মেসির টিমের চিঠি এবার বিধাননগর পুলিশের কাছে, নতুন করে চাপে অরূপ বিশ্বাস
যুবভারতীর মেসি-কাণ্ডে বড় মোড়। বিধাননগর পুলিশের কাছে সরাসরি চিঠি পাঠাল মেসির টিম। বিশৃঙ্খলার দায়ে অরূপ বিশ্বাসের ভূমিকাকে ঘিরে নতুন বিতর্ক, তদন্তে বাড়ছে চাপ।
নিজস্ব সংবাদদাতা : লিওনেল মেসির কলকাতা সফর ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক এবার এক নতুন মোড় নিল। এবার সরাসরি বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের কাছে চিঠি পাঠাল মেসির নিজস্ব টিম। অনুষ্ঠানের মূল আয়োজক শতদ্রু দত্তের দাবি অনুযায়ী, যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ঘটে যাওয়া বিশৃঙ্খলার জন্য প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে দায়ী করা হয়েছে সেই চিঠিতে।
সূত্রের খবর, বুধবার বিধাননগর পুলিশের কাছে মেসির প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে ওই চিঠি পাঠানো হয়। সেখানে অভিযোগ করা হয়েছে যে, অনুষ্ঠানের দিন মাঠের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছিল এবং অনেক অননুমোদিত ব্যক্তিকে ভেতরে ঢোকার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে মাঠে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়, যার কারণে মেসি ও তাঁর দলের সদস্যদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। বলাই বাহুল্য যুবভারতীতে এই বিশৃঙ্খলার জন্য প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকেই দায়ী করেছে মেসির টিম।
মেসির ভারত সফর অনুষ্ঠানের মূল আয়োজক শতদ্রু দত্তের দাবি, তিনি শুরু থেকেই পুলিশ ও প্রশাসনকে সতর্ক করেছিলেন যে, নির্ধারিত সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি ভিআইপি এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মাঠে ঢোকানো হচ্ছে। প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস এবং তার সঙ্গীসাথীরা এমনভাবে মেসিকে ঘিরে ছিল যে টিকিট কেটে মাঠে আসা মেসি-অনুরাগীরা মেসিকে দেখতে অবধি পাচ্ছিলোনা। তাঁর অভিযোগ, চূড়ান্ত ভিড়ের কারণেই মেসি নির্ধারিত কর্মসূচি শেষ করতে পারেননি এবং খুব দ্রুত অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করতে বাধ্য হন।
উল্লেখ্য, গত বছরের ডিসেম্বরে যুবভারতীতে আয়োজিত ‘গোট ইন্ডিয়া ট্যুর’-এর কলকাতা পর্বে ব্যাপক বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়েছিল। হাজার হাজার দর্শক টিকিট কেটেও মেসিকে দেখতে না পেরে ক্ষোভে ফেটে পড়েন। এরপর মাঠের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন ওঠে। এই ঘটনার সূত্র ধরেই সম্প্রতি অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন শতদ্রু দত্ত। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই মামলায় ইতিমধ্যেই একাধিকবার অরূপ বিশ্বাসকে তলব করেছে বিধাননগর পুলিশ। এমনকি তাঁর বিরুদ্ধে প্রতারণা, ভয় দেখানো এবং ষড়যন্ত্রসহ একাধিক ধারায় তদন্ত প্রক্রিয়া চলছে। তবে শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে ৩ বার হাজিরা এড়িয়েছেন প্রভাবশালী এই প্রাক্তন মন্ত্রী।
বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, মেসির টিমের পক্ষ থেকে সরাসরি পুলিশের কাছে চিঠি পৌঁছনো অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়। এতদিন অভিযোগগুলো মূলত আয়োজকদের পক্ষ থেকেই আসছিল, কিন্তু এবার খোদ বিশ্বকাপজয়ী তারকার প্রতিনিধিদের বক্তব্য তদন্তের অংশ হতে চলেছে। এই ঘটনায় অরূপ বিশ্বাসের অস্বস্তি আরও বাড়বে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।



