কলকাতা

বরানগরে তোলা না দেওয়ায় ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে গিয়ে মারধোর, কাঠগড়ায় তৃণমূল নেতা ,তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা

তৃণমূল নেতার জুলুমবাজী বরানগরে। তোলা না দেওয়ায় ব্যবসায়ীকে বাড়ি থেকে জোর করে তুলে নিয়ে গিয়ে বেধড়ক মারধোর,অভিযোগের তীর তৃণমূল নেতা শংকর রাউতের দলবলের বিরুদ্ধে। ঘটনায় সরব গেরুয়া শিবির। অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধেই আঙ্গুল তুলেছেন ওই তৃনমুল নেতা।

নিজস্ব সংবাদদাতা : তৃণমূল নেতার জুলুমবাজীর অভিযোগে উত্তপ্ত বরানগর। অভিযোগ,বরানগরের গোপাল লাল ঠাকুর রোডের বাসিন্দা ব্যবসায়ী সুদীপ্ত ঘোষ দাবী মতো তোলা না দেওয়ায় তাকে বাড়ি থেকে জোর করে তুলে নিয়ে গিয়ে বেধড়ক মারধোরের পাশাপাশি তাকে প্রানে মারার হুমকিও দেওয়া হয়েছে। সেই ঘটনার ছবি ধরা পড়েছে সিসিটিভি ফুটেজে। সুদীপ্ত ঘোষের অভিযোগ, তার কাছ থেকে চাঁদা হিসেবে ১ লক্ষ টাকা চাওয়া হয়। সেই টাকা না দেওয়ায় বেশ কয়েকদিন ধরে ফোনে থ্রেট দেওয়া হচ্ছিলো তাকে। এরপরেই এদিন রাতে তার বাড়ি থেকে জোর করে তাকে তুলে নিয়ে সালিশি সভায় নিয়ে যায় তৃনমুল নেতা শঙ্কর রাউতের দলবল। রীতিমতো শংকর রাউতের উপস্থিতিতে,তারই নির্দেশে চলে বেধড়ক মারধোর। মারধোরের জেরে গুরুতর আহত হয়েছেন আক্রান্ত ব্যবসায়ী। আর এই ঘটনার পর তার পকেটে থাকা ৩-৪ হাজার টাকাও উধাও হয়ে গিয়েছে। ব্যবসায়ীর আরো অভিযোগ, ওই তৃণমূল নেতা বরানগর এলাকা জুড়ে এতটাই প্রভাবশালী যে তার কবল থেকে ছাড়া পাবার পর নিকটবর্তী বরানগর রাজ্য সাধারণ হাসপাতাল কিংবা সাগরদত্ত মেডিকেল কলেজে চিকিৎসা না করিয়ে বাধ্য হয়ে কলকাতার আর জি কর মেডিকেল কলেজে চিকিৎসা করান তিনি। এই ঘটনার বিরুদ্ধে বরানগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন সুদীপ্ত ঘোষ।

আর আসন্ন বিধানসভা ভোটের আগে এহেন ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয়ে গিয়েছে রাজনৈতিক তরজা। ঘটনার বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন বিজেপি নেতা সজল ঘোষ। এই ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা না হলে বরানগর থানা অবরোধের হুঁশিয়ারীও দেন সজল ঘোষ। তার কটাক্ষ এ রাজ্যে ব্যবসা করতে গেলে তৃণমূলকে নজরানা না দিয়ে ব্যবসা করা যাবেনা। বরানগরেও সেটাই ঘটছে।

যদিও তার বিরুদ্ধে ওঠা তোলাবাজির অভিযোগ পুরোপুরি নস্যাৎ করে বরানগরের তৃণমূল নেতা শংকর রাউত পাল্টা ওই ব্যবসায়ীকেই চিটিংবাজ বলে দাবী করেন। শংকর রাউতের অভিযোগ, এক আইনজীবী দম্পতির ফ্ল্যাটে ইন্টেরিয়র ডিজাইনিংয়ের কাজ করবে বলে তাদের কাছ থেকে টাকা নিয়েও কাজ করেননি সুদীপ্ত ঘোষ। উপরন্তু ওই দম্পতিকে তার নাম করে হুমকী দিয়েছে বলেও দাবী শংকর রাউতের। আর সজল ঘোষ ভুলভ্রান্তি ছড়ানোর জন্য এই ঘটনাকে রাজনৈতিক রঙ লাগানোর চেষ্টা করছেন। প্রশাসনের তরফে এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া উচিত।

আর এই ঘটনা নিয়ে বরানগরের বিধায়ক সায়ন্তিকা ব্যানার্জীর দাবী, যে ঘটনা ঘটেছে এর সঙ্গে রাজনীতির কোনো যোগ নেই। সজল ঘোষ ইচ্ছাকৃতভাবে এটা নিয়ে রাজনীতিকরণ করছেন। তার কটাক্ষ, সজল ঘোষ নিজের জায়গা ছেড়ে দিয়ে অন্যের ঘরে এসে উঁকি ঝুঁকি মারছেন। ইতিমধ্যেই সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে এই ঘটনায় অভিযুক্ত রাহুল যাদব এবং আয়ুষ কুন্ডুকে গ্রেপ্তার করেছেন বরানগর থানার পুলিশ। ব্যারাকপুরের পুলিশ কমিশনার প্রবীণ ত্রিপাঠি জানিয়েছেন, এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত কাউকেই ছাড়া হবেনা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *