TMC’র দুর্নীতি, মাটির জোগান বন্ধ কুমোরটুলিতে! বন্ধ থাকবে এই বছরের দুর্গাপুজো?
প্রতিমা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় বিশেষ মাটির জোগান না থাকাতেই যারপরনাই চিন্তিত শিল্পীরা। তারা জানাচ্ছেন মহিষাসুরমর্দিনী এবং তাঁর চার সন্তানের মূর্তি গড়তে এক ধরণের শক্ত এঁটেল মাটিই প্রয়োজন। কারণ পুজোমণ্ডপে গিয়ে মাতৃমূর্তির যে অসামান্য রূপ দেখে আমরা মুগ্ধ হই, সেই মনোমুগ্ধকর রূপ ফুটিয়ে তুলতে প্রয়োজন সূক্ষ্ম কারুকার্য।আর এই নিখুঁত ও সূক্ষ্ম কারুকাজ একমাত্র এই বিশেষ ধরণের মাটিতেই সম্ভব। সেই সঙ্গে শুকিয়ে গেলেও এই মাটি ফেটে যাবার প্রবণতা কম আর খড়ের সঙ্গে এই বিশেষ আঠালো মাটি ভালোভাবে লেগে থাকে। তাই মা দূর্গা এবং তার সন্তানসন্ততিদের মূর্তি গড়তে এই মাটির জুড়ি মেলা ভার।
৭এ নিউজ ডেস্ক: প্রয়োজনীয় মাটির অভাবে কি তবে বন্ধ হয়ে যাবে চলতি বছরের দুর্গাপুজো ? কুমোরটুলির শিল্পীরা অন্তত তেমন আশঙ্কাবাণীই শোনালেন ৭এ নিউজকে। ফি বছর এই জুন মাসে কুমোরটুলিতে ব্যস্ততা থাকে তুঙ্গে। কারণ বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব আসতে যে আর খুব বেশি দেরি নেই। তাই এই সময় অন্যান্য বছর খড়ের কাঠামোতে মাটির প্রলেপ দেওয়ার কাজও বেশ খানিকটা এগিয়ে যায়। তবে চলতি বছরের ছবিটা একেবারেই ভিন্ন। ব্যস্ততা নেই শিল্পীদের। প্রতিমা গড়ার এই বিশাল কর্মযজ্ঞে শিল্পী ছাড়াও যে সব কর্মচারীরা নিযুক্ত থাকেন তারাও বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। সবমিলিয়ে শারদোৎসবের আগে নিষ্প্রাণ কুমোরটুলি (Kumartuli)। কিন্ত কেন ? সূত্রের খবর, প্রতিমা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় বিশেষ মাটির জোগান না থাকাতেই যারপরনাই চিন্তিত শিল্পীরা। তারা জানাচ্ছেন মহিষাসুরমর্দিনী এবং তাঁর চার সন্তানের মূর্তি গড়তে এক ধরণের শক্ত এঁটেল মাটিই প্রয়োজন। কারণ পুজোমণ্ডপে গিয়ে মাতৃমূর্তির যে অসামান্য রূপ দেখে আমরা মুগ্ধ হই, সেই মনোমুগ্ধকর রূপ ফুটিয়ে তুলতে প্রয়োজন সূক্ষ্ম কারুকার্য।আর এই নিখুঁত ও সূক্ষ্ম কারুকাজ একমাত্র এই বিশেষ ধরণের মাটিতেই সম্ভব। সেই সঙ্গে শুকিয়ে গেলেও এই মাটি ফেটে যাবার প্রবণতা কম আর খড়ের সঙ্গে এই বিশেষ আঠালো মাটি ভালোভাবে লেগে থাকে। তাই মা দূর্গা এবং তার সন্তানসন্ততিদের মূর্তি গড়তে এই মাটির জুড়ি মেলা ভার। ভৌগোলিক কারণেই এই মাটি পাওয়া যায় ডায়মন্ডহারবার। কারণ সেখানে সমুদ্রের সঙ্গে মিশেছে গঙ্গা নদী। আগে উলুবেড়িয়া থেকে মাটি আসলেও বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে মোহনা থাকায় ডায়মন্ডহারবার থেকেই এই শক্ত এঁটেল মাটি সরবরাহ করা হত কুমোরটুলিতে। তবে বঙ্গে এখন পালাবদলের হাওয়া। আর তাই সেখান থেকে মাটির জোগান বন্ধ হয়ে গিয়েছে। নেপথ্যে সেই পূর্বতন সরকারের নেতাদের করা দুর্নীতির অভিযোগ।বিজেপি নেতৃত্বদের অভিযোগ, নিয়ম ভেঙে বেআইনিভাবে মাটি কেটে সেগুলি বিক্রি করা হত। আর এই মাটি কেলেঙ্কারিতে অভিযোগের তীর স্থানীয় তৃণমূল নেতা এবং তাদের অনুগামীদের দিকেই। বঙ্গে রাজনৈতিক পট পরিবতন হতেই এই মাটি -দুর্নীতিতে কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। তাই ডায়মন্ডহারবার থেকে কুমোরটুলিতে মাটি আসা কার্যত বন্ধ। ইতিমধ্যেই প্রশাসনের কাছে মাটির সঙ্কট প্রসঙ্গে চিঠি দিয়েছেন কুমোরটুলির শিল্পী সংগঠন। খুব শীঘ্রই ৫০ গাড়ি মাটিও সরবরাহের কথাও রয়েছে। তবে হাজার হাজার মূর্তি গড়তে প্রয়োজন আরও মাটি। সঠিকভাবে মাটির জোগান না থাকলে বন্ধ হতে পারে দুর্গাপুজো ! এমন আশংকার কথাই আমাদের প্রতিনিধি শ্যামল পালকে জানিয়েছেন কুমোরটুলির এক শিল্পী গোবিন্দ পাল ওরফে কালু।
সবমিলিয়ে মাটির আকালে চিন্তার ভাঁজ শিল্পীদের কপালে। সঠিক সময়ে কাজ শেষ করা যাবে কি ? বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসবে এবার কোনো ছেদ পড়বে নাতো ? এ হেন একাধিক প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে কুমোরটুলির অলিন্দে।


