তারাপীঠে তারামায়ের ভোগে ঘাটতি নেই, টান পড়েছে ভক্তদের পাতে
তারাপীঠে ভোগ ও ভাণ্ডারা শুধু ধর্মীয় আচার নয়, এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে বহু মানুষের জীবিকা। রান্নার কর্মী, বাজারের ব্যবসায়ী, হোটেল ও লজ—সব ক্ষেত্রেই এর প্রভাব পড়েছে ইতিমধ্যেই। তাই বিভিন্ন মহল থেকে সরকারের কাছে দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবী উঠে আসছে।
নিজস্ব সংবাদদাতা,বীরভূম: এবার মধ্য প্রাচ্যের যুদ্ধের (Iran- Israel War) প্রভাব সরাসরি আমাদের তীর্থস্থানগুলিতেও। বাঙালীদের অন্যতম জনপ্রিয় বা প্রধান তীর্থস্থান হলো বীরভূমের ( Birbhum) তারাপীঠ ( Tarapith Temple)। সাধক বামাক্ষ্যাপার লীলাভূমি এই তারাপীঠে রোজ হাজার হাজার পুণ্যার্থী ভীড় জমান তারামায়ের শ্রীচরণে। কিন্তু রান্নার গ্যাসের জোগান কমে যাবার ফলে কপালে চিন্তার ভাঁজ মন্দির কর্তৃপক্ষ থেকে শুরু করে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কপালেও।
তারাপীঠ মন্দির (Tarapith Temple) কমিটির সভাপতি তারাময় মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন সাধারণত মায়ের ভোগ এখনও রান্না হয় কাঠের আগুনে, সে ক্ষেত্রে বড় কোন অসুবিধা না হলেও, যে হাজার হাজার ভক্তের জন্য মা তারার ভোগ রান্না হয়, সেটা সবটাই হয় গ্যাসের উনোনে, এছাড়াও তারাপীঠে বহু ভক্ত মানত পূরণ করতে বা বিশেষ তিথি উপলক্ষে ভোগ ও ভাণ্ডারার আয়োজন করেন। সে ক্ষেত্রে শুধুমাত্র কাঠের আগুনে এতো ভোগ রান্না এখন প্রায় অসম্ভব। যে সমস্ত ভক্ত ভান্ডারা দিতে চান, তারা ২ থেকে ৩ মাস আগে থেকেই ভান্ডারার দিন বুকিং করে রাখেন। সেইমত নির্দিষ্ট দিনে সমস্ত ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু গত কয়েক দিন ধরে বাণিজ্যিক গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় ভান্ডারার বিপুল পরিমাণ রান্না কার্যত অসম্ভব হয়ে উঠছে। তারাময়বাবু আরও জানালেন কাঠের উনোনে মা তারার মূল ভোগ রান্না বন্ধ হবে না কোন ভাবেই, কিন্তু বাণিজ্যিক গ্যাসের ( Commercial LPG Cylinder) সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে ভক্তদের আপ্যায়নে ঘাটতি হতেই পারে।

পাশাপাশি এই মহাপীঠ ঘিরে তৈরী হয়েছে অজস্র হোটেল, রেস্টুরেন্ট, লজ ইত্যাদি। যেগুলি তারাপীঠে আসা ভক্তদের প্রধান ভরসা। এক হোটেল মালিক তারানাথ জানা জানালেন বাণিজ্যিক গ্যাসের সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক না হলে তারা কি ভাবে ভক্তদের পরিষেবা দেবেন, সেটা অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। একই সাথে তার মন্তব্য, আচমকা এই পরিস্থিতির সুযোগ নিচ্ছে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী, তারা খাবারের দাম বাড়িয়ে তারাপীঠে আসা ভক্তদের ঠকানোর চেষ্টা করছে, তবে তারাপীঠের হোটেল, লজ এবং রেস্টুরেন্টের মালিকদের সংগঠন এই অসময়ে ভক্তদের পাশে থাকার চেষ্টা করছেন।
সব মিলিয়ে তারাপীঠে ভোগ ও ভাণ্ডারা শুধু ধর্মীয় আচার নয়, এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে বহু মানুষের জীবিকা। রান্নার কর্মী, বাজারের ব্যবসায়ী, হোটেল ও লজ—সব ক্ষেত্রেই এর প্রভাব পড়েছে ইতিমধ্যেই। তাই বিভিন্ন মহল থেকে সরকারের কাছে দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবী উঠে আসছে।



