পশ্চিমবঙ্গ

ভেঙে গেলো বকলমে বিজেপির নেতৃত্বাধীন কামারহাটীর নতুন পৌরবোর্ড, শমীকের কড়া বার্তাই কারণ ?

১৭ দিনের মধ্যেই ভেঙে গেলো সুশান্ত চ্যাটার্জীর নেতৃত্বে তৈরী কামারহাটীর নতুন পৌরবোর্ড, বোর্ড গঠনের পরেই সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন শমীক ভট্টাচার্য্য

নিজস্ব সংবাদদাতা : মাত্র ১৭ দিনের মধ্যেই ভেঙে গেলো সুশান্ত চ্যাটার্জীর নেতৃত্বে সদ্য গড়ে ওঠা কামারহাটীর নতুন পৌরবোর্ড। একুশে জুলাই মঙ্গলবার দুপুরবেলায় নতুন চেয়ারম্যান সুশান্ত চ্যাটার্জি ব্যারাকপুরের মহকুমা শাসকের কাছে নিজের পদত্যাগ পত্র জমা দেন এবং সেই সঙ্গে ই-মেইলের মাধ্যমে কামারহাটী পৌরসভার ১৮ জন পৌর প্রতিনিধিও পৌরসভায় তাদের পদত্যাগ পত্র পাঠিয়ে দেন।
উল্লেখ্য,রাজ্যে পালা বদলের পর থেকেই একের পর এক পৌরসভাগুলোতে পৌরপ্রধান সহ পৌর প্রতিনিধিদের পদত্যাগের হিড়িক পড়ে যায়। ভেঙে যায় তৃণমূলের দখলে থাকা অধিকাংশ পৌরবোর্ডগুলি। সেই তালিকায় ছিলো কামারহাটী পুরসভার তৃণমূল বোর্ডও। অথচ পালা বদলের রাজ্যে তৃণমূলের ভরাডুবির মধ্যেও কামারহাটীতে তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন লাভলী বয় মদন মিত্র। তারপরেও গত ১২ই জুন পৌরপ্রধান এবং কাউন্সিলরের পদ থেকে পদত্যাগ করেন গোপাল সাহা এবং তার সাথে ৮নম্বর ওয়ার্ডের দেবাংশু ঘোষাল এবং ২৭নম্বর ওয়ার্ডের রতন চক্রবর্তীও। এরপরেই গত ৩রা জুলাই বিজেপির মহিলা মোর্চার সভানেত্রী লকেট চ্যাটার্জীর ভাই সুশান্ত চ্যাটার্জিকে এদিনের বোর্ড মিটিংয়ে সর্বসম্মতিতে পৌর প্রধান হিসেবে নির্বাচিত করে বকলমে বিজেপি দখল নেয় কামারহাটী পৌরসভার। পৌরপ্রধান হিসেবে নির্বাচিত হবার পর সুশান্ত চ্যাটার্জি কার্যত স্বীকার করে নেন যে লকেট চ্যাটার্জীর নির্দেশেই পুরো প্রক্রিয়াটা সম্পন্ন হয়েছে,রাজ্যের বিজেপি সরকারের সমস্ত নির্দেশ মেনেই চলবে কামারহাটী পুর বোর্ড। কিন্তু তারপরেই বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য্য পৌরবোর্ড গঠনের বিষয়টি নিয়ে কড়া অবস্থান নেবার পাশাপাশি দলের অনুমোদন ছাড়া এধরনের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে দলীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবার সতর্কবার্তা দেন। সেই পরিপ্রেক্ষিতেই চেয়ারম্যান সুশান্ত চ্যাটার্জী এবং ১৮ জন কাউন্সিলরের পদত্যাগ করলেন বলে মত রাজনৈতিক মহলের। তবে ১৭ দিনের মধ্যেই আবারও পৌরবোর্ড ভেঙে যাওয়ায় প্রশ্ন উঠছে কার্যত অচল হয়ে পড়া কামারহাটি পৌরাঞ্চলের নাগরিকদের পৌর পরিষেবা নিয়ে। কারন বর্ষার মরশুমে রীতিমতো জলের তলায় থাকে কামারহাটীর বিস্তীর্ন এলাকা। আর এই ঘটনার পর বিজেপি উত্তর ২৪ পরগনা জেলা সহ-সভাপতি মৃণাল মুখার্জী জানান, কেন তারা আচমকাই পদত্যাগ করলেন সেটা তারাই বলতে পারবেন।
আর এই বিষয়ে কথা বলবার জন্য পদত্যাগী পৌরপ্রধান সুশান্ত চ্যাটার্জী এবং পৌরসভার এক্সিকিউটিভ অফিসারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা কেউই কিছু বলতে চাননি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *