ক্ষমতায় এলে ভাতা হবে দ্বিগুনেরও বেশি – ‘যুবশক্তি’ নিয়ে ময়দানে বিজেপি
মাধ্যমিক উত্তীর্ণ ১৮ থেকে ৪০ বছর বয়সী নাগরিকদের তাদের যোগ্যতা ও ইচ্ছা অনুযায়ী চাকরি বা যেকোনো কর্মসংস্থানের জন্য প্রশিক্ষণ দেবে সরকার, এই প্রশিক্ষণ নেওয়ার সময়ে প্রতি মাসে ২৫ হাজার টাকা উৎসাহ ভাতা দেওয়া হবে প্রশিক্ষনরতদের। প্রশিক্ষণ শেষের পর থাকবে কর্ম সংস্থানের ব্যবস্থা, যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি পাবেন এই প্রকল্পের আওতায় থাকা নাগরিকেরা আর যারা যোগ্যতামান পার করতে পারবেন না তারা পাবেন যুবশক্তির ভাতা অর্থাৎ বেকার ভাতা।

মৃত্তিকা সেনগুপ্ত : দরজায় কড়া নাড়ছে বিধানসভা নির্বাচন, রাম-বাম-ঘাসফুল সব দলই মাঠে নেমে পড়েছে তাদের লক্ষ্য স্থির রেখে। ইতিমধ্যেই নির্বাচনী ইস্তেহার প্রকাশ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস, এছাড়াও নির্বাচনের ঠিক ক’মাস আগেই মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন একাধিক ভাতার কথা, একদিকে যেমন বাড়ানো হয়েছে লক্ষীর ভান্ডারের টাকা, অন্যদিকে আত্মপ্রকাশ করেছে যুবসাথীর মতো প্রকল্প যার ‘টার্গেট অর্ডিয়েন্স’ মহিলা-পুরুষ উভয়ই। অন্যদিকে ঘাসফুল শিবির তরফে এখনও পর্যন্ত ইস্তেহার সরাসরি প্রকাশ করা না হলেও ‘প্রতিশ্রুতি’ নিয়ে যে দুই দলের মধ্যে এক চাপা লড়াই চলছে তা বলাই বাহুল্য।
চলতি বছর শব্দনির্বাচনে এক খেলা খেলেছে তৃণমূল কংগ্রেস, নির্বাচনী ইস্তেহার না বলে তৃণমূলের দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলির নাম দেওয়া হয়েছে ‘প্রতিজ্ঞা’ , আর কোনো এক অদৃশ্য জাদুবলে নাম বদল করেছে বিজেপিও, দলীয় সূত্রে খবর, তাদের ইস্তেহার অর্থাৎ ‘সংকল্প পত্র’ তৈরীর কাজ প্রায় শেষের পথে। সবকিছু ঠিক থাকলে সংযোজন-বিয়োজনের পরেই আগামী ২৮ মার্চের মধ্যেই প্রকাশ হবে বিজেপির ‘সংকল্প পত্র’ বা নির্বাচনী ইস্তেহার। রাজ্য বিজেপির উচ্চ নেতৃত্ত্ব ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জনসভা থেকে দাবি করেছেন, ২০২৬’র বিধানসভা নির্বাচনের পরে নীলবাড়ি তাদের দখলে এলে লক্ষীর ভান্ডারের পরিমান প্রায় দ্বিগুন করে দেওয়া হবে আর তার সাথেই বেকার ভাতার অংকের পরিমাণও বাড়বে। অর্থাৎ বলা যেতেই পারে বিজেপির নির্বাচনী ইস্তেহারেও থাকছে ‘আর্থিক অনুদানের’ প্রতিশ্রুতি। তৃণমূলের মতোই ‘লক্ষীর ভান্ডার’, ‘যুবশ্রী’র পথেই হাঁটতে চলেছে ঘাসফুল শিবির তবে টাকার পরিমান বাড়িয়ে অবশ্যই।
বাংলার মাটিতে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’র নাম, নির্বাচন ঘোষণার বহু আগে থেকেই বিজেপি তরফে প্রকাশ্যে বলা হয়েছে, তারা ক্ষমতায় এলে অন্নপূর্ণা ভান্ডারের মাধ্যমে মহিলাদের মাসে ৩ হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে যা লক্ষীর ভান্ডার থেকে প্রাপ্ত অর্থের দ্বিগুন। সূত্রের খবর, চলতি বছরে তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের ‘মাস্টার স্ট্রোক’ যুবসাথী (বেকার ভাতা)কে টেক্কা দিতে ‘যুবশক্তি’ প্রকল্প আনতে চলেছে বিজেপি। আর ক্ষেত্রে মডেলটা একটু অন্যরকম হলেও প্রদেয় টাকার পরিমান যুবসাথীর প্রায় দুগুণ হবে। আর ইতিমধ্যেই যুবশক্তি প্রকল্পকে অন্য মডেলে সাজানোর জন্য প্রস্তাব গেছে বিজেপির ‘সংকল্প পত্র’ কমিটির কাছে , যেখানে বলা হয়েছে – মাধ্যমিক উত্তীর্ণ ১৮ থেকে ৪০ বছর বয়সী নাগরিকদের তাদের যোগ্যতা ও ইচ্ছা অনুযায়ী চাকরি বা যেকোনো কর্মসংস্থানের জন্য প্রশিক্ষণ দেবে সরকার, এই প্রশিক্ষণ নেওয়ার সময়ে প্রতি মাসে ২৫ হাজার টাকা উৎসাহ ভাতা দেওয়া হবে প্রশিক্ষনরতদের। প্রশিক্ষণ শেষের পর থাকবে কর্ম সংস্থানের ব্যবস্থা, যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি পাবেন এই প্রকল্পের আওতায় থাকা নাগরিকেরা আর যারা যোগ্যতামান পার করতে পারবেন না তারা পাবেন যুবশক্তির ভাতা অর্থাৎ বেকার ভাতা। প্রথমত, যাঁরা প্রশিক্ষণ নেবেন তারা একেধারে যেমন পাচ্ছেন যোগ্যতা অনুযায়ী প্রশিক্ষণ, তার সাথেই পাচ্ছেন উৎসাহ ভাতা যার অংকের মূল্য একেবারেই কম নয়, তারপর থাকছে কর্ম সংস্থানের ব্যবস্থাও আর যারা বেকার ভাতা পাবেন তারাও বর্তমান সরকারের প্রদেয় অর্থের থেকে বেশিই পাবেন – এমনটাই ভাবা হয়েছে বিজেপির যুব মোর্চার তরফে। তবে বিজেপির ‘সংকল্প পত্র’ কমিটি এই ভাবনায় কতটা আমল দেবেন, কতটা রাখবেন তাদের ইস্তেহারে সেটা সময়ই বলবে।
তবে, যদি বঙ্গবাসী ‘ভাতার বদলে ভোট’ এই কনসেপ্টে বিশ্বাসী হন তাহলে বিজেপির ইস্তেহার প্রকাশের পর অবশ্যই চিন্তার ভাঁজ গাঢ় হবে শাসকদলের কপালে।

