ভোটের আবহে হাওড়ায় রক্তাক্ত ভোর, গুলিতে খুন যুবক
কলকাতার পর হাওড়া,ভোটের আগে প্রকাশ্যে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে যুবক খুন,তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা, প্রশ্নের মুখে আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা
কাঁকুলিয়া, তিলজলার পর এবার হাওড়া (Howrah)। বিধানসভা নির্বাচনের আগে গুলি চালিয়ে খুনের ঘটনায় অশান্তির উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে জেলায় জেলায়। গত ১লা ফেব্রুয়ারী রাতে কাঁকুলিয়া রোডে বোমা-গুলি চলেছিলো। এরপর সোমবার গভীর রাতে তিলজলা রোডে বছর তেইশের এক যুবকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। ভোটের আগে শহর কলকাতায় (Kolkata) ঘটা এই ২টি ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের বুধবার ভোরে ফের শ্যুট আউটের (Shootout) ঘটনা ঘটলো কলকাতা সংলগ্ন হাওড়া শহরের গোলাবাড়ি-পিলখানা এলাকায়। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, ভোর সাড়ে ৪টের কিছু আগে প্রকাশ্যে ‘পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক’ রেঞ্জ থেকে এক যুবককে লক্ষ্য করে গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। বছর ২৭`র নিহত যুবকের নাম সৌফিক খান। প্রোমোটারি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলো। এলাকার একটি চায়ের দোকানের সামনে থাকা সিসিটিভি (CCTV) ক্যামেরায় হাড়হিম করা সেই ঘটনার ছবি প্রকাশ্যে এসেছে। ফুটেজে দেখা গেছে, ঘটনাস্থলে সৌফিকের সঙ্গে দাঁড়িয়ে দু’জন কথা বলছিলো। আশেপাশে আরো কয়েকজন ছিলো। কথাবার্তা চলাকালীন আচমকাই এক যুবক বন্দুক বার করে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক’ রেঞ্জ থেকে একাধিক বার গুলি চালায় সৌফিককে। সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে সৌফিক লুটিয়ে পড়লে অপর যুবকও তাকে লক্ষ্য গুলি ছোড়েন। ফুটেজে আরও দেখা যাচ্ছে যে, হামলার পর অভিযুক্তরা কোনোরকম তাড়াহুড়ো না করে স্বাভাবিক ভঙ্গিতেই এলাকা ছাড়ছে। আর এই দৃশ্য ঘিরেই হাওড়ার মতো শিল্পাঞ্চল এলাকায় নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। আতঙ্কিত স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রকাশ্যে খুন করে অপরাধীরা যদি এত নির্ভয়ে চলে যেতে পারে, তা হলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় গোলাবাড়ি থানার পুলিশ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়ালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়। মৃতের পরিবারের দাবি, হারুন খান এবং রোহিত নামে দুই যুবক অনেকদিন ধরেই ওকে টাকা দেওয়ার জন্য চাপ দিছিলো। টাকা না দেওয়াতে তারাই গুলি করেছে সৌফিককে। গুলিকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছোন ওই এলাকার প্রাক্তন কাউন্সিলর মহম্মদ রুস্তম। এলাকায় পুলিশী নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলেছেন প্রাক্তন কাউন্সিলর।
সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে খুনের ঘটনায় পলাতক অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশী চালাচ্ছে পুলিশ। কি কারণে, আরও কারা এই খুনের ঘটনায় যুক্ত রয়েছে তার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশের উচ্চ পদস্থ আধিকারিকেরা। এক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, সব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ব্যক্তিগত শত্রুতা, আর্থিক লেনদেন, রাজনৈতিক কারণ-কোনও সম্ভাবনাই উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।
নির্বাচনের দোরগোড়ায় একের পর এক গুলি চলার ঘটনায় যেমন রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে তেমনি আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাও প্রশ্নের মুখে।



