত লোকসভা নির্বাচনে এ বিধানসভায় কলকাতা কর্পোরেশনের যে ৮টি ওয়ার্ড রয়েছে তার মধ্যে ৫টিতে এগিয়ে ছিল বিজেপি, ৬৩,৭০,৭১,৭২,৭৪ নম্বর ওয়ার্ডে বিজেপির পিছনে পড়েছিল তৃণমূল। আর ৭৩,৭৭ ও ৮২ নম্বর ওয়ার্ডে জয় পেয়েছিল তৃণমূল, যার মধ্যে ৭৩ নম্বর বোর্ডটি হলো মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির মানুষ কাজরী বন্দোপাধ্যায়ের আর ৮২ নম্বরের কাউন্সিলর হলেন ফিরহাদ হাকিম। তবে দলীয় কাউন্সিলরদের যে বার্তা দিয়েছেন দলনেত্রী এবং অভিষেক ব্যানার্জী, তা শুধুমাত্র ভবানীপুরের জন্য নয়, এ সতর্কবার্তা পৌঁছেছে রাজ্যের ১২১টি পৌরসভার সমস্ত প্রতিনিধিদের কাছেই, ১টি বাদ গেছে, কারণ সেটি এখনও বামেদের দখলে। গত লোকসভা নির্বাচনে শহরাঞ্চলে তৃণমূলের ফল আশানুরূপ হয় নি। রাজ্যের ৭০টির বেশি পৌর এলাকায় মোট ভোটে তৃণমূলের চেয়ে এগিয়ে ছিল বিজেপি। ২০২৬এর বিধানসভা ভোটে সেই ক্ষতে প্রলেপ দিতে মরিয়া শাসকদল নিজেদের ওয়ার্ডে পরীক্ষার মুখে ফেলে দিতে চাইছে কাউন্সিলরদের। তৃণমূলের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব সহ পরামর্শদাতা সংস্থার ধারণা, পুরসভা ভোটে কাউন্সিলরেরা যে পরিশ্রম করেন, বিধানসভা বা লোকসভা ভোটে তাঁদের সেই ভাবে উদ্যোগী হতে দেখা যায় না। তৃণমূলের এক শীর্ষ নেতার কথায় , ‘‘বিধানসভা বা লোকসভা ভোটকে কাউন্সিলরদের একটা বড় অংশ মনে করে, এগুলো ‘আমার ভোট’ নয়। এ বার সেই রোগটাই কাটাতে নামা হয়েছে।’’
কাউন্সিলরদের ‘বার্তা’ দেওয়ার বিষয়ে তৃণমূল শীর্ষ নেতাদের আরও একটি পর্যবেক্ষণ রয়েছে, সেটি আরও মারাত্মক। সেটি হলো, সারা রাজ্যেই কাউন্সিলরদের ঘিরে একটি ‘অর্থনৈতিক বাস্তুতন্ত্র’ তৈরি হয়েছে। যার সঙ্গে জুড়ে রয়েছে তথাকথিত লোকবল বা বাহুবল। সেই বাহিনী সর্বোপরি সক্রিয় ভাবে মাঠে-ময়দানে থেকে নির্বাচনের দিন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। আর কে না জানে, পশ্চিমবঙ্গে ভোট হয় না, ভোট করাতে হয়!



