‘ডিম থেরাপির’ বঙ্গে বেনজিরভাবে গ্রেপ্তারির ৬ ঘন্টার মধ্যেই জামিন পেলেন ফিরহাদ ঘনিষ্ঠ প্রাক্তন TMC কাউন্সিলর
পরিবর্তনের আমলে প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর সহ তাঁর শাগরেদদের বিরুদ্ধে থানার দ্বারস্থ হয়েছেন মেটিয়াবুরুজের ব্যবসায়ী। এদিন তাঁর সেই লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পাকড়াও করা হয় শাম্স ইকবালকে। সেই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজি, ভয় দেখানো, অস্ত্র আইনে মামলা রুজু করেন উর্দিধারীরা। তবে বেশিক্ষন শ্রীঘরে থাকতে হয়নি তৃণমূল নেতাকে। ১০০০ টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে জামিন পেয়ে যান তিনি।
৭এ নিউজ: তোলাবাজির অভিযোগে সকালেই গ্রেপ্তার। তবে গ্রেপ্তারির ৬ ঘন্টার মধ্যে জামিন পেয়ে গেলেন সেই তৃণমূল নেতা। একদিকে বঙ্গে যখন একের পর এক তৃণমূল কাউন্সিলর পুলিশের জালে ধরা পড়ছেন তখন বেনজিরভাবে গ্রেপ্তার হওয়ার ৬ ঘন্টার মধ্যেই মাত্র ১০০০ টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে জামিন পেয়ে গেলেন কলকাতা পুরসভার (KMC) প্রাক্তন কাউন্সিলর তথা ফিরহাদ (Firhad Hakim) হাকিম ঘনিষ্ঠ নেতা শাম্স ইকবাল। সূত্রের খবর, এদিন সকালে তোলাবাজি,হুমকি সহ একাধিক অভিযোগে গার্ডেনরিচ থানার পুলিশ গ্রেপ্তার করে ইকবালকে। মূলত মেটিয়াবুরুজের এক বাসিন্দা মহম্মদ শাহাদাবের অভিযোগের ভিত্তিতে এদিন পুলিশের জালে ধরা পড়েন গার্ডেনরিচের এক সময়ের দাপুটে তৃণমূল নেতা। পেশায় ব্যবসায়ী শাহাদাবের দাবি, ২০২৩ সালের জুন মাস থেকে দফায় দফায় তাঁর কাছ থেকে টাকা তোলা শুরু করেন ওই প্রাক্তন কাউন্সিলর এবং তার শাগরেদরা। মোট ৭০ লক্ষ টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ ব্যবসায়ীর।সেই সঙ্গে তোলা না দিলে তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেবার ঘটনাতেও কাঠগড়ায় সেই একদা ‘প্রভাবশালী’ তৃণমূল নেতা। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের আমলে ফিরহাদ ঘনিষ্ঠ নেতার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে পারেননি মহম্মদ শাহাদাব।
উল্লেখ্য এখানেই শেষ নয় ইকবালের বিরুদ্ধে অভিযোগের তালিকা। ২০২৪ সালের মার্চ মাসে গার্ডেনরিচে একটি বহুতল ভেঙে ১৩ জনের মৃত্যু হয়।ঘটনাচক্রে ওই ‘অভিশপ্ত’ বহুতলটি ছিল ইকবালের ওয়ার্ডেই। বহুতল বিপর্যয়ের নেপথ্যে বেআইনি প্রোমোটিং এবং সিন্ডিকেটরাজের অভিযোগ ওঠে। আর সেই বেআইনি নির্মাণ প্রক্রিয়ায় ইকবালেরও নাম জড়ায়। এখন বঙ্গে পালাবদলের আবহ। আর এই পরিবর্তনের আমলে প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর সহ তাঁর শাগরেদদের বিরুদ্ধে থানার দ্বারস্থ হয়েছেন মেটিয়াবুরুজের ব্যবসায়ী। এদিন তাঁর সেই লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পাকড়াও করা হয় শাম্স ইকবালকে। সেই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজি, ভয় দেখানো, অস্ত্র আইনে মামলা রুজু করেন উর্দিধারীরা। তবে বেশিক্ষন শ্রীঘরে থাকতে হয়নি তৃণমূল নেতাকে। ১০০০ টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে জামিন পেয়ে যান তিনি।
তৃণমূল কাউন্সিলরদের গ্রেপ্তারি এবং সাধারণ মানুষের কাছে থেকে তাদের ‘ডিম থেরাপি’ পাবার ঘটনা এখন বঙ্গ রাজনীতির রোজকারের বিষয়। তবে তার মাঝে খানিক বেনজির ভাবেই পুলিশের জালে পাকড়াও হবার ৬ ঘন্টার মধ্যেই জামিন পেলেন গার্ডেনরিচের তৃণমূল নেতা শাম্স ইকবাল, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনীতির অলিন্দে শুরু হয়েছে চাপানউতোর।



