২০১১-২০২৬ ! তৃণমূল আমলের সব দুর্নীতির তদন্ত শুরু, কমিশন গঠন করল শুভেন্দু সরকার
রেশন, নিয়োগ, পুরসভা, পঞ্চায়েত, ত্রাণ, ১০০ দিনের কাজ, মিড-ডে মিল থেকে শিক্ষা ক্ষেত্র— ২০১১ থেকে ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত ওঠা সব প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে বিশেষ তদন্ত কমিশন গঠন করল শুভেন্দু অধিকারী সরকার।

নিজস্ব সংবাদদাতা : নির্বাচনী জয়লাভ করার অব্যবহিত পরেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জনসমক্ষে ঘোষণা করেছিলেন যে, তাঁর সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর বা ‘জ়িরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করতে চলেছে। বিধানসভার অধিবেশনেও তিনি এই বিষয়ে তাঁর অবস্থানের স্পষ্টতা ব্যক্ত করেন। সেই ঘোষিত নীতি অনুসরণ করেই এবার পূর্বতন তৃণমূল সরকারের শাসনকাল অর্থাৎ ২০১১ সাল থেকে ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত সময়কালে যে সমস্ত প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখার উদ্দেশ্যে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার একটি বিশেষ তদন্ত কমিশন গঠন করেছে। এই গঠিত কমিশনের প্রধান বা শীর্ষ পদে দায়িত্ব পালন করবেন কলকাতা হাই কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু।
নবান্নের তরফে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানানো হয়েছে, ২০১১ থেকে ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত অর্থাৎ তৃণমূল সরকার আমলে যাযা দুর্নীতি হয়েছে, তার সবটাই তুলে ধরবে এই কমিশন, হবে তদন্তও। অর্থাৎ পুরসভার দুর্নীতি থেকে শুরু করে রেশন বণ্টন ব্যবস্থা, সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়া, ত্রাণ সহায়তা এবং বিপর্যয় মোকাবিলা সংক্রান্ত বিষয়সমূহ, এমনকি পুরসভা ও পঞ্চায়েত নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন ক্ষেত্র, আবাসন এবং মৎস্য দপ্তরসহ রাজ্য সরকারের অন্তর্গত অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দফতরগুলোর কাজে যে সকল দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, তা এই কমিশনের মাধ্যমে তদন্ত করা হবে।
রাজ্য স্বরাষ্ট্র দপ্তরের নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানানো হয়েছে যে, এই কমিশন ঘুষ গ্রহণ ও দুর্নীতির ঘটনা,অম্ফান থেকে শুরু করে ইয়াস, দানা, রেমাল ইত্যাদি ঘূর্ণিঝড়ের ত্রাণ বণ্টনে অনিয়ম, ১০০ দিনের কাজের ক্ষেত্রে নিয়ম লঙ্ঘন, মিড-ডে মিল প্রকল্পে জালিয়াতি, সরকারি তহবিল আত্মসাৎ বা অর্থের অপব্যবহার, ক্ষমতার অপব্যবহার, সরকারি চাকরিতে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি এবং প্রাথমিক থেকে শুরু করে মাধ্যমিক, উচ্চশিক্ষা, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় স্তরের শিক্ষা ব্যবস্থায় বিদ্যমান দুর্নীতির অভিযোগগুলি নিয়ে তদন্ত পরিচালনা করবে। তদন্ত চলাকালীন দুর্নীতি হয়েছে বলে সন্দেহ হলেই কমিশন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করার ক্ষমতা রাখবে। এছাড়াও, কোনো বেআইনি গ্রেফতার বা ভিত্তিহীন মামলা করা হয়েছে কি না এবং অবৈধ নির্মাণের ক্ষেত্রে সরকারের কোনো ভূমিকা ছিল কি না— সেই বিষয়গুলোও কমিশন গভীরভাবে খতিয়ে দেখবে। রাজ্য সরকারের জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময়কালের মধ্যে যে সমস্ত প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে তা তদন্ত করার পাশাপাশি, দুর্নীতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করা অর্থ কীভাবে পুনরুদ্ধার করা সম্ভব, সে বিষয়েও কমিশন প্রয়োজনীয় প্রস্তাব দিতে পারবে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট করা হয়েছে যে, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি বর্তমানে যে সকল দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত করছে, সেই বিষয়গুলো নিয়ে এই কমিশন হস্তক্ষেপ করতে পারবে না।
এই কমিশনের নেতৃত্ব দেবেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু। কমিশনের তদন্ত বিভাগ পরিচালনার দায়িত্বে থাকবেন একজন প্রবীণ আইপিএস অফিসার এবং প্রশাসনিক বিভাগটি পরিচালনা করবেন একজন আইএএস বা ডব্লিউবিসিএসতাস অফিসার। প্রযুক্তিগত বা টেকনিক্যাল বিষয়ে কমিশনকে সহায়তা করার জন্য পশ্চিমবঙ্গ রেভিনিউ সার্ভিস (ডব্লিউবিআরএস)-এর একজন অফিসার নিযুক্ত থাকবেন। এছাড়া প্রয়োজনবোধে রাজ্য সরকারের পূর্বানুমতি গ্রহণ করে কমিশন আরও অন্যান্য সদস্য নিয়োগ করার ক্ষমতা রাখবে।



