কলকাতা

সরকারি কর্মীদের হাজিরায় বড় বদল, এবার স্মার্টফোনেই বায়োমেট্রিক উপস্থিতি বাধ্যতামূলক

রাজ্য সরকারের নতুন নির্দেশে সরকারি কর্মীরা এবার অফিস চত্বরের মধ্যে থেকেই স্মার্টফোনের মাধ্যমে বায়োমেট্রিক হাজিরা দিতে পারবেন। জিও-ফেন্সিং প্রযুক্তিভিত্তিক এই ব্যবস্থা ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে সমস্ত সরকারি দপ্তরে চালু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা : রাজ্য সরকার সরকারি চাকুরিজীবীদের উপস্থিতি বা হাজিরা দেওয়ার প্রচলিত পদ্ধতিতে এক আমূল ও যুগান্তকারী পরিবর্তন। সরকারি বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তরে এখন থেকে হাজিরা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এক অত্যাধুনিক বায়োমেট্রিক পদ্ধতি কার্যকর হতে চলেছে। এই নতুন ব্যবস্থার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, এর জন্য পৃথক কোনো বায়োমেট্রিক যন্ত্র বা অতিরিক্ত কোনো হার্ডওয়্যার স্থাপনের প্রয়োজন পড়বে না। নতুন এই নিয়ম অনুযায়ী, সরকারি কর্মীরা অফিস চত্বরের ভেতরে অবস্থান করেই স্বাচ্ছন্দ্যে নিজেদের স্মার্টফোন ব্যবহার করে হাজিরা প্রদান করতে পারবেন।
বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে যে, বিগত কয়েক বছর ধরে একাধিক সরকারি দফতরে বায়োমেট্রিক মেশিন স্থাপনের কার্যক্রম শুরু করা হলেও, যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাব কিংবা কারিগরি ত্রুটির কারণে সেই ব্যবস্থাগুলো অনেক ক্ষেত্রেই সঠিকভাবে কার্যকর হচ্ছিল না। তবে নতুন এই মোবাইল-নির্ভর জিও-ফেন্সিং প্রযুক্তি চালুর ফলে কর্মীরা দপ্তরের নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানার অভ্যন্তরে থাকাকালীন একটি বিশেষ অ্যাপের মাধ্যমে নিজেদের উপস্থিতি নথিভুক্ত করতে পারবেন। এই পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে একদিকে যেমন সরকারের বিপুল পরিমাণ আর্থিক ব্যয় হ্রাস পাবে, অন্যদিকে হাজিরা প্রদানের প্রক্রিয়াটি আরও অধিকতর সহজতর ও জটিলতাহীন হয়ে উঠবে। ইতিমধ্যে এই সংক্রান্ত সমস্ত নির্দেশিকা বা গাইডলাইন প্রতিটি দপ্তরে পাঠিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া দ্রুতগতিতে শুরু হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, সরকারি কর্মচারীদের হাজিরা সংক্রান্ত বিষয়ে এর আগেও নবান্ন অত্যন্ত কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছিল। গত ১৫ জুন থেকে নবান্নে বাধ্যতামূলকভাবে ‘ফেস রিকগনিশন’ বা মুখমণ্ডল শনাক্তকরণ ভিত্তিক বায়োমেট্রিক হাজিরা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল। নির্দেশিকা অনুযায়ী, ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে পর্যায়ক্রমে রাজ্যের সমস্ত সরকারি দপ্তরে এই পদ্ধতিটি কার্যকর করা আবশ্যক বলে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সকাল ১০টা ১৫ মিনিট থেকে ১১টার মধ্যে অফিসে উপস্থিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মীকে ‘বিলম্বিত’ বা ‘লেট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হবে। যদি কেউ সকাল ১১টার পরে অফিসে পৌঁছান, তবে তাকে ‘অনুপস্থিত’ হিসেবে গণ্য করা হবে। একইভাবে, বিকেল ৫টা বেজে ১৫ মিনিটের পূর্বে অফিস ত্যাগ করলে তা ‘অকাল প্রস্থান’ বা ‘আর্লি ডিপার্চার’ হিসেবে বিবেচিত হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *