উত্তর দমদমে “হেভি ওয়েটের বদল চাই” স্লোগান তুলে বাড়ি বাড়ি ঘুরছেন দীপ্সিতা
অতীতের পরিসংখ্যান ঘেঁটে এটা বলাই যায়, উত্তর দমদম বিধানসভা আসনটিকে কোনও দলের শক্ত ঘাঁটি বলার সময় এখনও আসে নি। আর বিজেপির ভোট এখানেও বাম নির্ভর।
নিজস্ব সংবাদদাতা : উত্তর দমদম (Dumdum Uttar) বিধানসভার বয়স বেশী নয়। ২০১১`র বিধানসভা ভোটের আগে ডিলিমিটেশনে উত্তর দমদম ও নিউ ব্যারাকপুর পৌরাঞ্চল নিয়ে তৈরী হয় উত্তর দমদম বিধানসভা আসনটি। ২০১১ সালে পরিবর্তনের ভোটে এই আসনের ১ম নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, জিতেই তিনি রাজ্য মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী হন, কিন্তু ২য় বারেই, মানে ২০১৬’র ভোটে মন্ত্রীকে হারিয়ে এ আসনের দখল নিয়েছিলো CPIM। তন্ময় ভট্টাচার্য ছিলেন এ আসনের ২য় বিধায়ক। ২০২১ এ আবার নির্বাচিত হন সেই চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, বর্তমানে তিনি রাজ্য মন্ত্রীসভার ২য় গুরুত্বপূর্ণ বা অর্থমন্ত্রকের দায়িত্ব প্রাপ্ত মন্ত্রী। এবার উত্তর দমদমে তার সাথে লড়াই বামেদের সর্ব ভারতীয় ছাত্র নেত্রী দীপ্সিতা ধরের (Dipsita Dhar)। সুতরাং ইতিহাস বলছে, এই উত্তর দমদমে কোনও দলই নিরঙ্কুশ নয়। এই আবহে গত লোকসভা ভোটে শ্রীরামপুরে জবরদস্ত লড়াই দেওয়া দীপ্সিতা সিপিআইএম প্রার্থী (CPIM) হিসেবে মনোনয়ন পাবার পর থেকেই কার্যত মাটি কামড়ে প্রচার শুরু করে দিয়েছেন বিধানসভা অঞ্চল জুড়ে। পরিসংখ্যান বলছে উত্তর দমদম পৌরাঞ্চলে বামেদের শক্তি যথেষ্ট থাকলেও নিউ বারাকপুরে ততটা জোরালো নয় বামেদের সংগঠন। ফলে দীপ্সিতা ধর শুরু থেকেই সেই পরিসংখ্যান মাথায় রেখে প্রতিটি বাড়ি ঘুরে ঘুরে চালাচ্ছেন তার জনসংযোগের কাজ।প্রতিপক্ষ হিসেবে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য যথেষ্টই শক্তিশালী, ফলে দীপ্সিতা ধরের প্রচারের মূল স্লোগান হলো “হেভি ওয়েটের বদল চাই”। তা না হলে বাঁচানো যাবে না বাংলাকে।
সব মিলিয়ে অতীতের পরিসংখ্যান ঘেঁটে এটা বলাই যায়, উত্তর দমদম বিধানসভা আসনটিকে কোনও দলের শক্ত ঘাঁটি বলার সময় এখনও আসেনি। আর বিজেপির ভোট এখানেও বাম নির্ভর। মানে যত বাম ভোট কেটে রামে যায়, ততটাই ভোট বাড়ে বিজেপির। সে ক্ষেত্রে দীপ্সিতা ধর যদি দলের হারানো ভোট আবার নিজেদের অনুকূলে নিয়ে আসতে পারেন, তাহলে উত্তর দমদম কার পক্ষে যাবে ৪ঠা মে, সেটা কিন্তু বলা যাচ্ছে না এখনই।


