news

চলছে লক্ষী বাছাইয়ের কাজ, অন্নপূর্ণা ভান্ডার থেকে বাদ প্রায় ৫ লাখ !

, লক্ষীর ভান্ডারের অধীনে থাকা সকল মহিলাই যে অন্নপূর্ণা ভান্ডারের আওতায় চলে আসবেন এমনটা কিন্তু নয়। নবান্ন সূত্রের খবর অনুযায়ী, লক্ষীর ভান্ডারের উপভোক্তা তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে।এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা পর্যন্ত প্রায় ৫ লক্ষ ৫০ হাজার নাম বাদ দেওয়া হয়েছে যারা বহুদিন ধরেই লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্পের আর্থিক সহায়তা পেয়েছেন। 

মৃত্তিকা সেনগুপ্ত : ভোট পূর্ব প্রতিশ্রুতি মতো ক্ষমতায় এসেই রাজ্যের মহিলাদের জন্য অন্নপূর্ণা ভান্ডারের কথা ঘোষণা করেছিলেন রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, পূর্বতন সরকারের ‘লক্ষীর ভান্ডার’ প্রকল্পের দ্বিগুন টাকা মহিলাদের আর্থিক সহায়তা হিসেবে দেওয়া হবে ‘অন্নপূর্ণা ভান্ডারে’র মাধ্যমে। আগামী পয়লা জুন থেকেই কার্যকর হতে চলেছে এই প্রকল্প, আর আজ থেকেই শুরু হতে চলেছে অন্নপূর্ণা ভান্ডারের আবেদনপত্র জমা নেওয়ার কাজ।
তবে, লক্ষীর ভান্ডারের অধীনে থাকা সকল মহিলাই যে অন্নপূর্ণা ভান্ডারের আওতায় চলে আসবেন এমনটা কিন্তু নয়। নবান্ন সূত্রের খবর অনুযায়ী, লক্ষীর ভান্ডারের উপভোক্তা তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে।এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা পর্যন্ত প্রায় ৫ লক্ষ ৫০ হাজার নাম বাদ দেওয়া হয়েছে যারা বহুদিন ধরেই লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্পের আর্থিক সহায়তা পেয়েছেন।
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের অধীনে ৩০০০ টাকা কারা পাবেন, আর কারা এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন – এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে সাধারণ মহিলাদের মধ্যে। রাজ্যসরকার তরফে ইতিমধ্যেই বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানানো হয়েছে, তবুও যেন সংশয় কাটছে না। অনেকের মনে এই ভয় কাজ করছে যে, কোনও কারণে হয়তো তারা মাসিক ভাতা পাওয়া থেকে বাদ পড়ে যাবেন।

জেনে নিন কারা পাবেন না অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ৩০০০ টাকা –
রাজ্যে নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের পরেই ক্যাবিনেট বৈঠকের পরে রাজ্যসরকার তরফে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, SIR পর্বে যে নামগুলি বাদ পড়েছিল, সেগুলি লক্ষীর ভান্ডারের উপভোক্তা তালিকায় থাকলেও নতুন উপভোক্তা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবেনা। সেই হিসেবে, আগের তালিকার প্রায় ১৯% নাম ইতিমধ্যেই বাদ পড়েছে। শুধু তাই নয়, এসআইআর পর্বে যে সকল উপভোক্তার নাম অনুপস্থিত, স্থানান্তরিত, মৃত এবং ডুপ্লিকেট (এএসডিডি) হিসাবে বাদ দেওয়া হয়েছিল, তাদের নাম বর্তমান উপভোক্তা তালিকা থেকেও বাদ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও, তথ্যের অসঙ্গতির কারণে বাদ পড়া উপভোক্তাদের মধ্যে যারা ট্রাইবুনালে পুনর্বিবেচনার জন্য আবেদন করেছিলেন এবং সেখানেও যাদের নাম বাতিল হয়েছে, তাদের নামও তালিকায় থাকবে না। যে সকল আবেদনকারীর নাম এখনও ট্রাইবুনালে বিচারাধীন রয়েছে, তাদের নামও চিহ্নিত করতে বলা হয়েছে। তবে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত এই বিচারাধীন ব্যক্তিরা প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। সেই কারণে, চিহ্নিতকরণ প্রক্রিয়ার সময় সকল আবেদনকারীর নাম, তা মঞ্জুর হোক, না হোক অথবা বিচারাধীন থাকুক, নথিভুক্ত করতে বলা হয়েছে। যাদের নাম এখনও বিচারাধীন রয়েছে তাদের নাম ট্রাইবুনালে বাদ গেলে উপভোক্তা তালিকা থেকেও নাম বাদ যাবেন।
আর্থিক পরিস্থিতির দিকে নজর রাখলে দেখা যাবে, এখনও পর্যন্ত যত শতাংশ নাম বাদ দেওয়া হয়েছে তাতে রাজ্য সরকারের প্রতি মাসে প্রায় ১৬৫ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে, যা বছরে প্রায় ১৯৮২ কোটি টাকা দাঁড়াবে। যদিও যাচাইয়ের কাজ এখনও চলছে, তাই এই সংখ্যা আরও পরিবর্তিত হতে পারে।
তবে রাজ্যের যেকোনো মহিলারাই ‘অন্নপূর্ণা ভান্ডারে’র আওতায় নিজেকে নথিভুক্ত করতে পারবেননা। অর্থদফতর থেকে জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে হলে আবেদনকারীর বয়স অবশ্যই ২৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে হতে হবে।
এছাড়াও, কিছু বিশেষ শর্ত প্রযোজ্য রয়েছে –

  • কোনও মহিলা যদি কেন্দ্র সরকার বা রাজ্য সরকার অথবা কোনও রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থায় স্থায়ীভাবে কর্মরত হন বা পেনশন পেয়ে থাকেন, তাহলে তিনি ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’য় নিজের নাম নথিভুক্ত করতে পারবেন না।
  • রাজ্য সরকার কর্তৃক অনুমোদিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক বা অশিক্ষক কর্মী, পুরসভা এবং পঞ্চায়েতের কর্মীরাও এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন না।
  • লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পের ক্ষেত্রে উপভোক্তাদের আয়ের কোনো নির্দিষ্ট মাপকাঠি না থাকলেও, অন্নপূর্ণা যোজনার অধীনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, যদি কোনো মহিলা উপভোক্তা আয়কর প্রদান করেন, তাহলে তিনি এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন না।
    মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে ,এই প্রকল্পের অধীনে সুবিধাগুলো “আগে এলে আগে পাবেন” এই নীতির ভিত্তিতে বিতরণ করা হবে। এর অর্থ হল, যে সকল ব্যক্তি যত দ্রুত তাদের ফর্ম পূরণ করে জমা দেবেন, তারা তত দ্রুত এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *