কলকাতা

ফর্ম ৬ কী ? কেন এই ফর্ম নিয়ে ক্রমেই বাড়ছে রাজনীতির আস্ফালন ?

১৮ বছর বা তার ঊর্ধ্বের যুবক- যুবতীরা প্রথমবারের জন্য ভোটার হতে এই ফর্মের মাধ্যমে আবেদন করে। সেই সঙ্গে এক সংসদীয় বা বিধানসভা এলাকা থেকে অন্য সংসদীয় বা বিধানসভা এলাকায় কেউ স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করলে সেই সব বাসস্থান স্থানান্তরণের ক্ষেত্রে এই ফর্মের মাধ্যমে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করতে হয়। তবে এই আপাত সহজ বিষয়কে ঘিরেই অতি সম্প্রতি শুরু হয়েছে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের পর্ব।

৭এ নিউজ ডেস্ক : বিতর্কের আরেক নাম এসআইআর(SIR)। ভোট যত এগোচ্ছে ভোটার তালিকার এই বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়াকে ঘিরে প্রকাশ্যে আসছে নানা বিধ অভিযোগ। আপাতত ফর্ম ৬ কে কেন্দ্র করে রাজ্য বনাম নির্বাচন কমিশনের সংঘাত নয়া মাত্রা পেয়েছে। প্রথমেই বলে নেওয়া দরকার, কি এই ফর্ম ৬? মূলত ভোটার তালিকায় নিজের নাম তুলতে হলে এই বিশেষ ফর্মটি পূরণ করতে হয়। ১৮ বছর বা তার ঊর্ধ্বের যুবক- যুবতীরা প্রথমবারের জন্য ভোটার হতে এই ফর্মের মাধ্যমে আবেদন করে। সেই সঙ্গে এক সংসদীয় বা বিধানসভা এলাকা থেকে অন্য সংসদীয় বা বিধানসভা এলাকায় কেউ স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করলে সেই সব বাসস্থান স্থানান্তরণের ক্ষেত্রে এই ফর্মের মাধ্যমে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করতে হয়। তবে এই আপাত সহজ বিষয়কে ঘিরেই অতি সম্প্রতি শুরু হয়েছে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের পর্ব। এদিন প্রচার কর্মসূচির পর আচমকাই সিইও দপ্তরে হাজির হন তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখান থেকে বেরিয়ে এসে তিনি দলীয় নেতা – নেত্রীদের সঙ্গে নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, ভিনরাজ্যের ভোটারদের বাংলার ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে সিইও দপ্তরে গিয়ে একগুচ্ছ ফর্ম ৬ জমা দিয়ে এসেছেন কয়েকজন। আর এই গোটা ঘটনার নেপথ্যে নাকি রয়েছে পদ্ম শিবির!
এদিন এই একই অভিযোগ জানিয়ে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি লিখলেন তৃণমূল (TMC) সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, বিজেপির এজেন্টরা সিইও দপ্তর এবং বিভিন্ন জেলায় ফর্ম ৬(Form 6) জমা করছেন। আর এই ঘটনাকে ভোটার তালিকায় নাম তোলার রুটিন প্রক্রিয়া বলে মনে করেননা মমতা।
অন্যদিকে এই অভিযোগে যখন সরব তৃণমূলের ২ শীর্ষ নেতৃত্ব তখন এদিন স্ট্র্যান্ড রোডে নতুন সিইও অফিসের সামনে উপস্থিত হন বেশ কয়েকজন তৃণমূলপন্থী বিএলওরা। তাদের অভিযোগ ছিল পূর্ব মেদিনীপুরের এক যুবক ব্যাগভর্তি ফর্ম ৬ নিয়ে এসে সিইও অফিসে জমা করতে যাচ্ছিলেন। ক্যামেরায় দেখাও গিয়েছে এক ব্যক্তি একগুচ্ছ কাগজ নিয়ে সিইও অফিসে ঢুকছেন। কিন্তু সেগুলি আদৌ ফর্ম ৬ কিনা তা স্পষ্ট নয়। এদিন ফর্ম ৬ জমা করা নিয়ে যখন বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন বুথ লেভেল আধিকারিকেরা(BLO) তখন আচমকাই সেখানে হাজির হন বিজেপি কর্মীরা। তাদের অভিযোগ, এক বিজেপি কর্মীকে মারধর করা হয়েছে। আর এই অভিযোগকে সামনে রেখে পাল্টা বিক্ষোভ শুরু করে পদ্ম শিবিরের কর্মীরা। বিক্ষোভ, পাল্টা বিক্ষোভে ক্রমেই উত্তপ্ত হতে থাকে সিইও অফিসের সামনের চত্বর। পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর তৎপরতায় পরবর্তীতে নিয়ন্ত্রণে আসে পরিস্থিতি। আর এ হেন অশান্ত পরিস্থিতির পর এদিন বিকেলে সাংবাদিক বৈঠক করে ফর্ম ৬ নিয়ে ব্যাখ্যা দেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল। তিনি স্পষ্ট জানান, যাচাই করেই নাম অন্তর্ভুক্ত করা হবে। সেই সঙ্গে আজ সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর মামলার শুনানিতেও রাজ্য ও কমিশনের আইনজীবীর মধ্যে এই ফর্ম ৬ নিয়ে তুঙ্গে ওঠে তরজা। শেষমেষ রাজ্যের আইনজীবীকে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জানান “আপনাদের আপত্তি থাকলে সেটা জানান সেখানে।”
একদিকে ফর্ম ৬ তরজা যখন আদালতের আলোচনাতেও উঠে এল তখন তৃণমূলের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ করেছে বিজেপি। এদিন এক্স হ্যান্ডেলে পদ্ম শিবির (BJP) দাবি করে তৃণমূল নিজেই নিজের মিথ্যের জালে ফেঁসে গিয়েছে। তাদের অভিযোগ, তৃণমূল বাঙালি হিন্দুদের নাম তুলতে দিয়ে চায় না।
ফর্ম ৬ নিয়ে যে রাজ্য রাজনীতি রীতিমতো তোলপাড় হচ্ছে তা বলাই বাহুল্য। একদিকে আসছে ‘বহিরাগত’ তত্ত্ব, অন্যদিকে আবারো শুরু হলো ধর্মের রাজনীতি। সবমিলিয়ে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তিকরণের ফর্ম নিয়ে ক্রমশই চড়ছে রাজনীতির পারদ। ভোটার তালিকায় বহিরাগতদের নাম ঢোকানোর অভিযোগকে নানান ভাবে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে। এক, এই অভিযোগকে সামনে রেখে আবার ভোটের আগে বিজেপিকে কোনঠাসা করতে চাইছে তৃণমূল।দুই, তাদের অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে ভোট কাটাকাটির হিসেবে বেশ কিছুটা সুবিধা পাবে বিজেপি। আবার বিজেপিও পিছিয়ে থাকতে রাজি নয়। তারাও এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে নেমে পড়েছে ধর্মের রাজনীতিতে। যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট শ্রেণীর ভোটারদের মন জয় করা যেতে পারে।তাই ফর্ম ৬ কে নিয়ে রাজ্যের যুযুধান দুই দলই ব্যস্ত নিজেদের আখের গোছাতে। আগামীতে কোনদিক মোড় নেয় এই ফর্ম ৬ কে ঘিরে রাজনীতির আস্ফালন সেটাই এখন দেখার।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *