আরও বিপাকে অভিষেক, তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগ,৪ তারিখ ফের অভিষেককে তলব CID-র
প্রায় ৬ ঘণ্টার এই দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ চলাকালীন বারবার তাঁকে একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতে চাওয়া হয়। কিন্তু প্রতিবারই অভিষেক একই ধরণের এড়িয়ে যাওয়ার মনোভাব প্রকাশ করেন এবং ‘আমি জানি না’, ‘তার পক্ষে এই বিষয়ে কিছু বলা সম্ভব নয়’ কিংবা ‘বলতে পারব না’—এই জাতীয় অস্পষ্ট উত্তর দিয়ে এড়িয়ে যান।
নিজস্ব সংবাদদাতা : জাল সই মামলায় বিপাকে অভিষেক ব্যানার্জি, গতকাল দিল্লি থেকে ফিরেই কালীঘাট ছুঁয়ে অভিষেক পারি দিয়েছিলেন ভবানীভবনের উদ্দেশ্যে, মুখোমুখি বসেছিলেন CID আধিকারিকদের। প্রায় ৬ ঘন্টা ধরে টানা জেরার পরে রাত সাড়ে ১১ টা নাগাদ কালীঘাটে মমতা ব্যানার্জির বাসভবনে উদ্দেশে রওনা দেন অভিষেক।
অভিষেককে দীর্ঘ প্রায় ৬ ঘন্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করার পরেও সিআইডি-র তদন্তকারী অফিসাররা তাঁর দেওয়া তথ্যে সন্তুষ্ট হতে পারেননি। মূলত এই তদন্তে অসহযোগিতার কারণেই আগামী ১৪ জুন বেলা ১২টার সময় তাঁকে পুনরায় সিআইডি দপ্তরে হাজিরা দেওয়ার জন্য তলব করা হয়েছে।
তদন্তকারী সূত্রের খবর অনুযায়ী, প্রায় ৬ ঘণ্টার এই দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ চলাকালীন বারবার তাঁকে একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতে চাওয়া হয়। কিন্তু প্রতিবারই অভিষেক একই ধরণের এড়িয়ে যাওয়ার মনোভাব প্রকাশ করেন এবং ‘আমি জানি না’, ‘তার পক্ষে এই বিষয়ে কিছু বলা সম্ভব নয়’ কিংবা ‘বলতে পারব না’—এই জাতীয় অস্পষ্ট উত্তর দিয়ে এড়িয়ে যান। সূত্র মারফত আরও জানা গেছে যে, এই মামলার তদন্ত প্রক্রিয়ার জন্য সিআইডি যে বিশেষ টিম গঠন করেছে, সেই টিমের একাধিক অফিসার অভিষেককে বিভিন্নভাবে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে প্রশ্ন করেছিলেন। কিন্তু অভিষেক তদন্তের কাজে পূর্ণ সহযোগিতা না করে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এড়িয়ে গেছেন, যার ফলে তদন্তকারীরা তাঁর জেরা নিয়ে সন্তুষ্ট হতে পারছেন না।
সিআইডি দপ্তরে উপস্থিত হওয়ার পর প্রথমে ছয় থেকে সাতজন অফিসার তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। এরপর প্রায় ১০ জন উচ্চপদস্থ অধিকারীদের ম্যারাথন জেরার মুখোমুখি হন ‘যুবরাজ ‘। এই পুরো প্রক্রিয়ায় সিআইডির এডিজি সুপ্রতিম সরকার নিজেও উপস্থিত ছিলেন। জানা গিয়েছে যে, জিজ্ঞাসাবাদের সময় অভিষেককে বেশ কিছু অত্যন্ত কঠিন ও জটিল প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়েছে। যেমন— ৬ জুন অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপস্থিত না থাকা সত্ত্বেও বিধায়কদের স্বাক্ষর কীভাবে সেই চিঠিতে অন্তর্ভুক্ত হলো? সেই স্বাক্ষরগুলো আসলে কে বা কারা করেছেন? কেন এই স্বাক্ষর করা হয়েছে? এবং সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, সেই ঘটনার রেজোলিউশন বুকটি বর্তমানে কোথায় রয়েছে? এই সমস্ত সুনির্দিষ্ট প্রশ্নের উত্তর দিতে তিনি ব্যর্থ হন।
ফলস্বরূপ, আগামী ১৪ জুন তাঁকে পুনরায় তলব করা হয়েছে এবং বেলা ১২টার মধ্যে সিআইডি দপ্তরে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জানা গিয়েছে, পুনরায় তলব করার এই অফিসিয়াল চিঠিটি ইতিমধ্যেই সিআইডি তরফে অভিষেকের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।



