পানিহাটীতে বাবার রেকর্ড ভাঙাই এবার তীর্থঙ্করের চ্যালেঞ্জ
পানিহাটীর আনাচ কানাচ তার হাতের তালুর মত চেনা। সঙ্গে রয়েছে ৩৩জন পৌর প্রতিনিধি সহ পানিহাটীর যুব সমাজের একটা বৃহৎ অংশ। ১১ বছর ধরে সফল ভাবে পানিহাটী উৎসব ও বইমেলা পরিচালনা করার অভিজ্ঞতা আরও ঋদ্ধ করেছে তীর্থঙ্করের জনপ্রিয়তা।
মৃত্তিকা সেনগুপ্ত,পানিহাটী: স্কুল জীবনের শুরুটা রহড়া (Rahara) রামকৃষ্ণ মিশনে, তারপর একটি বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে বি-টেক ডিগ্রী, জীবনে হতেই পারতেন একজন সফল পেশাজীবী। কিন্তু পারিবারিক ঐতিহ্য তাকে টেনে নামালো রাজনীতির ময়দানে। কলেজে পড়ুয়া থাকাকালীনই ছাত্র পরিষদে যোগদান, পরে লেখাপড়া শেষে সর্বক্ষণের রাজনৈতিক কর্মী। ছোটবেলা থেকেই বাড়িতে সারাদিন রাজনীতির চর্চা। বাবা (Nirmal Ghosh) ৫বারের বিধায়ক, কাকা একাধিকবার নির্বাচিত পৌরপ্রতিনিধি এবং পৌরপ্রধান থাকাকালীনই করোনা আক্রান্ত হয়ে অকালে মৃত্যু। ২ দিদিও সক্রিয় ভাবে রাজনীতিতে, ২জনেই প্রাক্তন পৌর প্রতিনিধি। ছোটদিদি ( Tandra Ghosh) বর্তমানে দলের মহিলা শাখার রাজ্য সম্পাদিকা। এহেন পরিবেশে বড় হয়ে একজন নেতা হতে গেলে যে সমস্ত বিশেষত্ব লাগে, তার সবটাই বিদ্যমান পানিহাটী বিধানসভার ২০২৬এর নির্বাচনে ( Assembly Election) তৃণমূলের (TMC) প্রার্থী তীর্থঙ্কর ঘোষের মধ্যে। দীর্ঘ ছাত্র রাজনীতি, তারপর যুব আন্দোলনের সফল মুখ, পৌর প্রশাসক হিসেবেও সফলতার শেষে এসেছে বিধায়ক পদে দাঁড়ানোর সুযোগ। কিন্তু ৫বার বিধায়কের ছেলে হিসেবে নিতে হচ্ছে বাড়তি চাপ। কথায় কথায় মুখোমুখি হতে হচ্ছে বাবার সঙ্গে তুলনার। কিন্তু দীর্ঘ পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্য তাকে করে তুলেছে পরিণত রাজনীতিবিদ। পানিহাটির (Panihati) আনাচ কানাচ তার হাতের তালুর মত চেনা। সঙ্গে রয়েছে ৩৩জন পৌর প্রতিনিধি সহ পানিহাটীর যুব সমাজের একটা বৃহৎ অংশ। ১১ বছর ধরে সফল ভাবে পানিহাটী উৎসব ও বইমেলা পরিচালনা করার অভিজ্ঞতা আরও ঋদ্ধ করেছে তীর্থঙ্করের জনপ্রিয়তা। সাথে রয়েছে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের (Loksabha Election) নিরিখে পানিহাটীতে ১২হাজার ৪৩৫ভোটের লিড। আর প্রচারে নেমে ভোটারদের কাছে অত্যন্ত বিনয়ের সাথে আলাপচারিতা, প্রত্যাশা বাড়াচ্ছে আরও। ২০২১এর নির্বাচনে নির্মল ঘোষ পানিহাটী থেকে ৮৬হাজার ৪৯৫ ভোট পেয়ে ২৫হাজার ১৭৭ ভোটে জয়ী হয়েছিলেন। এখন দেখার বাবার ব্যবধান তীর্থঙ্কর ছাপিয়ে যেতে পারেন কি না ?



