মেজাজ হারালেন মমতা! প্রকাশ্যেই দলের কর্মীকে সপাটে চড়, রাজনৈতিক মহলে তুমুল বিতর্ক
বারুইপুর কাণ্ডের প্রতিবাদ মিছিলের পর কালীঘাটে আহত কর্মীদের হাসপাতালে পাঠাতে গিয়ে বিশৃঙ্খলার মাঝে দলের একাধিক কর্মীকে চড় ও ধাক্কা দেন বলে অভিযোগ। ঘটনাকে ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা।
নিজস্ব সংবাদদাতা : মেজাজ হারিয়ে নিজের দলের কর্মীকেই আচমকা সপাটে চড় মারলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জি। বারুইপুরে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাতে আজ বুধবার আন্দোলন কর্মসূচি পালন করতে রাজপথে নেমেছিলেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই মিছিল চলাকালীন অত্যন্ত উত্তপ্ত ও ধুন্ধুমার পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অভিযোগ উঠেছে যে, বালিগঞ্জ ফাঁড়ি এলাকায় তৃণমূলের এই মিছিলে কোনো প্রকার উসকানি ছাড়াই বিজেপি পক্ষ থেকে হামলা চালানো হয়েছে। মিছিলে আক্রান্ত কর্মীদের দ্রুত চিকিৎসার জন্য কালীঘাটে নিজের বাসভবন থেকে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করার চেষ্টা করতে গিয়ে হঠাৎই মেজাজ হারিয়ে ফেলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
কালীঘাটে নিজের বাড়ির সামনে জমা হওয়া উপচে পড়া ভিড় সামলানোর প্রচেষ্টার সময় তিনি প্রকাশ্যেই দলের একজন কর্মীকে সপাটে চড় মারেন। তবে ঘটনার এখানেই সীমাবদ্ধ ছিল না, ভিড় নিয়ন্ত্রণের সময় তিনি আরও একাধিক ব্যক্তির পিঠে চড় মারেন। আর এই ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গ তথা রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক শোরগোল ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
আজ , বুধবার তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হাইকোর্টের কাছ থেকে আইনি অনুমতি নিয়েই একটি মিছিলের আয়োজন করেছিলেন। এই মিছিলটির অনুমতি ছিল বালিগঞ্জ ফাঁড়ির এলাকা থেকে শুরু করে হাজরা মোড় পর্যন্ত এবং মিছিলটির জন্য আড়াই ঘণ্টার একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। তবে মিছিলটি অগ্রসর হতে শুরু করার কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তপ্ত ও অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। অভিযোগ উঠেছে যে, মিছিলটিকে লক্ষ্য করে বিজেপি সমর্থকরা ‘চোর চোর’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। শুধু স্লোগানই নয়, রাস্তার একপাশ থেকে শাসকদলের প্রতি কটাক্ষ করার উদ্দেশ্যে ‘মাছ চোর’ গান বাজিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি করা হয়।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ অনুযায়ী, পুলিশের উপস্থিতিতেই বিজেপি গুন্ডাদের মাধ্যমে তাঁর দলের নেতা ও কর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে এবং এমনকি মহিলারাও এই হামলার শিকার হয়েছেন। রাজ্যসভার সাংসদ দোলা সেনের ওপর ইট ও ডিম নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া আইটি সেলের কোর কমিটির নেত্রী উপাসনা চৌধুরীকেও মারা হয়েছে বলে অভিযোগ।
আর এই ঘটনার ফলে অনেক তৃণমূল কর্মী অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে তাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করার জন্য তাঁর বাসভবন কালীঘাটে উপস্থিত হলে সেখানেও অনেক কর্মী অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। অসুস্থ কর্মীদের গাড়িতে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় ব্যাপক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সেই বিশৃঙ্খলা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে মাইক হাতে রাস্তায় নেমে আসেন। এই সময়ে উপাসনা চৌধুরীর পাশে ভিড় সামলাতে চেষ্টা করছিলেন সাদা-হলুদ টি-শার্ট পরা এক ব্যক্তিকে দেখা যায়, যাঁকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চড় কষান এবং হাত নেড়ে পিছনের দিকে সরে যেতে নির্দেশ দেন। ভিড় সামাল দেওয়ার জন্য তিনি আরও কয়েকজনের পিঠে চাপড় মারেন। তৃণমূল কংগ্রেসের সূত্র থেকে জানানো হয়েছে যে, ‘দিদি’র হাতে চড় খাওয়া ব্যক্তিরা সকলেই মূলত দলের নিজস্ব কর্মী ছিলেন এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রয়োজনেই তাঁদের এভাবেই ‘শাসন করেছেন দিদি’।



