” সিস্টার্স অ্যান্ড ব্রাদার্স অফ আমেরিকা” এবং শোভাবাজার রাজবাড়ী
১৮৯৭ খ্রিস্টাব্দে সেই সাড়া ফেলে দেওয়া ভাষণের পর ১৮ই ফেব্রুয়ারি মুমবাসা জাহাজে করে মাদ্রাজ থেকে বজবজ বন্দরে এসে পৌঁছন বিবেকানন্দ।আর তার ঠিক ১০ দিন পর ২৮ শে ফেব্রুয়ারি কলকাতায় স্বামী বিবেকানন্দের প্রথম নাগরিক সংবর্ধনা আয়োজিত হয় শোভাবাজার রাজবাড়িতে। আর এদিন সাড়ম্বরে সেই বিশেষ দিনটির ১৩০ তম বার্ষিকী উদযাপিত হলো রাজবাড়ী প্রাঙ্গনে।
” সিস্টার্স অ্যান্ড ব্রাদার্স অফ আমেরিকা”- এই শব্দগুলি শুধুমাত্র স্বামী বিবেকানন্দের শিকাগো ধর্ম মহাসভায় দেওয়া বক্তৃতার অংশই নয়। বরং এর সাথে জড়িয়ে আছে আপামর ভারতবাসীর আবেগ আর একরাশ গর্ব। বিশ্বের দরবারে সনাতন হিন্দু ধর্মের কথা তুলে ধরতে গিয়ে ধর্মীয় সহিষ্ণুতার বার্তা দিয়েছিলেন সকলের নরেন। আর ১৮৯৭ খ্রিস্টাব্দে সেই সাড়া ফেলে দেওয়া ভাষণের পর ১৮ই ফেব্রুয়ারি মুমবাসা জাহাজে করে মাদ্রাজ থেকে বজবজ বন্দরে এসে পৌঁছন বিবেকানন্দ।আর তার ঠিক ১০ দিন পর ২৮ শে ফেব্রুয়ারি কলকাতায় স্বামী বিবেকানন্দের প্রথম নাগরিক সংবর্ধনা আয়োজিত হয় শোভাবাজার রাজবাড়িতে। আর এদিন সাড়ম্বরে সেই বিশেষ দিনটির ১৩০ তম বার্ষিকী উদযাপিত হলো রাজবাড়ী প্রাঙ্গনে। প্রসঙ্গত দুর্গাপুজো আর শোভাবাজার রাজবাড়ী একে অপরের সমার্থক। আর সেই সূত্রে বহু বিখ্যাত ব্যক্তিত্বদের স্মৃতিধন্য উত্তর কলকাতার এই ঐতিহ্যবাহী স্থানটি। তবে শুধুমাত্র বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব নয়, বরং বাংলা ছাড়িয়ে গোটা ভারতবর্ষের গর্ব স্বামী বিবেকানন্দের সঙ্গেও ছড়িয়ে আছে এই স্থানের নাম। ইতিহাস বলছে, ১৮৯৭ র ২৮ শে ফেব্রুয়ারি শিকাগো থেকে ফিরে আসার পর শোভাবাজার রাজবাড়িতে মহাসমারোহে অভর্থ্যনা জানায় হয় স্বামীজিকে। আর সেই অনুষ্ঠানে স্বামীজীও অভিনন্দন সূচক ভাষণ দেন, যেটি স্বামী বিবেকানন্দের বাণী ও রচনার পঞ্চম খন্ড প্রথম সংস্করণ ১৩৬৯’র ২০৪ থেকে ২১৮ পৃষ্ঠার মধ্যে লেখা আছে। আর এদিন সেই বিশেষ দিনের উদযাপনে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা,১০ নম্বর ওয়ার্ডের পৌর পিতা সুব্রত ব্যানার্জি, আর জি কর মেডিকেল কলেজের প্রিন্সিপাল মানস বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিনের অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন গোলপার্কের রামকৃষ্ণ মিশন ইনস্টিটিউট অফ কালচারের বিবেকানন্দ আর্কাইভসের ভারপ্রাপ্ত প্রধান স্বামী বেদস্বরূপানন্দজি। সবমিলিয়ে স্বামীজীর প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ নিবেদন এবং তাঁর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের দিনটিকে উদযাপন করতে আলোর মালায় সেজে ওঠে শোভাবাজার রাজবাড়ী।



