পানিহাটীতে তৃণমূল কাউন্সিলরের মানবিক মুখ
বাসস্ট্যান্ডে পড়ে থাকা বিশেষভাবে সক্ষম অসুস্থ বিজেপি কর্মীকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করলেন পানিহাটীর তৃণমূল কাউন্সিলর
নিজস্ব সংবাদদাতা : অসুস্থ অবস্থায় বাসস্ট্যান্ডে পড়ে থাকা বিশেষভাবে সক্ষম, বর্ষীয়ান এক বিজেপি (BJP) কর্মীকে উদ্ধার করে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করলেন তৃণমূল (TMC) কাউন্সিলর এবং কর্মীরা। ঘটনাস্থল পানিহাটী (Panihati) পৌরসভার অন্তর্গত সোদপুর (Sodepur) বার্মাশেল এলাকা। আর একেবারে নির্বাচনের আগে এই ঘটনাকে ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। জানা গেছে, এলাকায় সক্রিয় বিজেপি কর্মী হিসেবে পরিচিত বছর ৬৫`র ওই বৃদ্ধের নাম সন্তোষ দাস। পানিহাটী পৌরসভার ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের রামচন্দ্রপুর এলাকার এক চিলতে বাড়িতে একাই থাকেন অবিবাহিত সন্তোষবাবু। বেশ কয়েকবছর আগে দুর্ঘটনায় তার ডান পা বাদ যায়। তারপর থেকে কাঠের পা লাগিয়ে কোনওরকমে চলাফেরা করতেন তিনি। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ হয়ে পড়ে থাকলেও বিজেপির কোনো নেতা-কর্মী তাকে সাহায্য তো দূরে থাক একবারের জন্য খোঁজখবরও নেননি। অসুস্থ সন্তোষবাবুকে সপ্তাহ দুয়েক আগে তার বাড়িতে শেষবারের মতো দেখা গিয়েছিল। আর অসুস্থ অবস্থাতেই গত প্রায় দশ দিন ধরে সোদপুর-মধ্যমগ্রাম রোডের ধারে কাঁচকল সংলগ্ন বার্মাশেল বাস স্টপেজে পড়েছিলেন অসহায় ওই বৃদ্ধ, উঠে বসার ক্ষমতাও ছিলোনা তার।
অথচ, ওই বাসস্টপেজ থেকে মাত্র ৫০ মিটার দূরে বিজেপির নির্বাচনী কার্যালয় থাকা সত্ত্বেও একসময়ের এই সহকর্মীর দিকে কেউই ফিরে তাকাননি। বিষয়টি নজরে আসে পানিহাটীর ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার তথা রাজ্য তৃণমূলের মুখপাত্র সম্রাট চক্রবর্তীর (Samrat Chakraborty)। খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারেন অসুস্থ ওই বৃদ্ধ ২৩ নম্বর ওয়ার্ডেরই বাসিন্দা তথা বিজেপি কর্মী সন্তোষ দাস। এরপরেই পুলিশের সহযোগিতায় তৃণমূল কর্মীরা ওই বৃদ্ধকে উদ্ধার করে এবং তাকে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করে নতুন জামাকাপড় পরিয়ে পানিহাটী রাজ্য সাধারণ হাসপাতালে ভর্তি করে তার উপযুক্ত চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন সম্রাট চক্রবর্তী। আর বিধানসভা নির্বাচনের আবহে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয়ে গিয়েছে রাজনৈতিক তরজা। যদিও এই ঘটনা নিয়ে পৌরপিতা সম্রাট চক্রবর্তী জানান,মানুষ যখন অসহায় হয় তখন মানুষ হয়েই পাশে দাঁড়াতে হয়, সেই মানব ধর্মই পালন করেছি।
অন্যদিকে এই ঘটনাটির বিষয়ে স্থানীয় বিজেপি নেতা জয় সাহা জানান, বিষয়টি তাদের জানা ছিলোনা। জানা থাকলে নিশ্চয়ই ব্যবস্থা নেওয়া হতো। তবে একজন অসহায় মানুষকে সাহায্য করলে তার দলীয় পরিচয় নিয়ে রাজনীতিকরণ করা উচিত নয়।



