news

উত্তম, অপর্ণা, তাপস,- বাংলা সিনেমায় দোলের উত্তরাধিকার কোথায় ?

দোল বা হোলীকে ঘিরে আজ বাঙালী এক মিথ্যা আবর্তের মধ্যে যেন পাক খেয়ে বেড়াচ্ছে, যেটা করছে, সেটা বেশীরভাগ বাঙালী বিশ্বাস করে না, আর যেটা বিশ্বাস করে, সেটা করছে না। একথা বিশ্বাস করার কোনও কারণ নেই যে, সাত সকালেই আপনার বাড়ির সামনে দিয়ে যে বিরাট শোভাযাত্রা গেলো, “ওরে গৃহবাসী খোল দ্বার খোল” গাইতে গাইতে, তারা কেউ রবি ঠাকুরের “বসন্ত উৎসব”কে জানে বা বিশ্বাস করে। আসলে সবটাই “দাদা”র কৃপা। দাদাকে বলে দেয়া হয়েছে, অন্তত এবছর, কারণ সামনেই বিধানসভা ভোট, তাই পাড়ার দিদি, বৌদি, মাসীমা। কাকিমাদের একসাথে করতে হবে, তাদের নিয়ে “বসন্ত উৎসবের” ব্যবস্থা করতে হবে। আর দিকে দিকে সেই সুচারু ছবিটাই ধরা পড়ছে আমাদের ক্যামেরায়। গুরুদেবকে ছোট না করেও বলা যায়, বাংলায় “বসন্ত উৎসব” কিন্তু সেই নির্বাক সিনেমার আমল থেকে একটা গুরুত্বপূর্ণ জায়গা নিয়েছে গত ৯০এর দশক পর্যন্ত। ১৯৩৭ সালে প্রমথেশ বড়ুয়ার “মুক্তি” ছায়াছবিতে ১ম আসে দোলের দৃশ্য, কানন দেবীর সাথে নায়কের ভূমিকায় ছিলেন প্রমথেশ বড়ুয়া নিজেই।তাঁর কণ্ঠে রবীন্দ্রসঙ্গীত ‘আজ সবার রঙে রং মেশাতে হবে’ গানটির হাত ধরে সবাক বাংলা ছবিতে ঢুকে পড়ে দোলের রঙিন আবহ। ১৯৬৩ সালের বিখ্যাত ছবি উত্তর-ফাল্গুনীতে সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের কণ্ঠে ‘কৌন তারাহ সে তুম খেলাত হরি’— গান আজও সমান জনপ্রিয়। তবে বাংলা সিনেমায় সরাসরি দোল উৎসবের ছোঁয়া দেন তরুণ মজুমদার ১৯৬৭ সালে তার বালিকা বধূ ছবিতে, গৌরীপ্রসন্ন মজুমদারের লেখায় সুর ও কণ্ঠে হেমন্ত মুখোপাধ্যায় ‘লাগ লাগ লাগ লাগ রঙের ভেল্কি লাগ, পরানে লেগেছে ফাগুয়া’। তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের কলমে সুধীন দাশগুপ্তের সুরে, সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের কণ্ঠে ‘আজ হোলি খেলবো শ্যাম তোমার সনে’ ১৯৭০ সালে অগ্রদূত পরিচালিত মঞ্জরী অপেরা ছবিটিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছিল। এরপর ১৯৭৩, বাঙ্গালীর ড্রয়ইং রুমে আজও যে সিনেমার চর্চা সমান তালে চলে, মুক্তি পেলো দীনেন গুপ্তের “বসন্ত-বিলাপ”, পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা, সুধীন দাশগুপ্তের সুরে ‘ও শ্যাম যখন তখন, খেলো না খেলা এমন’ অপর্ণা সেন, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, কাজল গুপ্ত, চিন্ময় রায়, রবি ঘোষ সুমিত্রা মুখোপাধ্যায়ের অভিনয়, বিশেষ করে দোলের আবহে চিন্ময় রায়ের অভিনয় আর সেই গান, আজও মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখে সবাইকে। এরপর সেই ১৯৭৮ সাল, রঙিন বাংলা ছবিতে বোম্বের নায়িকার সাথে বাংলার মহানায়ক, সুলক্ষণা পন্ডিত আর উত্তমকুমারের বন্দী ছায়াছবিতে শ্যামল মিত্রর সুরে আশা ভোঁসলে ও কিশোর কুমারের গাওয়া ‘মনে রঙ না লাগলে তবে, এ হোলি কেমন হোলি’ গানটি বাংলা সিনেমার দোলকে হোলীতে রূপ দিলো। এরপর ১৯৮৭ পরিচালক বীরেশ চ্যাটার্জীর একান্ত আপন ছবিতে অপর্ণা সেনের লিপে রাহুল দেববর্মনের সুরে “খেলবো হোলী রং দেব না, তাই কখনও হয়” মাত করে দিলো বাংলার সংগীতপ্রেমীদের। তারপর ১৯৮০, আবার সেই তরুণ মজুমদার, “দাদার কীর্তি” ছবিতে ফিরিয়ে আনলেন একই সাথে বাংলার দোলযাত্রা আর হোলীকে, বাঙালির সাবেক পশ্চিমের পটভূমিকায় হেমন্ত মুখোপাধ্যায় আর শক্তি ঠাকুরের গলায় ‘হোলি আয়ি রে’ গানটি। না, তারপর যে বাংলা সিনেমায় দোল বা হোলীর গান হয়নি এমনটা নয়, কিন্তু মনে রাখার মতো গান, আপনাদের যদি মনে পরে যায়, কমেন্ট করে অবশ্যই জানাবেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *