এবার বড়মার মন্দিরে সচিত্র পরিচয়পত্র দেখলেই আর লাইন দিতে হবেনা, করা পাবেন এই সুযোগ ?
প্রতিনিয়ত ভক্তদের ভিড় বাড়তে থাকায় বাড়ির পাশেই বড়মার মন্দির হওয়া সত্ত্বেও লম্বা লাইনে দাঁড়িয়েই মায়ের দর্শন পেতে হতো নৈহাটীবাসীদের, এই কারণে বহুদিন ধরেই মন্দির কতৃপক্ষের সাথে মান-অভিমানের পালা চলছিল নৈহাটীবাসীর। তাই এবার সব দিক মাথায় রেখে নৈহাটীবাসীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করলো মন্দির কতৃপক্ষ।
নৈহাটির বড়মার (Naihati Boroma) মন্দিরে আগামী ১লা মার্চ শুরু হতে চলেছে নতুন নিয়ম, তবে এই নিয়মের আওতায় পড়বেন শুধুমাত্র নৈহাটির (Naihati) নির্দিষ্ট দু’টি পিনকোড অঞ্চলের বাসিন্দারাই। ১০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে পূজিত হয়ে আসছেন নৈহাটির বড়মা। এতগুলো বছর ধরে নৈহাটির অরবিন্দ রোডের ওপর অবস্থিত এক চিলতে জায়গায় ফ্রেমে বাঁধানো বড়মার ছবিতে নিত্য পুজো হতো আর দীপান্বিতা অমাবস্যা অর্থাৎ কালীপুজোর দিন রাস্তার ওপরেই বড়মার বিশালাকৃতি প্রতিমার পুজো হতো, মাকে এক ঝলক দেখতে, পুজো দিতে, প্রার্থনা করতে ভিড় করতেন ভক্তরা । ২০২৩ থেকে ছবিটা বদলাতে শুরু করে, নতুন রূপে সাজিয়ে তোলা হয় মায়ের মন্দির, প্রতিষ্ঠা করা হয় মায়ের কষ্টিপাথরের মূর্তি। তারপর থেকেই কালীপুজোর মতো ভিড় সারাবছরই হয়ে আসছে বড়মার মন্দিরে। সকাল থেকেই হাজার হাজার ভক্তদের লাইন শুরু হয় মায়ের দর্শন পাওয়ার জন্য। বিশেষ বিশেষ তিথি বা অমাবস্যার পুজোয় ভক্তসমাগম আরও বেশি হয়, মন্দির সূত্রের খবর অনুযায়ী, প্রতিদিন হাজার হাজার ভক্ত আসেন মায়ের পুজো দিতে আর বিশেষ দিনগুলিতে লক্ষাধিক ভক্তদের সমাগম হয়। আর ভক্তদের সুষ্ঠুভাবে মায়ের দর্শনের জন্য লম্বা লাইনের মাধ্যমেই পৌঁছতে হয় মায়ের মন্দির অবধি।
প্রতিনিয়ত ভক্তদের ভিড় বাড়তে থাকায় বাড়ির পাশেই বড়মার মন্দির হওয়া সত্ত্বেও লম্বা লাইনে দাঁড়িয়েই মায়ের দর্শন পেতে হতো নৈহাটীবাসীদের, এই কারণে বহুদিন ধরেই মন্দির কতৃপক্ষের সাথে মান-অভিমানের পালা চলছিল নৈহাটীবাসীর। তাই এবার সব দিক মাথায় রেখে নৈহাটীবাসীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করলো মন্দির কতৃপক্ষ। আগামী ১লা মার্চ থেকে এই বিশেষ ব্যবস্থা শুরু হতে চলেছে। মন্দির তরফে জানানো হয়েছে, নৈহাটী এলাকার বাসিন্দারা তাদের সচিত্র পরিচয়পত্র দেখলে তাদের আর সকলের সাথে লাইনে দাঁড়াতে হবেনা, তাদের জন্য থাকছে আলাদা লাইন ও গেট। ৭৪৩১৬৫ এবং ৭৪৩১৬৬ এই দুই পিন কোড (Pin code) অঞ্চলে যাদের বাড়ি তারাই একমাত্র এই বিশেষ সুবিধা পাবেন। যে বিশেষ গেট করা হচ্ছে সেই গেটে গিয়ে উল্লিখিত পিনকোডযুক্ত সঠিক পরিচয়পত্র দেখলে তবেই সরাসরি ঢুকে যাওয়া যাবে বড়মার মন্দিরে। তবে, একটি পরিচয়পত্রে একজনই প্রবেশ করতে পারবেন অর্থাৎ পরিচয়পত্র দেখিয়ে নৈহাটীবাসী নন এমন কেউ প্রবেশ করতে পারবেননা। পরিচয়পত্র সাথে নিয়ে বাড়িতে আসা অতিথি বা পরিচিত অন্যকাউকে নিয়ে এই বিশেষ গেট দিয়ে প্রবেশ করা যাবেনা। নৈহাটির মানুষজনের কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, ফলে যাতে শুধুমাত্র নৈহাটির বাসিন্দারাই এই সুবিধা পান সেইদিকে কড়া নজর রাখা হবে।



