প্রকাশিত হলো SIR’র চূড়ান্ত ভোটার তালিকা, কতজনের নাম বাদ গেল ? কতজনেরই বা নথি বিচারকদের স্ক্যানারে ?
মোট ৫ লক্ষ ৪৬ হাজার ৫৩ জনের নাম বাদ গিয়েছে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে। সেই সঙ্গে এদিনের তালিকায় ভোটারদের মূলত তিনটি ক্যাটেগরিতে ভাগ করা হয়েছে। বাদ যাওয়া ভোটারদের নামের পাশে 'ডিলিটেড'(Deleted) লেখা থাকছে। যাদের নথি যাচাই কিংবা তার নিষ্পত্তি হয়নি সেই সকল ভোটাররা 'অ্যাজুডিকেশন'(Under ajudication) হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন। অর্থাৎ তারা যোগ্য নাকি অযোগ্য ভোটার, তা এখনো বিচারাধীন।আর যোগ্য ভোটারদের নামের পাশে লেখা থাকছে 'অ্যাপ্রুভড (Approved)।'
নিজস্ব সংবাদদাতা : প্রতীক্ষার অবসান। প্রকাশিত হলো এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা। আগেই সবার প্রথমে সেই তালিকার হার্ড কপি পৌঁছে গিয়েছিলো ডিএম ও বিডিও অফিসে। আর সেখান থেকে ব্লকভিত্তিকভাবে বিএলওদের (BLO) হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে সেই হার্ড কপি। তবে আপনার নাম ভোটার তালিকায় রয়েছে কিনা সেটা জানতে আপনাকে ছুটতে হবে না বুথে। কারণ অনলাইনেও নির্বাচন কমিশনের বিভিন্ন ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আপনি জানতে পারেন আপনার নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় আদৌ রয়েছে কিনা। তবে এবার প্রশ্ন হলো আপাতত মোট কত জনের নাম বাদ গিয়েছে এদিনের তালিকা থেকে ? কমিশনের দেওয়া তথ্য বলছে, মোট ৫ লক্ষ ৪৬ হাজার ৫৩ জনের নাম বাদ গিয়েছে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে। সেই সঙ্গে এদিনের তালিকায় ভোটারদের মূলত তিনটি ক্যাটেগরিতে ভাগ করা হয়েছে। বাদ যাওয়া ভোটারদের নামের পাশে ‘ডিলিটেড'(Deleted) লেখা থাকছে। যাদের নথি যাচাই কিংবা তার নিষ্পত্তি হয়নি সেই সকল ভোটাররা ‘অ্যাজুডিকেশন'(Under ajudication) হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন। অর্থাৎ তারা যোগ্য নাকি অযোগ্য ভোটার, তা এখনো বিচারাধীন।আর যোগ্য ভোটারদের নামের পাশে লেখা থাকছে ‘অ্যাপ্রুভড (Approved)।’
প্রসঙ্গত, গত বছর ১৬ ই ডিসেম্বর প্রকাশিত হওয়া খসড়া তালিকা থেকে ৫৮ লক্ষ ২০ হাজার ৮৯৯ জনের নাম বাদ যায়। মূলত মৃত,স্থানান্তরিত এবং নিখোঁজ ভোটাররাই ছিলেন বাদের তালিকায়। আর সেই ‘ড্রাফট লিস্টে’ (Draft List) নাম ওঠে ৭ কোটি ৮ লক্ষ ১৬ হাজার ৬৩০ জনের। আর এই খসড়া তালিকায় নাম থাকা ভোটারদের মধ্যে ১ কোটি ৫২ লক্ষ ভোটারকে শুনানির জন্য চিহ্নিত করা হয়। বলা ভালো তাদের নামে জারি হয় হিয়ারিং নোটিশ। আর সেই হিয়ারিং পর্বকে ঘিরে বারংবার বিতর্ক তৈরী হয়। অবশেষে ১৪ ই ফেব্রুয়ারি শেষ হয় শুনানি প্রক্রিয়া। প্রায় ১ কোটি ৪২ লক্ষ ভোটারের শুনানি হয় হিয়ারিং পর্বে। তবে এরপর শুনানি পর্বে ভোটারদের জমা দেওয়া নথি যাচাই পর্বে শুরু হয় নয়া সমস্যা। শুনানি হওয়া ভোটারদের মধ্যে ৮২ লক্ষের নথি নিয়ে ইআরও (ERO) এবং এইআরও-দের (AERO) সঙ্গে সহমত হয় কমিশন। তবে গন্ডগোল বাধে বাকী ৬০ লক্ষ ভোটারের নথি নিয়ে। তাদের ক্ষেত্রে কমিশনের নিযুক্ত মাইক্রো অবজারভার এবং ইআরও এবং এইআরওরা এক সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেননি। তাই সুপ্রিম নির্দেশে এই সব ভোটারদের নথি নিষ্পত্তির জন্য অতি সম্প্রতি আসরে নামেন বিচারকেরা। আর এই ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম আগামী বিধানসভা নির্বাচনের মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন পর্যন্ত ধাপে ধাপে তালিকা প্রকাশ করে জানানো হবে। সেক্ষেত্রে ভবিষ্যতে আরও ভোটারের নাম বাদ যেতে পারে আজকের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে। পাশাপাশি,৬ নম্বর ফর্মের মাধ্যমে ভোটার তালিকায় যুক্ত হয়েছেন ১ লক্ষ ৮২ হাজার ৩৬ জন এবং ফর্ম ৮ পূরণের মাধ্যমে ৬ হাজার ৬৭১ জনের নাম উঠেছে আজকের চূড়ান্ত ভোটার তালিকায়।
সবমিলিয়ে ২৭ শে অক্টোবর যখন এসআইআর প্রক্রিয়ার কথা ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন তখন রাজ্যে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ ৩৭ হাজার ৫২৯। আর আজকের চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় সেই সংখ্যাটা দাঁড়িয়েছে ৭ কোটি ৪ লক্ষ ৫৯ হাজার ২৮৪ তে। এখনো বিচারাধীন প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের জমা দেওয়া নথি। সবমিলিয়ে বিধানসভা ভোটের আগে শেষমেশ ভোটার সংখ্যা কততে দাঁড়ায় সেটাই এখন দেখার। আর এই গূঢ় সংখ্যাতত্ত্বের প্রভাব আগামীতে ভোটবাক্সে কতটা পড়বে সেদিকেও নজর থাকবে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের।



