ভরা বসন্তেও পানিহাটী পৌরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা ভাসছে “খাটালের জলে”, আন্দোলনের পথে স্থানীয় বাসিন্দারা
আগরপাড়ার (Agarpara) আনন্দময়ী ফাঁড়ি সংলগ্ন এলাকা থেকে শুরু করে ডি এন চ্যাটার্জী রোড, থৈথৈ করছে পুঁতিগন্ধময় জলে।স্থানীয়দের অভিযোগ এ এলাকায় বেশ কিছু গোয়াল আগে থেকেই ছিলো। কিন্তু গত ছ`মাসের মধ্যে প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ মহিষ আমদানি করে খোলা হয়েছে নতুন নতুন গোয়াল। আর সেই গোয়ালের আবর্জনা, গোবর, সব কিছু নির্ধিধায় ফেলা হচ্ছে পাড়ার অপরিসর নিকাশি নালায়। ফলে নিকাশি নালা উপচে নোংরা জল এখন রাস্তায়।
নিজস্ব সংবাদদাতা , চন্দন সেনগুপ্ত : ভরা বসন্তেও পানিহাটী (Panihati) পৌরাঞ্চলের ৭ এবং ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ যেন ভেসে যাচ্ছেন মেঘমল্লারের সুরে। মাথায় চাবুক মারছে রোদ্দুর, কিন্তু পা ডুবে নোংরা পঁচা জলে। আগরপাড়ার (Agarpara) আনন্দময়ী ফাঁড়ি সংলগ্ন এলাকা থেকে শুরু করে ডি এন চ্যাটার্জী রোড, থৈথৈ করছে পুঁতিগন্ধময় জলে। স্থানীয়দের অভিযোগ এ এলাকায় বেশ কিছু গোয়াল আগে থেকেই ছিলো। কিন্তু গত ছ`মাসের মধ্যে প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ মহিষ আমদানি করে খোলা হয়েছে নতুন নতুন গোয়াল। আর সেই গোয়ালের আবর্জনা, গোবর, সব কিছু নির্ধিধায় ফেলা হচ্ছে পাড়ার অপরিসর নিকাশি নালায়। ফলে নিকাশি নালা উপচে নোংরা জল এখন রাস্তায়। যার ফলে এক বিভীষিকাময় জীবন কাটছে এলাকার হাজার হাজার বাসিন্দাদের। স্কুল, কলেজ, অফিস দুরস্থান , অসুস্থ মানুষজনের চিকিৎসা করানো যাচ্ছে না। অভিযোগ, স্থানীয় পৌরপ্রতিনিধিদের জানিয়েও কোন ফল পাননি তারা। স্বাভাবিক ভাবেই ক্ষোভের ধিকি ধিকি আগুন ক্রমশ দাবানলে পরিণত হচ্ছে। তবে এদিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখা গেলো ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পৌরপিতা রাজা আহমেদের নেতৃত্বে পৌরকর্মীরা নেমেছেন নিকাশী সাফাই করতে। কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, যে পরিমান গোবর জমে রয়েছে নর্দমায়, তাতে সামান্য উদ্যোগে কিছু হবে না। তাদের দাবী , এলাকা থেকে বেআইনী খাটাল সরাতে হবে। আর তাদের দাবী না মানা হলে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে যেতে তারা বাধ্য হবেন। আমরা কথা বলেছিলাম পৌরপিতা রাজা আহমেদের সঙ্গে। তিনি জানালেন, “কাজ শুরু হয়েছে, দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে”। তবে পৌরপিতার কথা যে মানতে রাজী নন এলাকাবাসীদের অধিকাংশ, তা বোঝা গেল তাদের সাথে কথা বলে। বাসিন্দাদের একজনের দাবী , অবিলম্বে বেআইনী “খাটাল” মুক্ত করতে হবে এলাকা, কারণ এই সুখা সময়েই যদি রাস্তা, বাড়ি সব জলমগ্ন হতে পারে, তাহলে, বর্ষার সময়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। বিরোধীদের অভিযোগ “এ এলাকার বেআইনী খাটালগুলি থেকে মোটা অংকের টাকা আসে শাসক দলের পকেটে, আর সে কারণেই মিশ্র ভাষাভাষি অধ্যুষিত এই এলাকার সমস্যা সহজে মেটার নয়”।



