পশ্চিমবঙ্গ

খোলা ছিল রেলগেট! স্কুলপড়ুয়াদের ভ্যানে ট্রেনের ধাক্কায় মুর্শিদাবাদে মৃত্যু ৪ জনের

গেট খোলা থাকায় স্কুলভ্যানকে সজোরে ধাক্কা নিমতিতা-কাটোয়া লোকালের; একাধিক পড়ুয়া আহত। গেটম্যান অনুপ কর্মকার গ্রেপ্তার, ১০ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করল রেল।

নিজস্ব সংবাদদাতা : বহরমপুরের গোবিন্দপুর রেলগেটে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণ গেল ৪ জনের, আহত একাধিক স্কুলপড়ুয়া। শুক্রবার সকালে মুর্শিদাবাদের কর্ণসুবর্ণ ও গোবিন্দপুর স্টেশনের মাঝে মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। স্থানীয় দাবী, এদিন সকালে ডাউন নিমতিতা-কাটোয়া লোকাল আসছিল। ঠিক তার আগেই হাওড়াগামী আপ নবদ্বীপ এক্সপ্রেস চলে যাওয়ার পর গোবিন্দপুর রেলগেটটি আর বন্ধ করা হয়নি। গেট খোলা অবস্থায় থাকায় স্কুলপড়ুয়া ভর্তি গাড়িটি রেললাইন পার হচ্ছিল। একই সময় একটি সাইকেল আরোহীও রেললাইন পার হওয়ার চেষ্টা করেন। ঠিক সেই মুহূর্তেই তীব্র গতিতে ধেয়ে আসে নিমতিতা-কাটোয়া লোকাল এবং সরাসরি ধাক্কা মারে স্কুলভ্যানটিতে। ট্রেনের ধাক্কায় দুমড়েমুচড়ে যায় স্কুলগাড়িটি। ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। স্থানীয় বাসিন্দারাই প্রথমে উদ্ধারকাজে হাত লাগান। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় বহরমপুর থানার পুলিশ। গুরুতর জখম অবস্থায় আরও চার পড়ুয়া এবং ওই গাড়ির চালককে উদ্ধার করে দ্রুত মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়। গাড়িতে মোট ৭ জন পড়ুয়া ছিল বলে জানা গেছে। আর মর্মান্তিক এই ঘটনার পরেই রেলের ভূমিকা ও ওই রেল গেটের গেটম্যানের ‘দায়িত্বজ্ঞানহীনতা’ “নিয়ে ক্ষোভপ্রকাশ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, গেটম্যানের অসতর্কতাতেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। ওই গেটম্যান বেশিরভাগ সময়েই নেশাগ্রস্ত অবস্থায় থাকেন। তাই নির্দিষ্ট সময়ে লেভেল ক্রসিংয়ের গেট বন্ধ করেননি তিনি।
প্রাথমিক তদন্তের পর রেলের গেটম্যান অনুপ কর্মকারকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ,ধৃত গেটম্যান সর্বক্ষণ নেশা করে কেবিনের ভেতরে প্রায় সংজ্ঞাহীন অবস্থাতেই দিনের পর দিন ডিউটি করছিলেন। নেশার ঘোরে তিনি প্রায়ই লেভেল ক্রসিংয়ের গেট বন্ধ করার পর তা পুনরায় খুলতে ভুলে যেতেন। এই বিষয়ে রেল প্রশাসনের কাছে একাধিক বার অভিযোগ জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি।
মর্মান্তিক এই ঘটনা জানতে পাড়ার পরেই ঘটনাস্থলে ছুটে যান প্রদেশ কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী। রেল আধিকারিকদের দ্রুত ঘটনাস্থলে পাঠানোর জন্য রেলমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করেছেন অধীর। তিনি বলেন, ‘‘আমি রেলমন্ত্রীকে জানিয়েছি যে ঘটনাস্থলে পর্যাপ্ত পুলিশ রয়েছে। বাকি ব্যবস্থা আপনি নিন।’’ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে অশ্বিনীর সঙ্গে তাঁর আলোচনা হয়েছে বলে অধীর জানান। উল্লেখ্য যে, রেলের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করা হয়েছে। রেল জানিয়েছে, মৃতদের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা করে সাহায্য করা হবে। পাশাপাশি, গুরুতর আহতদের জন্য আড়াই লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তার কথা বলা হয়েছে।
অশ্বিনীর সঙ্গে কথা বলার পর বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশ্যে অধীর বলেন, ‘‘আমি রেলমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি আধিকারিকদের পাঠাচ্ছেন। তিনি সব দিক থেকে এই ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করবেন।’’
মুর্শিদাবাদের এই দুর্ঘটনায় রেল ইতিমধ্যেই ১০ সদস্যের একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *