কলকাতা

যুদ্ধ পরিস্থিতিতে গ্যাস সংকট, সুযোগ বুঝে বাড়ছে গ্যাসের কালোবাজারি

গ্যাস সংকটের খবর বাজারে ছড়িয়ে পড়া মাত্র শহরবাসী শুরু করে দিয়েছে গ্যাস বুক করা, ফলে স্বাভাবিকের থেকে অনেক বেশি বুকিং হয়ে গিয়েছে যা চাপে ফেলেছে গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ককে। তবে, এটাও মাথায় রাখতে হবে কিছু মানুষ অসৎ উদ্দেশ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে অতিরিক্ত রান্নার ও বাণিজ্যিক গ্যাস মজুত করেছে

৭এ নিউস ডেস্ক : আরবদেশের যুদ্ধের আঁচ ভারতেও, জ্বালানির আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার জেরে গ্যাসের যোগান কমার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বলা যেতেই পারে , রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানির জোগানে সমস্যা তৈরি হয়েছে। এলপিজি (LPG) গ্যাসের সরবরাহও স্বাভাবিকের থেকে কমেছে অনেকটাই। কলকাতা ,বেঙ্গালুরু, মুম্বাইয়ের মতো মেট্রোপিলিটন শহরগুলিতে ইতিমধ্যেই রেস্তোরাঁ-হোটেল বন্ধ করে দেওয়ার মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সংকট দেখা দিয়েছে রান্নার গ্যাস বুকিংয়ের ক্ষেত্রেও, বিভিন্ন মহল থেকে জানা যাচ্ছে চেষ্টা করেও তারা গ্যাস বুকিং করতে পারছেন, বলা যেতে পারে সব মিলিয়ে নাজেহাল অবস্থা। আর এই সংকটময় পরিস্থিতির মধ্যেই মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে গ্যাসের কালোবাজারি।

জানা গেছে , গ্যাস সংকটের খবর বাজারে ছড়িয়ে পড়া মাত্র শহরবাসী শুরু করে দিয়েছে গ্যাস বুক করা, ফলে স্বাভাবিকের থেকে অনেক বেশি বুকিং হয়ে গিয়েছে যা চাপে ফেলেছে গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ককে। সাধারণত রাজ্যে প্রতিদিন প্রায় ৫ লক্ষ সিলিন্ডার লাগে , তার মধ্যে ৩ লক্ষের বেশি সিলিন্ডার সরবরাহ করে IOC এবং বাকি সরবরাহ করে BPCL ও HPCL। তবে এই মুহূর্তে স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যাহত হওয়ারই সুযোগ নিচ্ছেন কালোবাজারিরা, চড়া দামে বাজারে বিক্রি হচ্ছে সিলিন্ডার। যাদের নাম গ্যাসের কানেকশান রয়েছে এই একালের মরশুমে তারাও কয়েকগুন বেশি টাকা দিয়ে ভর্তি সিলিন্ডার জোগাড় করে রাখছেন। আর অন্যদিকে শহর কলকাতায় ভাড়া থাকা ভিনজেলার বহু ছাত্রছাত্রীরা, যাদের নিজেদের নামে গ্যাসের বুকিং নেই, তারা ছোট সিলিন্ডার বা অস্থায়ী সরবরাহকারীদের থেকে সিলিন্ডার নিয়ে দিন গুজরান করেন, তারাও এখন বাধ্য হচ্ছেন চড়া দামে কালবাজে থেকে সিলিন্ডার নিতে।

এই আবহে National Restaurant Association of India (NRAI) জানাচ্ছে, ছোট বড়ো মিলিয়ে শহর কলকাতায় এই মুহূর্তে রেস্তোরাঁ বা হোটেলের সংখ্যা ৫ হাজারের বেশি, যার মধ্যে ৪০ শতাংশ রেস্তরাঁয় গ্যাসের মজুত শেষের পথে। অর্থাৎ বাণিজ্যিক এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের সঙ্কট দ্রুতই না মিটলে তীব্র হলে বহু খাবারের দোকান বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়া খুললে দেখতে পাবেন শহরের বহু প্রসিদ্ধ স্ট্রিট ফুডের দোকান ইতিমধ্যেই বন্ধের পথে।

ইতিমধ্যেই রান্নার গ্যাসের সংকট মোকাবিলায় অত্যাবশ্যক পণ্য বিক্রি আইনের জরুরি ধারা প্রয়োগ করেছে  কেন্দ্রীয় সরকার। এই আইন অনুযায়ী , যে কোনো অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নির্ধারিত মাত্রার অতিরিক্ত পরিমাণে মজুত, বিক্রি এবং ব্যবহার নিষিদ্ধ। আর কেন্দ্রীয় সরকারের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সরকারকে পেট্রোলিয়াম ও পেট্রোলিয়াম পণ্যের (রান্নার গ্যাস) সরবরাহ ও বন্টন এবং এর সাথে সম্পর্কিত যেকোনো ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।‌ শুধু তাই নয়, নির্ধারিত মাত্রার অতিরিক্ত রান্নার গ্যাস কোনো সরবরাহকারী মজুত করে ধরা পড়লে তার লাইসেন্স বাতিল করা হবে।

তবে, এটাও মাথায় রাখতে হবে কিছু মানুষ অসৎ উদ্দেশ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে অতিরিক্ত রান্নার ও বাণিজ্যিক গ্যাস মজুত করেছে,অর্থাৎ অযথা আতংকিত হবেননা, নিজের গ্যাস ডিলারের সাথে কথা বলুন, খোঁজ নিন, যে কোনো কথা বিশ্বাস করবেন না।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *