তীর্থঙ্করের পর এবার জনরোষে পানিহাটীর এক কাউন্সিলরের ছেলে
এবার "ডিম থেরাপী" পানিহাটী পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের পৌরপিতা স্বপন দাসের পুত্র, বাপ্পা দাস ও শ্যালক কুট্টি মণ্ডল
নিজস্ব সংবাদদাতা : আজকের প্রতিবেদনটা শুরুই করা যাক প্রখ্যাত কথা সাহিত্যিক সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের একটি অমোঘ উচ্চারণ করে “সেই ট্রেডিশন সমানে চলছে”, ওপার বাংলায় ২০২৪’র এপ্রিল মাস থেকে বিরোধী বা ক্ষমতাচ্যুত রাজনৈতিক দলের নেতাদের প্রতি সাধারণ মানুষ ডিম ছুঁড়ে প্রতিবাদ করা শুরু করেছিলেন, যার নাম হয়ে গেছিলো “ডিম থেরাপি ” আর ২০২৬এ এই বাংলায় রাজনৈতিক পালা বদলের পর দেখা যাচ্ছে সেই “ডিম থেরাপির” যথেচ্ছ প্রয়োগ। সে তিনি অভিষেক ব্যানার্জী হন বা তীর্থঙ্কর ঘোষ বা জয়ন্ত দাস, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী হিংসায় জড়িত থাকার অভিযোগে যে সমস্ত তৃণমূল নেতা, হাফ নেতা বা শিকি নেতা গ্রেপ্তার হচ্ছেন, তাদের উপরেই থানা বা আদালতে চলছে “ডিম থেরাপি” , যদিও ইতিমধ্যেই মহামান্য আদালত এই ডিম থেরাপিকে সম্পূর্ণ বন্ধ করার নির্দেশ দিয়ে এই ঘটনার সাথে যুক্তদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেবার নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু ক্ষিপ্ত অত্যাচারিত মানুষজন সেই নির্দেশে কর্ণপাত করছেন, এমন খবর পাওয়া যাচ্ছে না, এদিন তোলাবাজি, প্রাণনাশের হুমকী, জমি দখল সহ একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে খড়দহ থানার পুলিশ গ্রেপ্তার করে পানিহাটী পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের পৌরপিতা স্বপন দাসের পুত্র, এলাকার আধুলি সাইজের তৃণমূল নেতা, এবং স্থানীয় মানুষের কাছে কুখ্যাত দুষ্কৃতী হিসেবে পরিচিত বাপ্পা দাস ও স্বপন দাসের শ্যালক কুট্টি মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করে। এদিন তাদের আদালতে নিয়ে যাবার আগেই প্রচুর এলাকাবাসী ভীড় জমান থানার বাইরে, দেখা যায় ট্রে ট্রে ডিম্ তারা নিয়ে এসেছেন ধৃত ২জনের উপর ডিম থেরাপির জন্য। মীনাক্ষী দত্ত নামের এক মহিলার অভিযোগ, ধৃত বাপ্পা ও কুট্টি এলাকার মানুষের উপর অমানুষিক অত্যাচার করেছে দীর্ঘদিন ধরে, তাই তারা থানায় এসেছেন ঐ দুজনকে ডিম থেরাপী দিতে।
নেতাদের কথায় ও কাজে বিস্তর ফারাক দেখে আমরা অভ্যস্ত , কিন্তু সাধারণ মানুষ কিন্তু কোথায় ও কাজে যে বিন্দুমাত্র ফাঁক রাখেন না তার প্রমান মিললো বাপ্পা ও কুট্টিকে থানা থেকে বার করার সাথে সাথেই শুরু হলো, যাকে বলে ডিম বৃষ্টি।
বাপ্পা ও কুট্টিকে ব্যারাকপুর আদালতে পেশ করা হলে বিচারপতি তাদের ৫ দিনের পুলিশী হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন, এখন দেখার ধৃত ২জনকে এলাকায় রেইকি করবার জন্য নিয়ে আসা হয় কি না ?



