সম্পাদকীয়

বকেয়া ডিএ ইস্যুতে আরও চাপে রাজ্য, মামলা লড়তে খরচ প্রায় ১০০ কোটি টাকা

সুপ্রিম কোর্ট রায়দানের পর এতগুলো দিন কেটে গেলেও সরকারের তরফে কোন সদর্থক সারা না পেয়ে এবার সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর পাড়ায় গিয়ে বিক্ষোভের সিদ্ধান্ত সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের

চন্দন সেনগুপ্ত : ভোটের মুখে এসআইআর (SIR) নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সওয়াল জবাবে দলের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছিল বলে দাবী এ রাজ্যের শাসক দলের, তারিখটা ছিল ৪ঠা ফেব্রুয়ারী ২০২৬, কিন্তু তার পরদিনই সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ (Sangrami Joutha Mancha)র করা বকেয়া ডিএ (Dearness Allowance) নিয়ে মামলায়, যাকে বলে ল্যাজে গোবরে পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হলো রাজ্য সরকারকে। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ বকেয়া ডিএ (DA) মামলার চূড়ান্ত রায়দান করে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিল রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়ার ১০০ শতাংশই মেটাতে হবে। ডিএ–র ২৫ শতাংশ অবিলম্বে মিটিয়ে দিতে হবে। বাকিটা কীভাবে মেটানো হবে তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে আগামী ৬ই মার্চের মধ্যে। কিন্তু সরকারের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত রায়দানের পরেও কিন্তু ডিএ নিয়ে এখনও নীরব সরকার। আর সরকারের এই নীরবতা নিয়ে ফের সুপ্রিম কোর্টে আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করেছে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। পাশাপাশি তাদের আন্দোলনকে আরও জোরদার করার লক্ষে এবার আন্দোলনের বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করতে চলেছেন তারা। মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ জানিয়েছেন রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা দায়ের পাশাপাশি সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের তরফে সরাসরি প্রশাসনিক প্রধানের বাসভবন অর্থাৎ কালীঘাট (Kalighat) অভিযানের ডাক দেওয়া হয়েছে।
রাজ্য সরকারের উপর জোড়া চাপ বাড়াতে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের তরফে সরাসরি প্রশাসনিক প্রধানের বাসভবন অর্থাৎ কালীঘাট অভিযানের (Kalighat Ovijan) ডাক দেওয়া হয়েছে। রাস্তায় নেমে আন্দোলনের ঝাঁঝ বাড়াতে চাইছে সংগঠন। আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি দুপুর ১২:৩০ মিনিট হতে ‘কালীঘাট চলো’ অভিযানের ডাক দিয়েছে যৌথ মঞ্চ। সাথে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে দীর্ঘ দিন ধরে কাজ করা যোগ্য অনিয়মিত কর্মীদের স্থায়ীকরণ এবং শূন্যপদ পূরণের পাশাপাশি তাঁদের দাবি, রাজ্যে প্রায় ৬ লক্ষ শূন্যপদে স্বচ্ছতার সঙ্গে স্থায়ী নিয়োগ করতে হবে।
আর এখানেই প্রশ্ন উঠছে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে রাজ্য যদি কর্মীদের ২৫ শতাংশ বকেয়া ডিএ (DA) দেবার ব্যবস্থা করতো, তাহলে রাজ্যের কোষাগার থেকে কত টাকা খরচ হতো ? উল্লেখ্য, সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টে যে ডিএ মামলায় রায় দিয়েছে তা পঞ্চম পে কমিশনের (Fifth pay commission) । সেটার পরিমাণ রাজ্য সরকার যা হিসেব দিয়েছিল তাতে হচ্ছে ৪০ হাজার কোটি টাকা। আদালত অবিলম্বে এর ২৫% মিটিয়ে দিতে বলেছে। যার পরিমাণ হচ্ছে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা।
উল্টো দিকে ‘তথ্যের অধিকার’ আন্দোলনের কর্মী মাননীয় অমিতাভ চৌধুরীর করা (২৮/০৯/২৫) এক RTI -এর মাধ্যমে জানা গেছে ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে সুপ্রিম কোর্টের দুই আইনজীবি মাননীয় কপিল সিব্বাল এবং মাননীয় অভিষেক মনু সিঙ্ঘভিকে তাদের এপিয়ারেন্স ফিস বাবদ রাজ্য সরকার যথাক্রমে ৩ কোটি ১৬ লক্ষ এবং ৪ কোটি ৬২ লক্ষ ৫০ হাজার রাজ্য কোষাগার থেকে ব্যয় করেছেন।’ আর গত ৬ বছরে মোট ৫১ জন আইনজীবিদের জন্য ব্যয় হয়েছে মোট ৮৭কোটি ৭৭ লক্ষ ১৭ হাজার ৪৪৯ টাকা।
তাহলে কি দেশের শীর্ষ আদালতের রায়ের পরেও কর্মচারীদের বকেয়া পাওনা না দিয়ে সেই টাকা আইনজীবীদের পিছনে ব্যয় করে অন্য কোনো পথে হাঁটতে চলেছে রাজ্য সরকার, নাকি সরকারের এই পদক্ষেপ রাজকোষের দেউলিয়া পরিস্থিতির কথাই সামনে নিয়ে আসছে।

 

(প্রকাশিত লেখাটির বক্তব্য লেখকের নিজস্ব )

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *