বেলঘরিয়ায় দলীয় কার্য্যালয় বিক্রি করলেন খোদ TMC কাউন্সিলরই !
অভিযোগ, বেলঘরিয়ার বাসিন্দা জনৈক অশোক কুমার মুখার্জির কাছে এপার্টমেন্টের একতলায় থাকা পার্টি অফিসটিকে বিক্রি করে দেন তৃণমূল কাউন্সিলর অজিতা ঘোষ। পাশাপাশি সেই বেহাত হওয়া পার্টি অফিসের সামনে তাঁর নামে পড়েছে ব্যানারও। কেন সেই কার্য্যালয় বিক্রি করে দেওয়া হলো তা নিয়ে একেবারে সরাসরি অজিতা ঘোষের কাছে জবাব চাওয়া হয়েছে সেই ব্যানারটিতে।
নিজস্ব সংবাদদাতা : ভোটের মুখে ফের অস্বস্তিতে শাসক শিবির। আবারো ঘাসফুলে ( TMC) গোষ্ঠী কোন্দলের কাঁটা। এবার দলীয় কার্য্যালয় কর্মীদের অজান্তে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠলো খোদ তৃণমূল কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে !সেই সঙ্গে বিক্রি হয়ে যাওয়া পার্টি অফিসের বাইরে অভিযুক্ত জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে পড়লো ব্যানারও ! গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র শোরগোল কামারহাটী পৌরসভার (Kamarhati Municipality) ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত বেলঘড়িয়া (Belghoria) নন্দননগর এলাকায়।
সূত্রের খবর, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের একটি আপ্যার্টমেন্টের একতলার একটি ঘর ২০১০ সাল থেকে তৃণমূলের পার্টি অফিস হিসেবে ব্যবহৃত হত। সেই সময় ওই ওয়ার্ডের পৌরমাতা ছিলেন অজিতা ঘোষ। আর বর্তমানে তিনি কামারহাটি পৌরসভার ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। অভিযোগ, বেলঘরিয়ার বাসিন্দা জনৈক অশোক কুমার মুখার্জির কাছে তিনি এপার্টমেন্টের একতলায় থাকা পার্টি অফিসটিকে বিক্রি করে দেন। পাশাপাশি সেই বেহাত হওয়া পার্টি অফিসের সামনে তাঁর নামে পড়েছে ব্যানারও। কেন সেই কার্য্যালয় বিক্রি করে দেওয়া হলো তা নিয়ে একেবারে সরাসরি অজিতা ঘোষের কাছে জবাব চাওয়া হয়েছে সেই ব্যানারটিতে। ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূলের সাধারণ কর্মীরাই নাকি সেই জবাব চেয়েছেন। ব্যানারের লেখা অন্তত তাই বলছে। তবে ব্যানারটি কারা লাগিয়েছে সেবিষয়ে কিছুই জানেননা স্থানীয় তৃণমূল নেত্রী শিখা ব্যানার্জী। তিনি জানালেন আগেও নন্দননগর এলাকার ওই পার্টি অফিসটি নিয়ে সমস্যা ছিল। তাঁর দাবি, আবাসনের প্রোমোটারের সঙ্গে চুক্তি করে একতলার ঘরটিকে পার্টি অফিসে হিসেবে ব্যবহার করার বন্দোবস্ত করেন অজিতা। আর এবার সেই কার্য্যালয়কেই বিক্রির অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। আর দলীয় কার্য্যালয় বিক্রি হয়ে যাওয়ার ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের মধ্যেও অন্তর্কলহ সামনে আসতে সময় লাগেনি। পার্টি অফিসের মালিকানা বদলের ঘটনায় ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলরকেও একহাত নিলেন শিখা দেবী। সেই সঙ্গে তিনি জানালেন বর্তমানে ওই পার্টি অফিসে কোনো কাজ হয় না। বরং এলাকারই একটি ঘর ভাড়া সেটিকে কার্য্যালয় হিসেবে ব্যবহার করা হয়। স্থায়ী দলীয় কার্য্যালয় না তৈরী হওয়ায় আক্ষেপের সুর তাঁর গলায়। অন্যদিকে এই ঘটনার প্রেক্ষিতে যোগাযোগ করা হয়েছিল কামারহাটি পৌরসভার পৌরপ্রধান গোপাল সাহার সাথে। তিনি জানিয়েছেন বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দলীয় কার্য্যালয় বিক্রির অভিযোগ উঠেছে খোদ তৃণমূল কাউন্সিলরের বিরুদ্ধেই। সেই সঙ্গে প্রকাশ্যে তৃণমূলের অন্তর্কলহও। সবমিলিয়ে ভোটের মুখে বেজায় অস্বস্তিতে ঘাসফুল শিবির। পরবর্তীতে এই ঘটনা কোনদিকে মোড় নেয় কিংবা পৌরপ্রধানের আশ্বাস কবে বাস্তবায়িত হয় সেটাই এখন দেখার।



