পশ্চিমবঙ্গ

সাড়া জাগিয়ে শুরু হল মুখ্যমন্ত্রীর যুবসাথী প্রকল্পের কাজ, কিভাবে আবেদন করবেন জেনে নিন

প্রথম দিনেই হিট যুব সাথী প্রকল্প, আবেদনকারীদের লম্বা লাইন রাজ্যজুড়ে

নিজস্ব সংবাদদাতা : বিধানসভা ভোটের আগে শেষ বাজেটে আরও নতুন একটি ভাতার কথা ঘোষণা করে ছিলেন মুখমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় (Mamata Bandopadhyay। ন্যূনতম মাধ্যমিক পাশ ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সী যুবক যুবতীরা অন্তর্ভুক্ত হবেন এই “বাংলার যুবসাথী” প্রকল্পে। যারা অন্য কোন সরকারী ভাতা পান না, যেমন লক্ষ্মীর ভান্ডার ইত্যাদি, তারাই এই যুবসাথী প্রকল্পের আওয়তায় আসবেন। আজ ১৫ই ফেব্রুয়ারী ২০২৬ থেকে রাজ্য জুড়ে শুরু হলো “বাংলার যুবসাথী” প্রকল্পে নাম নথিভুক্তিকরণের কাজ। বিধানসভা ভিত্তিক ক্যাম্প অফিস খুলে সরকারী আধিকারিকেরা ফর্ম বিলির পাশাপাশি জমাও নিচ্ছেন ফিলাপ করা ফর্ম। আর প্রতিটি ক্যাম্পে যুবক-যুবতীদের লম্বা লাইন দেখে স্পষ্ট হচ্ছে রাজ্যে কর্মসংস্থানহীনতার ছবিটা। লাইনে দাঁড়ানো অধিকাংশ যুবক-যুবতীই জানাচ্ছেন, তারা যদি মাসে প্রস্তাবিত ১৫০০টাকা করে পান, সেই টাকা তারা ব্যয় করতে চান নিজেদের পড়াশোনার জন্যই। আর ভোটের মুখে একসাথে হাজার হাজার যুবক-যুবতীদের পেয়ে শাসক দলের নেতা-মন্ত্রীরা ফলাও করে ঘোষণা করছেন, তাদের দলের সরকারের মানবিক মুখের কথা। এই প্রসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ‘সরকারের লক্ষ্য বেকার যুবক-যুবতীরা যখন চাকরি খুঁজবেন, তখন তাঁদের পাশে দাঁড়ানো। এতে প্রায় ৩০ লক্ষ যুবক-যুবতী অনুপ্রেরণা পাবেন।’ তবে ভাতা প্রদানের সাথে প্রকৃত কল্যানমুলক (Welfare Measures)র মৌলিক পার্থক্য নির্দেশ করা আছে দেশের সংবিধানেই, সংবিধানের নির্দেশমূলক নীতি (Directive Principles of State Policy) এর সাথে যুক্ত। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা ইত্যাদি ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ। অন্য দিকে ভাতা হলো এমন এক সুবিধা, যা উৎপাদনশীলতা বাড়ায় না বা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে না, বরং ভবিষ্যতে আর্থিক চাপ (Fiscal burden) বাড়াতে পারে।

এক ঝলকে দেখে নেয়া যাক “বাংলার যুবসাথী” প্রকল্পের বিজ্ঞপ্তিতে কী বলা হয়েছে :

  • প্রকল্পটি রাজ্যজুড়ে কার্যকর হবে
  • মাসে ১,৫০০ টাকা DBT-র মাধ্যমে আধার-লিঙ্কড ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা পড়বে
  • ভাতা মিলবে সর্বোচ্চ ৫ বছর
  • বছরে একবার ‘লাইভ স্ট্যাটাস’ জানানো বাধ্যতামূলক
  • লাইভ স্ট্যাটাস আপডেট না করলে ভাতা বন্ধ হওয়ার কথাও স্পষ্ট করে বলা হয়েছে।

কারা পাবেন বেকার ভাতা: যোগ্যতার শর্ত (Yuva Sathi | Bekar Bhata | How to apply)

আবেদনকারীকে পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। আবেদনকারী বেকার বা কর্মহীন হতে হবে। অন্তত মাধ্যমিক বা সমতুল পরীক্ষায় পাশ করতে হবে। চাকরি পেলে, অন্য স্কিমে ঢুকলে বা অযোগ্য হলে কর্তৃপক্ষকে তা জানানো বাধ্যতামূলক।

কীভাবে আবেদন করবেন ( Yuva Sathi- Bekar Bhata Form)

  • বিধানসভা কেন্দ্রভিত্তিক ক্যাম্প থেকে বিনামূল্যে আবেদনপত্র পাওয়া যাবে
  • যুব দফতরের ওয়েবসাইট থেকেও ফর্ম ডাউনলোড করা যাবে
  • http://wbsportsandyouth.gov.in
  • http://sportsandyouth.wb.gov.in
  • সই করা আবেদনপত্র সংশ্লিষ্ট ক্যাম্পেই জমা দিতে হবে

আবেদনপত্রের সঙ্গে যে নথি লাগবে (Yuva Sathi documents)

  • সাম্প্রতিক পাসপোর্ট সাইজ রঙিন ছবি (সই-সহ)
  • আধার কার্ড
  • মাধ্যমিক/সমতুল পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ড
  • মার্কশিট বা শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট
  • SC/ST/OBC সার্টিফিকেট (যদি প্রযোজ্য হয়)
  • ভোটার কার্ড
  • ব্যাঙ্ক পাসবুকের প্রথম পৃষ্ঠা
  • ক্যানসেলড চেক

বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে—ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট শুধু আবেদনকারীর নামে হতে হবে, জয়েন্ট অ্যাকাউন্ট গ্রহণযোগ্য নয়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *