আন্তর্জাতিকখেলা

শেষ মুহূর্তের লড়াইয়ে নেদারল্যান্ডসকে আটকাল জাপান, ২-২ ড্রয়ে জমে উঠল গ্রুপ ‘এফ’

খেলার প্রথমার্ধেই উভয় দলই গোল করে এগিয়ে যাওয়ার বেশ কিছু সহজ সুযোগ হাতছাড়া করে। তবে প্রথমার্ধজুড়ে দুই দলই বলের দখল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল। নেদারল্যান্ডস বেশ কিছু সহজ গোল করার সুযোগ মিস করলেও, জাপানের খেলার ধরন দেখে কিছুটা হতাশ হতে হচ্ছিল বারবার।

নিজস্ব সংবাদদাতা : দক্ষিণ কোরিয়ার পর এবার বিশ্বকাপের মঞ্চে বড় ধরনের চমক দেখালো জাপান। ডালাস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের ‘এফ’ গ্রুপের একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দু’বার পিছিয়ে পড়ার পরও দুরন্ত লড়াই করে নেদারল্যান্ডসকে ২-২ গোলের সমতায় আটকে দিল জাপান। ম্যাচের প্রথমার্ধটি ছিল সম্পূর্ণ গোলশূন্য, কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে মাঠের লড়াইয়ের চিত্রটি বেশ জমে ওঠে।
খেলার প্রথমার্ধেই উভয় দলই গোল করে এগিয়ে যাওয়ার বেশ কিছু সহজ সুযোগ হাতছাড়া করে। তবে প্রথমার্ধজুড়ে দুই দলই বলের দখল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল। নেদারল্যান্ডস বেশ কিছু সহজ গোল করার সুযোগ মিস করলেও, জাপানের খেলার ধরন দেখে কিছুটা হতাশ হতে হচ্ছিল বারবার। সাধারণত জাপান মানেই অত্যন্ত আগ্রাসী ফুটবল খেলা, কিন্তু এই ম্যাচে তাদের পারফরম্যান্স ছিল ভিন্ন। প্রথমার্ধের অনেকটা সময় দেখে মনে হচ্ছিল জাপানের খেলোয়াড়দের মধ্যে খেলার তেমন কোনো প্রবল ইচ্ছে নেই, যেন তাদের কোনোভাবে জোর করে মাঠে নামানো হয়েছে।
তবে দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলের খেলার মান ও কৌশল পুরোপুরি বদলে যায়। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের শুরুটা হয় নেদারল্যান্ডসের আক্রমণ দিয়ে, যা মূলত জাপানের রক্ষণভাগের মারাত্মক ভুলের কারণে সম্ভব হয়। ডান দিক থেকে আসা একটি ক্রস যখন ভার্জিল ভ্যান ডাইক হেডে রূপান্তরিত করার চেষ্টা করছিলেন, তখন জাপানের কোনো খেলোয়াড় তাঁকে মার্ক করতে বা বাধা দিতে ব্যর্থ হয়। ফলে কার্যত ফাঁকা অবস্থায় গোল করার সুযোগ পেয়ে যান নেদারল্যান্ডসের অধিনায়ক। এর ঠিক ৬ মিনিট পরেই জাপান অত্যন্ত চটজলদি পালটা প্রত্যাঘাত করতে সক্ষম হয়; তাকেফুসা কুবোর নিখুঁত পাস থেকে গোলটি করেন কিইটো নাকামুরা। এর কয়েক মিনিট পর আবারও এগিয়ে যায় নেদারল্যান্ডস, এবার গোলটি করেন ক্রিসেন্সিয়ো সামারভিল।
এরপর জাপান গোল করার জন্য মরিয়া হয়ে চেষ্টা চালিয়ে গেলেও তারা লক্ষ্যভেদ করতে পারছিল না। তবে ম্যাচের নির্ধারিত সময় শেষ হতে যখন মাত্র দুই মিনিট বাকি, তখনই জাপানের ভাগ্য সহায় হয়। কর্নার থেকে ভেসে আসা একটি বলে মাথা ছুঁইয়ে বল জালে জড়িয়ে দিয়ে গোল করেন ডাইচি কামাডা। এর ফলে নির্ধারিত সময়ের শেষে জাপান ২-২ গোলে ড্র করতে সক্ষম হয়। দুইবার পিছিয়ে পড়ার পরও ডালাসের মাঠে লড়াই করে শেষ পর্যন্ত মূল্যবান এক পয়েন্ট ছিনিয়ে নিলো জাপান।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *