কামারহাটীতে আবার ‘লাভলী বয়’ মদন
২০১১র পরিবর্তনের নির্বাচনে কামারহাটীর মসনদে আসীন হয়েছিলেন ভবানীপুরের ভূমিপুত্র, দলের প্রতিষ্ঠার দিন থেকে মমতা ব্যানার্জীর ছায়া সঙ্গী মদন মিত্র। কিন্তু ২০১৪তেই ছন্দপতন, আজও অমীমাংসিত সারদা মামলার অন্যতম অভিযুক্ত হিসেবে গ্রেপ্তার হন তিনি, জেলে থাকলেও ২০১৬`র নির্বাচনেও তার উপরেই ভরসা রেখেছিলেন মমতা ব্যানার্জী
চন্দন সেনগুপ্ত : শেষ পর্যন্ত নিজের অনুগত সৈনিককে বাদ দিতে পারলেন না দিদি মমতা ব্যানার্জী, ভোটের বহুদিন আগে থেকেই প্রচার ছিল কামারহাটীতে এবার আর মদন নয়, পিছনে ছিলো বিস্তর কারণ। স্থানীয় সাংসদ সৌগত রায়কে বারংবার প্রকাশ্যে কটু কথা বলা থেকে একাধিকবার আলপটকা মন্তব্য করে দলকে অস্বস্থিতে ফেলা ইত্যাদি কারণে এই মদন মিত্র সতর্কিত হয়েছেন বহুবার, দল তাকে ভর্ৎসনা করেছে, মুখ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। কিন্তু ভবানীপুরের লাভলী বয় নিজের মতো করেই বিধায়ক হিসেবে কাজ চালিয়ে গেছেন কামারহাটীতে। কিন্তু গতকাল তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হতেই দেখা গেলো, অন্য কেউ নন, কামারহাটীতে মমতা ব্যানার্জী ফের ভরসা রেখেছেন সেই বিতর্কিত মদন মিত্রের উপরেই, আর নাম ঘোষণা হতেই তার অনুগামীরা তুমুল উৎসাহে নেমে পড়লেন তাদের দাদাকে নিয়ে প্রচারে। বেলঘরিয়ার জগন্নাথ মন্দির থেকে শুরু হয়ে কামারহাটীর বিভিন্ন এলাকায় ১ম দিনেই প্রচার সারলেন মদন মিত্র।
সিপিআইএমের মানস মুখার্জীকে কোনও প্রতিপক্ষ হিসেবে মানতে নারাজ মদন মিত্র জানিয়ে দিলেন, তিনি প্রার্থী হবার আনন্দে আজ কামারহাটী উচ্ছাসে ভাসছে।
২০১১র পরিবর্তনের নির্বাচনে কামারহাটীর মসনদে আসীন হয়েছিলেন ভবানীপুরের ভূমিপুত্র, দলের প্রতিষ্ঠার দিন থেকে মমতা ব্যানার্জীর ছায়া সঙ্গী মদন মিত্র। কিন্তু ২০১৪তেই ছন্দপতন, আজও অমীমাংসিত সারদা মামলার অন্যতম অভিযুক্ত হিসেবে গ্রেপ্তার হন তিনি, জেলে থাকলেও ২০১৬`র নির্বাচনেও তার উপরেই ভরসা রেখেছিলেন মমতা ব্যানার্জী, কিন্তু সে নির্বাচনে মদন মিত্র হেরে যান সিপিআইএম প্রার্থী মানস মুখার্জীর কাছে, তারপর জামিনে মুক্তি, ২০২১এ আবার কামারহাটীতেই প্রার্থী, তবে সেবার আর মানস নয়, সিপিআইএম প্রার্থী করেছিলো নবীন মুখ সায়নদীপ মিত্রকে। সে বার ৩৫হাজার ২৫৬ভোটে জয় ছিনিয়ে নেন মদন। কিন্তু এবার ময়দানে কামারহাটীর পুরানো চাল মানস মুখার্জী। দেখার সেয়ানে সেয়ানে লড়াইয়ে শেষ হাসি কে হাসে।



