লাইফস্টাইলস্বাস্থ্য

বন্ধ করতে হবে বেগুন, লাউয়ের মতো সব্জির ব্যবহার ? এমনকি কাঁচালংকাতেও বিষ !

এফএসএসএআই এর পক্ষ থেকেই দাবি করা হয়েছে, সব্জীর ফলন বাড়াতে নিম্নমানের ফসফেট সার এবং কিছু নির্দিষ্ট কীটনাশকের ব্যবহারের ফলেই এই বিপদ ক্রমশ বাড়ছে। পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলেও এখন চাষের জমি দখল করে বিভিন্ন ছোট মাঝারি কারখানা গড়ে উঠেছে, ঐ সমস্ত কল কারখানার বর্জ্য এসে সরাসরি মিশছে চাষের জমিতে, যে বর্জ্যে রয়েছে মাত্রাতিরিক্ত সিসা।

বাজার থেকে টাটকা দেখে আনাজ কিনে আনলেন। কিন্তু বুঝতেই পারলেন না, কী পরিমাণে রাসায়নিক ও ভারী ধাতু মিশে রয়েছে সেই সব সব্জিতে। রাসায়নিক সার ও কীটনাশক থেকে কাঁচা আনাজেও মিশছে ধাতু ও রাসায়নিক। রোজের যে সব সব্জি প্রায় সকলের বাড়িতেই আসে, সেগুলিও ক্রমে হয়ে উঠছে বিষাক্ত। এমনই দাবি করেছেন বেঙ্গালুরুর ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্সের গবেষকেরা। ঐ গবেষকদের দাবী, স্থানীয় বাজারগুলিতে যে সমস্ত শাক সব্জি পাওয়া যাচ্ছে তার মধ্যে ১০ রকমের এমন ধাতু এবং বিষাক্ত রাসায়নিকের খোঁজ মিলেছে, যা মানব শরীরের পক্ষে মারাত্মক ক্ষতিকারক। সিসা সবচাইতে বেশী মিশছে বেগুনের মধ্যে, ক্রমতালিকায় পরপর রয়েছে লাউ,বাঁধাকপি,বিন,কাঁচালঙ্কা,পালংশাক, লালশাক,শশা ইত্যাদি মধ্যবিত্তের অতি ব্যবহৃত সব্জিগুলি। সাধারণ ভাবে চাষের সময় যে কীটনাশক ব্যবহার করা হয় তাতে শরীরের তেমন ক্ষতি হবার সম্ভাবনা কম। কারন রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহারের উর্ধসীমা কঠোর ভাবে বেঁধে দেয়া হয়েছে সরকারি আইনে। এবং কোন খাদ্যপণ্যে অতিরিক্ত কীটনাশক মিশে আছে কি না, তা পরীক্ষা করে দেখবার জন্য রয়েছে খাদ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা এফএসএসএআই (ফুড সেফটি অ্যান্ট স্ট্যান্ডার্ড অথরিটি অফ ইন্ডিয়া)।
এই এফএসএসএআই এর পক্ষ থেকেই দাবি করা হয়েছে, সব্জীর ফলন বাড়াতে নিম্নমানের ফসফেট সার এবং কিছু নির্দিষ্ট কীটনাশকের ব্যবহারের ফলেই এই বিপদ ক্রমশ বাড়ছে। পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলেও এখন চাষের জমি দখল করে বিভিন্ন ছোট মাঝারি কারখানা গড়ে উঠেছে, ঐ সমস্ত কল কারখানার বর্জ্য এসে সরাসরি মিশছে চাষের জমিতে, যে বর্জ্যে রয়েছে মাত্রাতিরিক্ত সিসা। পাশাপাশি নগরায়নের তাগিদে গ্রামের চাষের জমি ভেদ করে তৈরী হচ্ছে হাজার হাজার কিলোমিটার সড়ক পথ, সেই পথে চলা যানবাহনের ধোঁয়ায় থাকে সিসা, যে সিসা চাষের মাটি শোষণ করে নেয় এবং সেই পথ ধরে ঢুকে পরে শাক-সব্জীর মধ্যে এবং চালান হয়ে যায় আমাদের শরীরে। এফএসএসএআই জানিয়েছে, সব্জি চাষে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার হচ্ছে। অজান্তেই এই সব রাসায়নিক ঢুকে যাচ্ছে শরীরে। সিসা শরীরে ঢুকে বাসা বাধে রক্ত ও হাড়ে। যার ফলে তৈরী হয় হৃদরোগের আশংকা, বিকল হতে পারে লিভার, কিডনি। শিশুদের শরীরে সিসা মস্তিস্ক বিকাশে বাধা হতে পারে, এমন কি প্রজনন ঘটিত সমস্যাও তৈরী হতে পারে। আর বাজার থেকে আনার পর ভালো করে ধুয়ে নিলেও সিসা থেকেই যায়। সুতরাং এখন কি করা দরকার তা একমাত্র বলতে পারেন চিকিৎসক বা পুষ্টি বিশারদরাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *