newsসম্পাদকীয়

শিক্ষা দফতরের নতুন সিদ্ধান্ত, বিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচিতে এবার নাচ-গান-কবিতা, মিলবে নম্বরও

শিক্ষা ব্যবস্থায় আসতে চলেছে এক অভিনব পরিবর্তন (West Bengal School)। কারণ ৯০ এর দশক পর্যন্ত নাচ গান অথবা আঁকার শেখার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ ছিল প্রথাগত পাঠক্রমের বাইরে। তবে সে বিষয়ে যতই আকর্ষণ থাকুক না কেন, মূল পড়াশোনা বাদ দিয়ে এই সব চর্চা করায় ছিল নিষেধাজ্ঞা। যার ফলে মাধ্যমিক বা উচ্চমাধ্যমিকের মতো বড় পরীক্ষার আগে বহু ছাত্র-ছাত্রী ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছে নাচ অথবা গান কিংবা আঁকা।

চন্দন সেনগুপ্ত : কলকাতা: গত ১০ বছরে দেশ জুড়ে সরকারী স্কুল বন্ধ হয়েছে লক্ষাধিক, যার মধ্যে বাংলায় বন্ধ হয়েছে ৮ হাজার বাংলা মাধ্যম স্কুল (Bengali Medium school)। অন্য দিকে শহরে, মফস্বলে, গ্রামে, গঞ্জে গজিয়ে উঠছে ইংরেজী (English medium school) মাধ্যম স্কুল। রাজ্যের সরকারী স্কুলগুলিতে নিয়োগ নিয়ে যে ব্যাপক দুর্নীতির খবর সামনে এসেছে, শিক্ষকদের কার্যত রাস্তায় নেমে আসতে হয়েছে একশ্রেণীর আমলা, রাজনৈতিক নেতাদের দুর্নীতির প্রভাবে। এবার রাজ্যের শিক্ষা দপ্তর একটি অভিনব সিদ্ধান্ত নিয়ে পড়ুয়াদের আবার সরকারী স্কুল মুখী করতে চাইছে। রাজ্যের শিক্ষা দপ্তরের সূত্রে জানা গেছে চলতি বছর থেকে প্রাথমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে গান, নাচ, নাটক, আবৃত্তি বা রকমারি কাগজ দিয়ে নানা আকৃতি তৈরি করার প্রশিক্ষণ। বলে রাখা ভালো বাংলা মাধ্যম স্কুলগুলিতে কোন কালেই পাঠ্যক্রমে এ বিষয়গুলি ছিল না। প্রথাগত পাঠক্রমের বাইরে নাচ গান অথবা আঁকা শেখার ক্ষেত্র সীমাবদ্ধ ছিল। ফলতঃ মাধ্যমিক বা উচ্চমাধ্যমিকের মতো বড় পরীক্ষার আগে বহু ছাত্র-ছাত্রী ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় নাচ অথবা গান কিংবা আঁকা প্রশিক্ষণ।
শিক্ষা দফতরের নতুন সিদ্ধান্ত, বিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচিতে এবার নাচ-ছবি আঁকা -গানে মিলবে নম্বর। অর্থাৎ চারুকলাকে এবার পাকাপাকি ভাবে সিলেবাসের ভিতরে ঢুকিয়ে নিতে চাইছে সরকার, এবং বার্ষিক মূল্যায়নে যুক্ত হবে এই কো-কারিকুলাম-এর নম্বরও। আর এতে আশার আলো দেখছেন শিক্ষকেরা।কারণ এই “এক্সট্রা কারিকুলাম এক্টিভিটি” ইতিমধ্যেই ইংরাজী মাধ্যম স্কুলগুলিতে যথেষ্ট জনপ্রিয়। তবে প্রশ্ন উঠছে রাজ্যের সমস্ত স্কুলগুলিতে যদি এই নৃত্য, সংগীত, অঙ্কন, আবৃত্তি সহ অন্যান্য “এক্সট্রা কারিকুলাম এক্টিভিটি” চালু করা হয়, তাহলে যে বিপুল সংখক প্রশিক্ষিত শিক্ষক, শিক্ষিকার প্রয়োজন পড়বে, তাদের কিভাবে পাওয়া যাবে ? সে প্রশ্নের জবাবে শিক্ষা দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে “ডিএলএড বা বিএড-এর সময় শিক্ষকেরা এই বিষয়ে প্রাথমিক ভাবে প্রশিক্ষণ নেন। তারা ছাত্রছাত্রীদের এই বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিতে পারবেন।” তবে গোটা বিষয়টি নিয়ে এখনই কোনো স্থির সিদ্ধান্তে আসা উচিৎ হবে না, কারণ রাজ্যের শিক্ষা ক্ষেত্রে নিয়োগ প্রক্রিয়া এখন পুরোটাই আদালতে বিচারাধীন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *