পশ্চিমবঙ্গ

দুর্নীতিতে আকণ্ঠ ডুবে পানিহাটী পৌরসভার “ভিকেলস ডিপার্টমেন্ট”

দুর্নীতিতে আকণ্ঠ ডুবে পানিহাটী পৌরসভার "ভিকেলস ডিপার্টমেন্ট", সরকারী গাড়ির বদলে ভাড়ার গাড়ি ব্যবহারের অভিযোগ

নিজস্ব সংবাদদাতা : আবর্জনায় জেরবার পানিহাটীর নগর জীবন, রামচন্দ্রপুরের একটিমাত্র ভাগাড় তো বন্ধই, তার সাথে যুক্ত হলো এই আবর্জনা সাফাই করে যে সমস্ত গাড়ি করে নিয়ে যাওয়া হয়, সেই সমস্ত আবর্জনাবাহী গাড়িগুলিকে নিয়ে চাঞ্চল্যকর দুর্নীতির অভিযোগ। পৌরসভার জঞ্জাল সাফাই বা কনজারভেন্সি বিভাগের কর্মীদের অভিযোগ, বর্তমান বোর্ডের মেম্বার বা কাউন্সিলররা বিপুল দুর্নীতি করে পুরসভার নিজস্ব গাড়িগুলিকে অকেজো করে ফেলে রেখে, কার্যতঃ বিনা টেন্ডারে ক`য়েক জন পৌরপ্রধান পারিষদ সদস্য তাদের পরিবারের লোকজনের নামে বেসরকারী গাড়ি ভাড়া খাটাচ্ছেন পৌর পরিষেবা দেবার জন্য। সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মীদের অভিযোগ, সেই গাড়িগুলি আদৌ কাজ করছে কি না, তাও নাকি জানেন না কেউ, কিন্তু মাসের শেষে ভাড়া বাবদ লাখ লাখ টাকা গুনতে হচ্ছে পুরসভাকে। অথচ সময় মতো বেতন পাচ্ছেন না বিভাগীয় কর্মীরা। এতক্ষন আপনারা যে ছবি দেখছেন , তার সবটাই পুরসভার ভিতরের , যানবাহন বা ভিকেলস ডিপার্টমেন্টের বাইরে সার দিয়ে দাঁড় করানো গাড়ি গুলির , যেগুলি সব সময়ে চোখে পড়ছে পৌর কতৃপক্ষের , এবারে চলুন একটু বাইরে যাই , আগরপাড়ায় পৌরসভার যে নিজস্ব “হেরিটেজ পার্ক ” রয়েছে , সেটি বর্তমানে পরিণত হয়েছে অব্যাবহৃত গাড়ির গ্যারাজে। সেখানেই ফেলে রাখা হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারী প্রকল্পে পাওয়া এই বিশাল গাড়ি দুটি , যেগুলির মধ্যে রয়েছে অত্যাধুনিক কম্প্যাক্ট মেশিন।
পৌরসভার যে গ্যারাজ রয়েছে , তার হেড মেকানিক শৈলেন আদক জানালেন , যে গাড়িগুলি পরে রয়েছে ,সেগুলির অধিকাংশই সামান্য মেরামত করলে ফের রাস্তায় নামতে পারে পরিষেবা দেবার জন্য, কিন্তু কতৃপক্ষের উদাসীনতায় সেটা করা যাচ্ছে না। জঞ্জাল সাফাই বা কনজারভেন্সি বিভাগ নয়, কোপ পড়েছে অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবার মতো জরুরী ক্ষেত্রেও। অনেকগুলি অ্যাম্বুলেন্স দাঁড়িয়ে থাকলেও , স্রেফ উদাসীনতায় এখন পানিহাটির ৫ লক্ষ মানুষকে পরিষেবা দেবার জন্য এই বিভাগের হাতে রয়েছে মাত্র ১ টি অ্যাম্বুলেন্স, জানালেন বিভাগীয় কর্মী বাসব পাল।
আর পানিহাটী পৌর কর্মচারী মজদুর সংগঠনের সম্পাদক স্মরণজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের অভিযোগ, কয়েকজন পৌরপ্রতিনিধির প্রতক্ষ মদতে চলছে এই অব্যবস্থা, তাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেবার দাবীও তোলেন তিনি। সব মিলিয়ে পৌরসভার যে অন্যতম প্রধান কাজ, সেই জঞ্জাল সাফাইয়ের কাজেই যদি এতটা দুর্নীতির অভিযোগ থাকে, জানা নেই অন্যান্য বিভাগেও কি পরিমান দুর্নীতি লুকিয়ে আছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *