ধর্মান্তরকরণ, লাভ জিহাদ ও ল্যান্ড জিহাদ রুখতে কড়া আইন, বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর
সমগ্র রাজ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বাংলায় কার্যকর করা ছিল বিজেপির একটি অন্যতম নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি। মুখ্যমন্ত্রী বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে জানিয়েছেন যে, সরকারে আসার পর থেকেই সেই নির্দিষ্ট আইনটি কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
নিজস্ব সংবাদদাতা : পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজ্য সরকার ধর্মান্তরকরণ রুখতে অত্যন্ত কঠোর ও কার্যকরী আইন প্রণয়নের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর পাশাপাশি ‘লাভ জিহাদ’ এবং ‘ল্যান্ড জিহাদ’-এর মতো অনৈতিক কার্যকলাপ পুরোপুরি বন্ধ করতে আরও কড়া আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। রবীন্দ্র সদনে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (RSS) একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই বিষয়ে অত্যন্ত স্পষ্ট অবস্থান ব্যক্ত করেন। তিনি দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করেন যে, বাংলার পবিত্র ভূমিতে রাষ্ট্রবিরোধীদের জন্য কোনো জায়গা নেই। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন যে, চৈতন্যদেব, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু এবং শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মতো মহান পুরুষদের এই পুণ্যভূমিতে এ ধরনের কার্যকলাপ চলতে দেওয়া হবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, জমি ও লাভ জিহাদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর আইন আনা হবে। এছাড়া, যারা অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করেছে, তাদের বর্তমানে হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হবে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে তাদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাঁর বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন যে, “ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই আমাদের প্রধান ও প্রথম লক্ষ্য ছিল পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যকে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রাখা। এই উদ্দেশ্য পূরণে আমরা ইতিমধ্যেই সীমান্ত সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় জমি বিএসএফ (BSF)-এর কাছে হস্তান্তর করেছি। বর্তমানে কাঁটাতারের বেড়া বসানো কিংবা সীমান্ত সুরক্ষার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাজের সুবিধার্থে আরও অতিরিক্ত জমি তাঁদের হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়াটি বর্তমানে চলমান রয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তা যেভাবে হুমকির মুখে পড়ছিল, সেই সংকটময় পরিস্থিতি থেকে আমাদের দেশ এবং এই পবিত্র বঙ্গভূমিকে রক্ষা করার সংকল্প থেকেই আমরা এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি।”
অন্যদিকে, সমগ্র রাজ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বাংলায় কার্যকর করা ছিল বিজেপির একটি অন্যতম নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি। মুখ্যমন্ত্রী বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে জানিয়েছেন যে, সরকারে আসার পর থেকেই সেই নির্দিষ্ট আইনটি কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এ দিন জেহাদীদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কড়া ও কঠোর বার্তা প্রদান করে শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari) স্পষ্টভাবে বলেন, “শ্যামাপ্রসাদের এই পবিত্র ভূমিতে কোনো প্রকার রাষ্ট্রবিরোধী কাজ বরদাস্ত করা হবে না। যারা অপারেশন সিঁদুরকে অসম্মান করে, দেশের প্রতি অবমাননাকর আচরণ করে এবং পহেলগাঁও হামলার মতো ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাতে ব্যর্থ হয়, তাদের জন্য বাংলার এই ভূমিতে কোনো স্থান নেই।”
অনুপ্রবেশকারী এবং শরণার্থীদের মধ্যে যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে, তা স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রী এদিন কেন্দ্রীয় সরকারের ‘সিএএ’ (CAA) আইনের প্রসঙ্গটি উত্থাপন করেন। বক্তব্য প্রদানকালে তিনি উল্লেখ করেন যে, “এই বিষয়ে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরিষ্কার হওয়া জরুরি। যাঁরা ধর্ম রক্ষা করার তাগিদে কিংবা নিজেদের পরিচয় টিকিয়ে রাখার উদ্দেশ্যে ওপার দেশ থেকে ভারতে এসেছেন, তাঁদের অনুপ্রবেশকারী হিসেবে গণ্য করা একেবারেই উচিত নয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে প্রণীত সিটিজেনশিপ অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্ট বা সিএএ (CAA)-এর বিধান অনুযায়ী, হিন্দু ধর্মাবলম্বীসহ অন্যান্য ধর্মের যাঁরা ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন, তাঁরা প্রত্যেকেই মূলত শরণার্থী।”
অর্থাৎ, মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, ধর্মীয় নিপীড়ন বা অত্যাচারের শিকার হয়ে যাঁরা ভারতে আশ্রয় গ্রহণ করেছেন, সেই সমস্ত শরণার্থীদের সংশোধনী নাগরিকত্ব আইন বা সিএএ-এর আওতায় নাগরিকত্ব প্রদানের বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে।



