ভোটের আবহে ফের রাত দখল সোদপুরে
তিলোত্তমা হারবে না, কলতান থামবে না - শীর্ষক 'রাত দখল কর্মসূচী' ঘিরে সোদপুরের পথে ছাত্র-যুব-মহিলা সংগঠনের প্রতিবাদীরা
নিজস্ব সংবাদদাতা: ২০ মাস পার, বিচার অধরা কলকাতার আর জি কর (R.G.Kar) মেডিকেল কলেজে কর্তব্যরত তরুণী চিকিৎসক পড়ুয়ার নৃশংস হত্যাকাণ্ডের। ২০২৪ সালের ৯ই অগাস্ট আরজিকর মেডিকেল কলেজের মতো ব্যস্ততম প্রথম সারির হাসপাতালে ঘটে যাওয়া হাড়হিম করা সেই হত্যাকাণ্ডের ন্যায় বিচারের দাবীতে ১৪ই অগাস্ট ভারতের স্বাধীনতা উদযাপনের (Independence day) মধ্যরাতে রাতের দখল নিয়েছিলো নারী-পুরুষ নির্বিশেষে আপামর রাজ্যবাসী, যা স্বাধীনতা উত্তর দেশে এক অভূতপূর্ব ঘটনা। নির্যাতিতা তরুণী চিকিৎসক পানিহাটী তথা সোদপুরের বাসিন্দা হওয়ায় আন্দোলনকারীরা সোদপুর ট্রাফিক মোড় অবরোধ করে লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে গিয়েছে সঠিক বিচারের দাবীতে, এমনকি বিটি রোডের (B.T.Road) গুরুত্বপূর্ণ এই মোড়ের নামকরন করেছিলেন তিলোত্তমা মোড়। সেই নৃশংস ঘটনার পর থেকে এখনো পর্যন্ত প্রত্যেক মাসের ৯ তারিখ সোদপুর ট্রাফিক মোড়ে জমায়েত করে বিচারের দাবীতে আন্দোলন কর্মসূচী পালন করে চলেছেন ছাত্র যুব মহিলা সংগঠনের প্রতিবাদীরা। ৯ই এপ্রিল ২০২৬`র দিনটিতেও তার ব্যতিক্রম হলোনা। এদিনও SFI,DYFI এবং সারা ভারত গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির পক্ষ থেকে রাত আটটা থেকে রাত দশটা পর্যন্ত কথায়-গানে-কবিতায় ‘রাত জাগো কর্মসূচী’ পালিত হলো সোদপুর ট্রাফিক মোড়ে। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করা এবং তাদের কঠোরতম শাস্তি যতক্ষণ না পর্যন্ত হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে বলে আবারো শপথ নিলেন আন্দোনকারীরা। আর বলা বাহুল্য এই ঘটনার বিরুদ্ধে ৯ই অগাস্ট অর্থাৎ ঘটনার দিন থেকে খোদ আরজিকর হাসপাতাল চত্বরে দাঁড়িয়ে যারা নির্যাতিতার মৃতদেহ বহনকারী গাড়িটিকে আটকে রেখে সঠিক তদন্তের দাবীতে প্রতিবাদ করতে শুরু করেছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম হলো বাম নেতা কলতান দাশগুপ্ত (kalatan Dasgupta)। এই ঘটনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় যাকে জেলযাত্রা পর্যন্ত করতে হয়েছিলো। আর সেই দ্রোহের কালেই তার সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়। ঘটনাচক্রে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে পানিহাটী বিধানসভা কেন্দ্রে তাকেই প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত করেছে সিপিআইএম (CPIM)। স্বাভাবিক ভাবেই তিলোত্তমা হারবে না, কলতান থামবে না শীর্ষক এদিনের রাত দখল কর্মসূচীতে কলতান দাশগুপ্তও উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি মেয়ের বিচার ছিনিয়ে আনতে রাজনীতির ময়দানে নেমে পদ্মপ্রার্থী (BJP) নির্বাচিত হয়েছেন স্বয়ং নির্যাতিতার মা। আর তাতেই কি আন্দোলন দ্বিধাবিভক্ত হয়ে গিয়েছে ? এই প্রশ্নের উত্তরে কলতান জানান, এই সমাজের সমস্ত সন্তানেরা যাতে একটা ভালো সমাজ পায় তার জন্যই এই লড়াই। লড়াইটা যখন শুরু করেছিলাম কে, কোন রাজনীতি করে তা দেখে শুরু করিনি। যতদিন বাঁচবো কে, কোন রাজনীতি করে সেটা না দেখেই লড়াই চালিয়ে যাব।
এই মুহূর্তে রাজ্যজুড়ে ভোটের (Assembly Election) আবহ। সেই পরিস্থিতিতে চলা এদিনের আন্দোলন কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ করেছিলেন খড়দহ বিধানসভা কেন্দ্রের সিপিআইএম মনোনীত প্রার্থী দেবজ্যোতি দাসও। তিনি জানান, রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় সরকারের মিলিত প্রচেষ্টায় সঠিক বিচার পেতে বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে। তাই বিচারের দাবীতে লড়াইটা সব সময়েই একটা রাজনৈতিক লড়াই। তবে, আমরা নিজেদের রাজনৈতিক পরিচয় ছেড়ে সাধারণ মানুষকে যুক্ত করে লড়াইটা চালিয়ে গিয়েছি, বিচার না পাওয়া পর্যন্ত লড়াইটা চালিয়ে যাবো এবং সুবিচার ছিনিয়ে আনবো।



