দোলের আনন্দের মাঝে আতঙ্ক কামারহাটীর আবাসনে, মদ্যপদের হাতে আক্রান্ত পুলিশ !
দোলের দুপুরে কার্যত ধুন্ধুমার কান্ড বাঁধলো কামারহাটি পৌরসভার ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত ২৯ নম্বর নিউ বাসুদেবপুর রোডের বজরং আবাসনে। জানা গিয়েছে, আক্রান্ত পুলিশকর্মীর নাম পার্থ দে। আবাসদিকদের দাবি,প্রথমে আবাসনেরই এক মহিলাকে মারধর করে তারা।এরপর চড়াও হয় পুলিশকর্মী পার্থ দে'র ওপর। বেধড়ক মারধর করা হয় তাঁকে।

দোলের আনন্দের মাঝেই আতঙ্কের ছায়া কামারহাটির আবাসনে। প্রকাশ্য দিবালোকে এক পুলিশকর্মীকে তার নিজের আবাসনের মধ্যেই বেধড়ক মারধর করার অভিযোগ উঠলো এলাকারই বেশ কয়েকজন যুবকের বিরুদ্ধে। এমনকি ওই আবাসনের এক মহিলাকেও মারধর এবং আক্রান্ত পুলিশকর্মীর মেয়েকে হুমকিও দিয়েছে অভিযুক্তরা – এমনটাই দাবি আবাসিকদের। সবমিলিয়ে দোলের দুপুরে কার্যত ধুন্ধুমার কান্ড বাঁধলো কামারহাটি পৌরসভার ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত ২৯ নম্বর নিউ বাসুদেবপুর রোডের বজরং আবাসনে। জানা গিয়েছে, আক্রান্ত পুলিশকর্মীর নাম পার্থ দে। তিনি কলকাতা পুলিশে কর্মরত এবং বজরং আবাসনে পরিবার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বাস করছেন। এদিন নাইট ডিউটি সেরে বেলার দিকে বাড়ি ফেরেন পার্থ বাবু। রঙের উৎসবের দিন অন্যান্যদের মতো তিনিও ভেবেছিলেন দোল খেলবেন। সেই মতো তাদের আবাসনের ছাদেই বাকি আবাসিকদের সঙ্গে তিনিও উৎসবের মেতে উঠেছিলেন।চলছিল রঙ খেলাও। আর তার মাঝে আবাসনেরই একটি নির্দিষ্ট জায়গায় তিনি বাথরুম করতে যান। অভিযোগ, সেই সময় অন্য আবাসনের ছাদ থেকে বেশ কয়েক জন মদ্যপ যুবক তাকে কটূক্তি করতে থাকে। সেই সঙ্গে তাকে সেখান থেকে চলে যেতেও বলে তারা। এ ঘটনার প্রতিবাদ করলে কিছুক্ষনের মধ্যেই বজরং আবাসনে আসে ওই যুবকেরা। আবাসদিকদের দাবি,তারপরই প্রথমে আবাসনেরই এক মহিলাকে মারধর করে তারা।এরপর চড়াও হয় পুলিশকর্মী পার্থ দে’র ওপর। বেধড়ক মারধর করা হয় তাঁকে।
ইতিমধ্যেই গোটা ঘটনার প্রেক্ষিতে বেলঘরিয়া থানায় জনৈক সম্রাটের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তবে পুলিশকর্মীর পরিবারে এখনো আতঙ্কের প্রহর। কারণ, পার্থ দে’র আরও অভিযোগ, এদিন অন্য আবাসনের মদ্যপ যুবকদের তান্ডব থেকে রেহাই পায়নি তার মেয়েও। তাকেও হেনস্থা করা হয়েছে। সেই সঙ্গে তিনি ও আবাসনের অন্যান্য বেশ কয়েকজন বাসিন্দা যখন থানায় অভিযোগ দায়ের করতে যান তখন তার ছেলে ও স্ত্রীকেও হুমকি দেয় অভিযুক্তরা। উৎসবের দিনের অশান্ত পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে। তবুও উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা পিছু ছাড়ছে না পার্থ দে সহ তার গোটা পরিবার এবং তার আবাসনের বাকি বাসিন্দাদেরও। আক্রান্ত আবাসিক পুতুল রায় চক্রবর্তীর প্রশ্ন – “ওনার ভয়ে কি তাহলে এবার থেকে তাদের বাড়িতে তালা দিয়ে বসে থাকতে হবে আমাদের ?”
পুলিশ প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন আতঙ্কিত আবাসিকেরা। এদিনের ঘটনার বিচার চান তারা। তবে নিজের আবাসনেই আক্রান্ত পুলিশকর্মী। দিনেদুপুরে অন্য আবাসনে ঢুকে সেখানকার বাসিন্দাদের মারধর করে বেরিয়ে গেলো এক দল যুবক ! অভিযোগ অন্তত তেমনটাই। ভোটের মুখে অরাজকতার শিকার পুলিশকর্মী। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে উপযুক্ত পদক্ষেপ কবে নেওয়া হয় এবং আবাসিকদের আতঙ্কের দিন কবে শেষ হয় সেটাই এখন দেখার।



