ভিডিও

পানিহাটী জুড়ে হাজার খানেক বৈধ ভোটারের নাম বাদ দেবার অভিযোগ কমিশনের বিরুদ্ধে, প্রস্তুতি সুপ্রিম কোর্টে যাবার

১১১ পানিহাটী বিধানসভার ২৯নম্বর ওয়ার্ডের ১৫১নম্বর রামকৃষ্ণপুর মিতালি সংঘের বুথে বিশ্বাস বাড়িতে অবিশ্বাস্য ভাবে বাদ পড়েছে বাড়ির ৩ছেলে এবং তাদের মায়ের নাম। কিন্তু জ্বলজ্বল করছে পিতা ও পুত্রবধূর নাম। অথচ বাড়ির ৩ ছেলেই উচ্চ শিক্ষিত, প্রত্যেকের ব্যর্থ সার্টিফিকেট রয়েছে। রয়েছে অন্যান্য বৈধ কাগজপত্র, যেগুলি এস আই আর পর্বে নির্বাচন কমিশন চেয়েছিলো।

নিজস্ব সংবাদদাতা : পানিহাটি: নির্বাচন কমিশন এস আই আর পর্বের শেষে প্রকাশ করেছে ভোটার তালিকা, যদিও এই ভোটার তালিকাকে এখনও পর্যন্ত চূড়ান্ত বলে ঘোষণা করা হয় নি, প্রায় ৬০লক্ষ ভোটারের নামে স্ট্যাম্প পড়েছে আন্ডার এজুডিকেশন। তাদের ভাগ্য এখন মহামান্য বিচাপতিদের হাতে। কিন্তু ২৮শে ফেব্রুয়ারী ২০২৬ তারিখে যে তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন, তাতে নতুন করে বাদ পড়েছে ৫লক্ষ ৪৬ হাজার ০৫৩জনের নাম। অভিযোগ বাদ পড়া নামের তালিকায় এমন মানুষ প্রচুর রয়েছেন যারা প্রকৃত অর্থেই বৈধ ভোটার। যেমন ধরুন ১১১ পানিহাটী বিধানসভার ২৯নম্বর ওয়ার্ডের ১৫১নম্বর রামকৃষ্ণপুর মিতালি সংঘের বুথে এই বিশ্বাস বাড়িতে অবিশ্বাস্য ভাবে বাদ পড়েছে বাড়ির ৩ছেলে এবং তাদের মায়ের নাম। কিন্তু জ্বলজ্বল করছে পিতা ও পুত্রবধূর নাম। অথচ বাড়ির ৩ ছেলেই উচ্চ শিক্ষিত, প্রত্যেকের ব্যর্থ সার্টিফিকেট রয়েছে। রয়েছে অন্যান্য বৈধ কাগজপত্র, যেগুলি এস আই আর পর্বে নির্বাচন কমিশন চেয়েছিলো। বাদ পড়ে যাবার পর হতবাক অমিত বিশ্বাস স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, নির্বাচন কমিশনের নিয়ম মেনে তারা অব্যশই বিষয়টি পুনঃবিবেচনার জন্য আবেদন করবেন, কিন্তু তাতে কোনও সদর্থক ফল না পেলে তারা সুপ্রিম কোর্টে যাবেন, ন্যায্য বিচার পাবার জন্য। নাম বাদ পড়া আর এক ভাই সুমিত বিশ্বাসের মন্তব্য “নির্বাচন কমিশন এখন নির্যাতন কমিশন হয়ে গেছে”। বিশ্বাস বাড়ি থেকে বার হয়ে পথে দেখা হয়ে গেলো ঐ বুথের আর এক ভোটার অন্জু চৌধুরীর সাথে, তিনি চিন্তিত, কারণ প্রকাশিত তালিকায় তার ও তার ছেলের নাম থাকলেও বাদ গেছে তার স্বামীর নাম। ওই পাড়ারই আর এক বাসিন্দা তার নাম বাদ পড়েছে জানার পর, হাতে নির্বাচন কমিশন যে সমস্ত কাগজপত্র চেয়েছিলো বৈধ ভোটারদের কাছ থেকে, তা সমস্ত নিয়ে হাজির ভোট কেন্দ্রে, সত্যজিৎ চক্রবর্তী নামের ওই যুবকের অভিযোগ, সমস্ত নথী দিয়েই তিনি এস আই আর ফর্ম পূরণ করেছিলেন, তারপরেও নাম বাদ চলে যাবার ফলে তিনি এখন বুঝতেই পারছেন না কি করা উচিৎ , কারন ভারপ্রাপ্ত বি এল ও `র কাছ থেকে তিনি কোনও সদর্থক উত্তর পান নি।

পেশায় ছিলেন পানিহাটী পৌরসভার স্থায়ী কর্মী, ২০০২ সালেও তার নাম ছিল নির্বাচক তালিকায়, করেছেন ইলেকশন ডিউটিও, বর্তমানে অবসর প্রাপ্ত সরকারী কর্মী সুবিমল চক্রবর্তীর নাম বলতে গেলে সপরিবারে আন্ডার এজুডিকেশনে, যার মানে দোদুল্যমান পরিস্থিতিতে, অবসরের পরে বিষয়টিকে হেনস্থা হিসেবেই দেখছেন তিনি।
বিষয়টি নিয়ে সিপিআইএমের উত্তর ২৪পরগণা জেলা কমিটির সদস্য শুভব্রত চক্রবর্তী জানালেন, নির্বাচন কমিশনের এই তুঘলকী তালিকার বিরুদ্ধে তারা পথে নেমে মানুষের পাশে থাকবেন, আর যদি কোন অঘটন ঘটে, তার দায় নিতে হবে কমিশনকেই।
যে অঞ্চলকে নিয়ে আজকের এই প্রতিবেদন, পানিহাটীর সেই ২৯নম্বর ওয়ার্ডের পৌরপিতা অরিন্দম বিশ্বাসের কথায় “কোনও বৈধ ভোটারের নাম বাদ দেয়া চলবে না, তা তিনি যে রাজনীতিই করুন না কেন।
সব শেষে জানিয়ে রাখি পানিহাটী বিধানসভায় ৩৫হাজার ৬৬৪জনের নাম বাদ পড়েছে এই এস আই আর পর্বে, নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছে ১হাজার ১৪৮ জন, মোট ভোটার সংখ্যা এ মুহূর্তে ১লক্ষ ৯৭হাজার ১৪১জন, তবে এখনও হিসেবের বাইরে হাজার হাজার আন্ডার এজুডিকেশনে নাম থাকা ভোটারের নাম।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *