দুর্নীতি বিরোধী ছাত্র-যুব আন্দোলনে যুক্ত হলো সাম্প্রদায়িক রং, ‘গুন্ডা দমন আইন’
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মেইন স্ট্রিম মিডিয়ার পক্ষ থেকে এন্টালি এবং হেয়ার স্ট্রিট থানায় ৫টি এবং পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে অবৈধ জমায়েত, সরকারি কাজে বাধা, সরকারী সম্পত্তি নষ্ট ইত্যাদি অভিযোগে ১টি মামলা দায়ের করেছে, আর বিক্ষোভ শেষ হতেই তৎপর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ছুটে যান হাসপাতালে আহত সাংবাদিকদের খবর নিতে আর তারপরেই তাঁর গর্জন, একটি 'বিশেষ বারের' উল্লেখ করে তিনি জানিয়ে দেন ইতিমধ্যেই ৬টি মামলা দায়ের হয়েছে এবং যুক্ত করা হয়েছে 'গুন্ডা দমন আইন'।
৭এ নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে ১ম গুন্ডা দমন আইন প্রয়োগ হতে চলেছে শুক্রবার বামপন্থী ছাত্র সংগঠন এবং ককরোচ পার্টির ( CJP) যৌথ বিক্ষোভ মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে। পাশাপাশি সারা দেশ জুড়ে মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষা বা নিট এর (NEET Scam) প্রশ্ন ফাঁস এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগে, দেশের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবীতে যে অভূতপূর্ব ছাত্র-যুব আন্দোলন চলছে, কলকাতায় সেই আন্দোলনে লাগানো হলো সাম্প্রদায়িক রং।
শুক্রবার বামপন্থী ছাত্র সংগঠন এবং ককরোচ পার্টির যৌথ ভাবে ডাকা বিক্ষোভ কর্মসূচী কলকাতাকে মনে করিয়ে দিচ্ছিলো ২০২৪ সালের ১৪ই আগস্টের রাতের কথা (Reclaim the Night), যেদিন অভয়ার সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবিতে পথে নেমেছিল ‘রং-বেরঙের’ মানুষ। শুক্রবারের সেই জনসমুদ্রের ঢেউ যখন ধর্মতলার ডোরিনা ক্রসিংয়ে আছড়ে পরে, দেখা যায় লাঠি হাতে পুলিশি সক্রিয়তা। যদিও এ ছবিও দেখা যায় আন্দোলনকারীরাও পুলিশকে লক্ষ করে ছুঁড়ে দিচ্ছে জলের বোতল, নিজের পায়ের জুতো। তবে দিল্লীর যন্তর মন্তর থেকেই দেখা যাচ্ছে দেশের তথাকথিত মেইন স্ট্রিম মিডিয়ার প্রতি আন্দোলনকারীদের অনীহা বা তাদের সম্প্রচার করা খবরের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ। আর সেই একই মনোভাব দেখা গেলো কলকাতাতেও। অভিযোগ, আন্দোলনকারীদের ছোঁড়া জলের বোতলের আঘাতে আহত হয়েছেন মেইন স্ট্রিম মিডিয়ার বেশ কয়েক জন সাংবাদিক ও চিত্র সাংবাদিক। পাশাপাশি আন্দোলনকারীদের অভিযোগ বিনা প্ররোচনায় পুলিশের লাঠি চার্জে আহত হয়েছেন মহিলা -পুরুষ নির্বিশেষে প্রচুর আন্দোলনকারী।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মেইন স্ট্রিম মিডিয়ার পক্ষ থেকে এন্টালি এবং হেয়ার স্ট্রিট থানায় ৫টি এবং পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে অবৈধ জমায়েত, সরকারি কাজে বাধা, সরকারী সম্পত্তি নষ্ট ইত্যাদি অভিযোগে ১টি মামলা দায়ের করেছে, আর বিক্ষোভ শেষ হতেই তৎপর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Subhendu Adhikari) ছুটে যান হাসপাতালে আহত সাংবাদিকদের খবর নিতে আর তারপরেই তাঁর গর্জন, একটি ‘বিশেষ বারের’ উল্লেখ করে তিনি জানিয়ে দেন ইতিমধ্যেই ৬টি মামলা দায়ের হয়েছে এবং যুক্ত করা হয়েছে ‘গুন্ডা দমন আইন’। এছাড়াও অপরাধীদের চিহ্নিত করে তাদের নাম জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, আফরোজ, নাহিদ, তনভীর, রাহুল ও জামালদের বিরুদ্ধে ‘তিন পুরুষ মনে রাখার মতো’ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



