ভিডিও

কোচবিহার থেকে দক্ষিণেশ্বর, দন্ডি কেটে মা ভবতারিণীর দরবারে ভক্ত !

কোচবিহার থেকে NH-12 ধরে বেলঘরিয়া এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে দক্ষিণেশ্বর মন্দিরে আসেন তিনি। বলা ভালো দন্ডি কাটতে কাটতে আসেন বিভাসবাবু।স্বাভাবিকভাবেই দীর্ঘ সাত মাসের যাত্রা মোটেই সহজ ছিল না তাঁর। কখনো শরীর খারাপ হয়েছে, কখনো বা নিজেই কোনোক্রমে রান্না করে খেয়েছেন আবার কখনো সখনো সহৃদয় ব্যক্তির বাড়িতে মিলেছে খাবারের সংস্থান।

একেই বোধহয় বলে বিশ্বাসে মিলায় বস্তু তর্কে বহুদূর। সুদূর কোচবিহার (CoochBehar) থেকে দন্ডি কেটে দক্ষিনেশ্বর মন্দিরে (Dakshineswar Temple) যাওয়া মুখের কথা নয়। তবে এই আপাত অসম্ভবকেই ভক্তি এবং বিশ্বাসের জোরে সম্ভব করলেন বিভাস চক্রবর্তী।দীর্ঘ সাত মাসের কঠিন যাত্রা শেষে এদিন দক্ষিনেশ্বর পৌঁছেছেন তিনি। প্রসঙ্গত গত বছর ১৯ শে জুলাই কোচবিহার পুন্ডিবাড়ি থেকে যাত্রা শুরু করেন তিনি। সঙ্গী ছিল একটি ব্যাগ আর একরাশ অদম্য ইচ্ছাশক্তি।
ময়নাগুড়ির জল্পেশ শিব মন্দিরে পুজো দিয়ে দন্ডি কাটা শুরু করেন তিনি। লক্ষ্য একটাই – দক্ষিণেশ্বরে মা ভবতারিনীর কাছে পুজো দেওয়া। সর্বোপরি তাঁকে দর্শন করা। পেশায় লোহা ব্যবসায়ী বিভাসবাবুর বাড়িতে রয়েছেন তাঁর স্ত্রী,মা ও দাদা। আর তাঁর এই দীর্ঘ যাত্রায় নানান সময়ে শামিল হয়েছেন নানান জন।

কোচবিহার থেকে NH-12 ধরে বেলঘরিয়া এক্সপ্রেসওয়ে (Belgharia Expressway) হয়ে দক্ষিণেশ্বর মন্দিরে আসেন তিনি। বলা ভালো দন্ডি কাটতে কাটতে আসেন বিভাসবাবু।স্বাভাবিকভাবেই দীর্ঘ সাত মাসের যাত্রা মোটেই সহজ ছিল না তাঁর। কখনো শরীর খারাপ হয়েছে, কখনো বা নিজেই কোনোক্রমে রান্না করে খেয়েছেন আবার কখনো সখনো সহৃদয় ব্যক্তির বাড়িতে মিলেছে খাবারের সংস্থান। দীর্ঘ আট মাসে কখনো ঝড়- বৃষ্টি কখনো বা কাঠফাটা রোদ তো আবার কখনো কনকনে ঠান্ডার প্রকোপ সেসব কিছুকেই উপেক্ষা করেই নিজের লক্ষ্যে অবিচল থেকেছেন কোচবিহারের বিভাস চক্রবর্তী। উল্লেখ্য এই প্রথম এমন কঠোর সাধনায় ব্রতী হয়েছেন তিনি। সুদূর উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ। হাজারো সমস্যাকে ফুৎকারে উড়িয়ে শেষমেশ মায়ের মন্দিরে পৌঁছন বিভাসবাবু। জয় হলো ভক্তির এবং বিশ্বাসের। তবে সবশেষে যে প্রশ্নটা আপনার মনে আসতে পারে তা হলো হঠাৎ এমন এক সিদ্ধান্ত কেন নিলেন তিনি ? সেই প্রসঙ্গে বিভাস বাবুর সহজ উত্তর ” মা ডেকেছে, ছেলে যাচ্ছে।”
প্রযুক্তিবিদ্যার ডানায় ভর করে আমরা যখন চাঁদে যাওয়ার স্বপ্ন দেখি তখন ঈশ্বরের প্রতি পরম ভক্তিতে অসাধ্য সাধন করলেন কোচবিহারের যুবক। আস্তিক ও নাস্তিকদের মধ্যে চিরদ্বন্দ্ব বরং বিতর্কের বাক্সে তোলা থাক। কারণ সেসবের ঊর্ধে এক অসামান্য ধৈর্যশক্তির পরিচয় দিলেন বিভাসবাবু। আর দক্ষিনেশ্বর মন্দির সাক্ষী থাকলো এক ভক্তের ইচ্ছাপূরণের।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *